Lipi Magazine, Weekly Lipi, Poetry Submission

শনিবারের লিপি – দশম সংখ্যা – সপ্তাহিক প্রত্রিকা

লেখক

লিপি

ইতি মাতৃমঙ্গলেষু

শ্যামাপ্রসাদ সরকার

(১)

মন্দিরে আজ পুজোর কাজ শেষ হতে হতে বেশ অনেকটারাত্তির হল। কৃষ্ণপক্ষের দ্বিতীয়া পল আজ। দূরে আদিগঙ্গার ধারে ঘন অরণ্যে ভেসে আসছে মধ্যরাতের সম্মীলিত ভাবে আকুল শিবারব। কখনো বা এরই মধ্যে দু একটি লোলুপ ব্যাঘ্র এদিকে শিকার করতে চলে আসে বলে রাত্রিযামটি আর মোটেও নিরাপদ নয়। এছাড়া তার সাথে লোভী নিম্নবর্গীয় মানুষদের দ্বারা প্রবল দস্যুতার সম্ভাবনাটিও উড়িয়ে দেওয়া যায়না।

এই কালীক্ষেত্রটি বাইরে থেকে যতটা আকর্ষণীয় আবার ভেতরে ভেতরে ঠিক ততোটাই বিপজ্জ্বনকও বটে।

তার মনটা আজ ক্রমশ আরো উতলা হয়ে উঠছে থেকে থেকেই। ভবানীদাস একটু ধীরপায়ে ঘাটের কাছটায় এসে একটু বসল। যশোরের গ্রামজীবনের স্মৃতিগুলো আজকাল মনের মধ্যে বড্ড ঘুরপাক খাচ্ছে। ইহজীবনে আর কি তার পরিবারের কাছে সেই মাতৃভূমিতে ফেরা হবে আত্মপ্রকাশের অধিকারে?

এদিকে তার পিতৃদেব পৃথ্বীধর চক্রবর্তীও যে কোথায় হঠাৎ পরিবার ছেড়ে নিরুদ্দেশ হয়ে গেল !

তাই তো নিরুপায় দেখে নিজেই ছেলে হয়ে ভবানীদাস তার হারিয়ে যাওয়া সেই বাবার খোঁজে গঙ্গাসাগর তীর্থ অবধি খুঁজে বর্তমানে জীবিকার জন্যই নেহাত কালীঘাটে এসে এখন উপস্থিত হয়েছে! নইলে এই জলে জঙ্গলের দেশে এসে কালীমন্দিরের সেবায়েতের কাজটিও তাকে করতে হতনা।

তবে একটাই লাভ এই যে, কালীক্ষেত্রে এসে সে সাধক ভুবনেশ্বর গিরির সাহচর্য্য পেয়ে আর তাঁর স্বভাব গুণে মুগ্ধ হয়ে বড়ই অভিভূত।

এই পিতৃপ্রতীম ও স্নেহপ্রবণ মানুষটার সঙ্গ ছাড়তে মন চায়না বলে তাই এখন ওঁকেই গুরু মেনে এখানে পড়ে থাকা ।

আবার এটাও ঠিক যে উনি ভবানীদাসকে এখানে স্নেহআশ্রয় না দিলে এখন তাকে অযথা ঘুরে ভিক্ষান্নেই জীবনধারণ করতে হত।

(২)

দিল্লীশ্বর আকবরের শাসনের পর একটা চাপা অসন্তোষ আজকাল দেখা যাচ্ছে দেশের আনাচে কানাচে। তাঁর সেই সুবিখ্যাত দীন-ই -ইলাহী ধর্মটি বাহ্যত এখন কেতাবী হয়ে পড়েছে। বরং উল্টোদিকে শক্তিশালী ইসলাম ধর্মের আগ্রাসনই এখন সব জায়গায় এসে পড়ছে। আসলে দেশের শাসক নিরপেক্ষ না হলে তো এটাই তো হয়ে থাকে,সে নিয়ে এখন বৃথা ক্রন্দন করে লাভ নেই।

বংশপরম্পরা অনুযায়ী ভবানীদাস নিজে আদতে ছিলেন কৃষ্ণের উপাসক এক বৈষ্ণব। কিন্তু এখন জীবিকার কারণে বাধ্য হয়েই কালীঘাটে এসে থেকে গেছে বলে আজকাল সে নিজের ইষ্ট দেবতা বিষ্ণুর পাশাপাশি দক্ষিণা কালীরও একজন নিষ্ঠাবান উপাসক হয়ে উঠেছে।

সেই ষোড়শ শতাব্দীর শেষ ভাগ থেকে কালীক্ষেত্র পীঠমালায় কথিত আছে, যে আত্মারাম ব্রহ্মচারী নামে এক দলছুট সন্ন্যাসী ঘুরতে ঘুরতে এই কালীঘাট অঞ্চলে নির্জন বনের মধ্যে পর্ণকুটির তৈরি করে বসবাস করতে শুরু করেন! তিনি একটি বড় কৃষ্ণকায় ত্রিভুজাকৃতি প্রস্তরখণ্ডকে কালীরূপে পুজো করতেন। তিনি এবং তাঁর সতীর্থ ব্রহ্মানন্দ গিরি নামে আর এক সন্ন্যাসী মিলে সংলগ্ন কুণ্ড থেকে একটি ছোট প্রস্তরীভূতখণ্ড খুঁজে পান, যেটিকে তাঁরা পুরাণকথার সতীর দক্ষিণ পদের কনিষ্ঠ অঙ্গুলী বলে দাবি করে ওই দক্ষিণা কালীকা রূপে পুজো করতেন বড় পাথরটির নীচে স্থাপন করে।

তখন থেকেই তো সতীপীঠ হিসেবে কালীঘাটের পরিচিতির সূচনা।আত্মারাম ও ব্রহ্মানন্দের পর থেকে দীর্ঘকাল মূলত তান্ত্রিক সন্ন্যাসীদের হাতেই ছিল কালীঘাটের এই কালীমূর্তির সেবাপুজোর ভার! তাঁরা প্রধানত শৈব গোষ্ঠীর উপাসক হলেও কখনো কখনো তন্ত্র মতে শক্তির উপাসনাও করতেন! ইতিমধ্যে শক্তিপীঠ হিসেবে কালীঘাট যথেষ্ট পরিচিত হয়ে উঠেছে ভারতে! প্রথমে তাদের যশোরের রাজা বসন্ত রায় ও পরে বড়িশার রাজা সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের আনুকুল্যে তৈরি হয়েছে এক পোড়ামাটির মন্দিরও!

যদিও সেই সময়ে অন্যান্য শৈব ও শক্তিপীঠগুলির ন্যায় কালীঘাটেও মন্দিরের সেবাপুজো ও রক্ষণাবেক্ষণের ভার থাকত সেই সংসারত্যাগী সন্ন্যাসীদের হাতেই।

এসমস্ত পূর্বকথিকাই ভবানীদাস তাঁর গুরু ভুবনেশ্বর গিরির কাছে বহুবার শুনেছে। এই মহামায়াস্বরূপা সনাতনীর মুখশ্রীটি সুন্দর হলেও কিসের যেন এক সজ্জ্বার অভাবে তিনি মাতৃকা হয়েও চিন্ময়ী হয়ে এখনো ধরা দেন নি।

অবশ্য কাপালিকদের সৌন্দর্যবোধটাই অন্যরকম। তারা ভীষণা দেবীমূর্তি না হলে সাধনায় মনোনিবেশ করতে পারেনা।

ভবানীদাস স্বভাবে একটু ভাবুকপ্রকৃতির। সে বিশ্বাস করে ভয়ংকরী দেবীমূর্তির মধ্যেও একটা মঙ্গলময়ী দয়ালু রূপ থাকলে তাঁর পূজায় কাম্য আধ্যাত্মিকতায় কোনো কম কিছু পড়েনা। বরং সাধারণের পদপাত সেই তীর্থস্থানটিকে জনপ্রিয় করে তোলে অচিরাৎ।

গত মঙ্গলবার হোমের পর গুরু মায়ের সামনে ওর হাত ধরে বললেন আগামী বৃহস্পতিবার ওঁর আর ভৈরবী যোগমায়া দেব্যার ঔরসজাত কন্যা উমাকে তিনি ভবানীদাসের সাথে বিবাহডোরে বাঁধতে মনস্হ করেছেন। শুনে ভবানী অবাক হয়ে যান।
এ কোন পরীক্ষায় আবার অবতীর্ণ হওয়া?

সে যদিও যশোরে এক বালিকা বধূকে স্ত্রী রূপে আগেই গ্রহণ করেছিল আর সেই নারী আপাতত এখন ষোড়শী ও সন্তানসম্ভবা। আচম্বিতে পিতৃ অনুসন্ধানের পথে বেরিয়ে যাবার সময় তভ যদিও তাদের দুজনের শেষ দেখা হয়েছিল..তাও মন থেকে দ্বিতীয়বার দারগ্রহণের পরিকল্পনাটিতে কূলীনদের শাস্ত্রে নিষিদ্ধ না হলেও সে নিজে মন থেকে সায় পায়না। বিহ্বল চোখে সে গুরু ভুবনেশ্বর গিরির সামনে নির্বাক হয়ে মাথা নত করে দাঁড়িয়ে ছিল কিছুক্ষণ।

ভুবনেশ্বর গিরি প্রবীণ মানুষ। উনি আন্দাজ করেছেন যে সে রাজী নয় এদিকে মাতৃ সকাশে দেওয়া বাক্যটিও আর যে ফেরৎ নেওয়া যায়না ! উনি তখন আশ্বস্ত করে ভবানীকে বলেন –
“যদি তোমার পূর্বতন স্ত্রী সুস্থ বা অসুস্থ হয়েও জীবিত থাকে তাহলে তার ভরণপোষণ করেও আবার দ্বিতীয় বা তৃতীয় পাণিগ্রহণ করাটা মোটেও শাস্ত্রবিরোধী নয়।”

একটু গম্ভীর কন্ঠে তিনি এবার তাকে আর একবার বোঝান উমাকে গ্রহণ করেও ভবানীদাস চাইলে দুটি পরিবারকেই সসম্মানে পালন করলে বল্লাল সেনের প্রচারিত কূলধর্মের কোনো হানি ঘটবেনা।

ভবানীপ্রসাদ বোঝে এ আসলে মহামায়ার এক লীলা !কাজেই আর ওঁকে না বলতে পারেনি সেদিন।

উমাকে দ্বিতীয়া স্ত্রীরৃপে গ্রহণ করতে আর কোনো বাধাই রইলনা। বরং সামনের মাসে যশোরে গিয়ে ওদের এখানে আনলেই তো হবে। সেই অভিমানীনী নারীটি তার আর একটি সপত্নী গ্রহণে প্রথমে একটু অখুশি হয়ে থাকবেই এটা যেন পূর্বজ্ঞাত। তবে উমা তার আপন ব্যবহারে তাকে অগ্রজাতূল্য সম্ভ্রম দেখাতে কুন্ঠিত হবে না সেটাও তার দৃঢ়তার সাথেই তার মনে হয়।

নিশাবসানের আগে সে আর একবার স্নান সেরে বাসুদেবের শালগ্রামটিতে চন্দনসেবা করতে বসে। গোপনে মন্দিরগাত্রে সে লুকিয়ে রাখা শালগ্রামটির গোপীচন্দনের সেবাকর্ম এই নিশাকালের অন্তে সে সেরে নেয়। তারপর না হয় সে শক্তিসাধনার আসন স্পর্শ করবে । স্বয়ং শ্রীধর প্রসন্ন না হলে জগৎ যে আসলে এখনো মিথ্যা লাগে তার কাছে। চুপিসারে প্রদীপ জ্বালিয়ে সে সেবাকর্মটি সারতে থাকে।

কিন্তু একি? রসকলির মত আভাস সেই কষ্টিপাথরের কালীকার নাসিকগ্রে কি করে এল?

জ্ঞানত সে তো এখন নারায়ণকেই অর্চনা করেছে। স্মিত অস্ফূট আলোকে সে দেবীমূর্তির মুখে মৃদু হাসির আভাসটি জ্বাজল্যমান দেখে । রসকলি প্রার্থনা করে দক্ষিণাকালীকা মূর্তিটি যেন তার দিকে চেয়ে সাংকেতিক প্রশ্রয়ে আজ হাসছেন!

অদূরে হঠাৎ শুনতে পায় তার গুরুর পদশব্দ! তাহলে কি সে আজ ধরা পরে গেল তার গোপন ইষ্টভজনার সময়ে?

অবাক কান্ড, স্বয়ং ভুবনেশ্বর গিরি ইঙ্গিতে ভবানীদাসকে চন্দনসেবার কাজটি বন্ধ করতে মানা করেন। তাঁরও দু ‘চোখ এখন অশ্রুসজল হয়ে আছে। তিনি পরমস্নেহে ভবানীদাসকে বলেন –

“এই আদ্যাশক্তি হলেন পরম ব্রহ্মস্বরূপিনী।আর ব্রহ্ম যে কি তা মুখে বলে বোঝানো যায়। হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে হয়।

শক্তির সাকার রূপই আদ্যাশক্তি মহামায়া। এই ব্রহ্মান্ড মায়াদ্বারা আচ্ছাদিত, তাই তো আমরা সবাই মায়াবদ্ধ জীব। আদ্যাশক্তি মহামায়া জীবের সৎ কর্মে প্রসন্ন হয়ে ব্রহ্ম চৈতন্য দান করেন। তখন জীব চৈতন্য শক্তি ফিরে পেয়ে নিজেই ব্রহ্মের স্বরূপটি দর্শন করে। তখন নিজে পরম ব্রহ্মের সাথে লীন হয়ে স্বয়ং ব্রহ্ম হয়ে যান।”

তারপর যন্ত্রচালিত পুতুলের মত এসে সে ওই ভীষণ দিগম্বরা প্রস্তর মূর্তিটির নাসিকাগ্রে একটি রসকলি এঁকে দেয় দেবীমনকে প্রসন্ন করতে।

মহাদেবী যেন সহসা চিন্ময়ীস্বরূপা হয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে হাসতে থাকেন। রসকলিতে তাঁর আনন যেন স্বয়ং রাসময়ী হ্লাদিনীর মত দেখাচ্ছে। কিন্তু গাত্রবর্ণটি তাঁর সেই রাসবিহারীর তূল্য কৃষ্ণকায়। বড়ই অপরূপা আজ সেই ঐশীরূপধারিকাটি একটু সামান্য চন্দনের রসকলির পটভূমিকায়।

ভবানীদাস সে দৃশ্য কিছুক্ষণ দেখে আবেগবিহ্বল হয়ে পড়ে। তারপর গুরুর সাথে সমবেত কন্ঠে সেও নতমস্তকে বলে ওঠে মা কালীর ধ্যান মন্ত্র :-

“ওঁ করালবদনাং ঘোরাং মুক্তকেশীং চতুর্ভুজাম্ ।
কালিকাং দক্ষিণাং দিব্যাং মুন্ডমালাবিভূষিতাম্।।
সদ্যশ্চিন্নশিরঃ খড়গবামাধোর্দ্ধকরাম্বুজাম্ ।
অভয়ং বরদঞ্চৈব দক্ষিণোদ্ধার্ধপাণিকাম্।।
মহামেঘপ্রভাং শ্যামাং তথা চৈব দিগম্বরীম্ ।

কন্ঠাবসক্তমুন্ডালী-গলদ্রুধিরচর্চিতাম্ ।
কর্নাবতংসতানীতশ বযুগ্মভয়ানকাম্ ।।
ঘোরদ্রংষ্টাং করালস্যাং পীণোন্নতপয়োধরাং।
শবনাং করসংঘাতৈঃ কৃতকাঞ্চীং হসন্মখীম্ ।।
সৃক্কদ্বয়গলদ্রক্ত-ধারাবিস্ফুরিতাননাম্ ।।
ঘোররাবাং মহারৌদ্রীং শ্মশ্মানালয় বাসিনীম্ ।

বালার্কমণ্ডলাকা রলোচনত্রিয়ান্মি তাম্ ।।
দস্তুরাং দক্ষিণব্যপিমুক্ তালম্বিকচোচ্চয়া ম্ ।
শবরূপমহাদেবহৃদয়োপরি সংস্থিতাম্ ।।
শিবাভির্ঘোররাবা ভিশ্চতুর্দিক্ষু সমন্বিতাম্ ।
মহাকালেন চ সমং বিপরীতরতাতুরাম ।।
সুখপ্রসন্নবদনাং স্মেরানন সরোরুহাম্ ।
এবং সঞ্চিন্তেয়ৎ কালীং সর্বকাম- সমৃদ্ধিদাম্ ।।”

আজ নিশাকালটি যেন প্রকৃতই প্রলম্বিত। সাধকদ্বয় তাঁদের স্থানকাল বিস্মৃত হয়ে ক্রমশ এক দৈবীমায়ায় আচ্ছন্ন থেকে যান। একটু রূপের সামান্য ব্যতিক্রম যে এক মহাসাধনার সূচনা করে দিয়ে গেল। ইতিহাস জানবে শুধু তার কালাকালে সেই অভয়পদে সঁপিত তদ্গতভাবটির কথা।

আজও যেন গভীর নিশীথে সব কিছু স্তব্ধ হয়ে গেলে শুনতে পাওয়া যায় সাধকদ্বয়ের দ্বৈতকন্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে –

“ওঁ শবারূঢ়াং মহাভীমাং ঘোরদংষ্ট্রাং বরপ্রদাম্।হাস্যযুক্তাং ত্রিনেত্রাঞ্চ কপালকর্ত্তৃকাকরাম্।।মুক্তকেশীং লোলজিহ্বাং পিবন্তীং রুধিরং মুহুঃ।চতুর্ব্বাহু-সমাযুক্তাং বরাভয়করাং স্মরেৎ।”

লিপি

পাওয়ার বিড়ম্বনা

সৌমেন দেবনাথ

একবার পথে পাঁচশত টাকার নোট কুড়িয়ে পেয়েছিলাম। এক বন্ধুকে বলতেই সে বলেছিলো, ‘মিষ্টি খাওয়া’।
মিষ্টি খেতে দিয়েছিলাম। অতি উৎসাহে আরো এক বন্ধুকে বলেছিলাম। সেও বলেছিলো, ‘মিষ্টি খাওয়াবি না’?
খাইয়েছিলাম। মিষ্টি খাওয়া দুই বন্ধু অন্য বন্ধুদের বলে দেওয়াতে তারা সদলে এসে ধরেছিলো। পাওয়া পাঁচশত টাকা তো গিয়েছিলোই, পকেট থেকে আরো দু’শত টাকা গিয়েছিলো। বাড়ি এসে মাকেও বলি, ‘আজ পাঁচশত টাকা পেয়েছি, মা’।
মা বললেন, ‘পাওয়া টাকা নিতে নেই, শনি দেবতার মন্দিরে দিয়ে আসো’।
পড়েছিলাম তো বিপদে? কার মুখ থেকে শুনে পরদিন এক কাকা এসে বললেন, ‘টাকাটা আমার গাঁট থেকে পড়েছিলো, দিয়ে দে, বাবা’।
মাকে গিয়ে বলতেই মা পাঁচশত টাকা দিয়ে দেন। মা ভেবেছিলেন টাকাটা আমি শনি দেবতার মন্দিরেই দিয়েছিলাম।

লিপি

আয়াতের তেলওয়াতে আয়াত

রবীন জাকারিয়া

আমাদের একমাত্র সন্তান৷ আয়াত৷ ভীষণ দুষ্টু৷ চঞ্চল৷ সারাদিন শুধু ছোটাছুটি৷ অভিমানী আর অস্থির৷ এত অস্থির যে ওর Aim in lifeও পরিবর্তন করে ফেলে প্রতিনিয়ত৷ কোন সময় সে ডাক্তার হতে চায়৷ কখনো ইঞ্জিনিয়ার৷ ফিল্মের একশন দেখলে হিরো হবে৷ টিভির খবরে পুলিশের একশন দেখলে বলবে সে পুলিশ অফিসার হবে৷ আমি বললাম তুই আসলে কী হতে চাস? ও বললো পুলিশ অফিসার৷ কেন? জানতে চাইলে বললো সব ক্রিমিনালকে ইচ্ছেমতো মারতে পারবো৷ আমি বললাম ঠিক আছে৷ কিছুদিন পর বললো বাবা “আমি আর্মি অফিসার হবো”৷ জানতে চাইলাম কেন? ও বললো, টিভিতে দেখলাম মায়ানমারে ওরা যেভাবে মানুষ খুন করছে৷ তাই আমি আর্মি অফিসার হয়ে ওদের সাথে যুদ্ধ করবো৷ আমি আবারো বললাম ঠিক আছে৷ কিন্ত যা-ই হতে চাসনা কেন ভাল করে লেখাপড়া করতে হবে৷ ঠিক আছে বলে ও চলে গেল৷ আমরা ওকে কিছুই বলি না৷ ওর সিদ্ধান্ত ও-ই নিক৷ কোন কিছু চাপিয়ে দেয়ার পক্ষে নই৷ শুধু প্রার্থণা করি ও যেই হোকনা কেন প্রথমে আল্লাহ্ যেন ওকে ভাল মানুষ বানায় এবং দীর্ঘজীবি করে৷ কেননা ওই আমাদের স্বপ্নের একমাত্র বাতিঘর৷

আমাদের বিয়ের পর দু’বছর সন্তান নেয়ার চেষ্টা করিনি৷ যদিও লেট ম্যারেজ৷ এরপর কোনভাবেই সন্তান হচ্ছিল না৷ জেলার বড় বড় ডাক্তার দেখালাম৷ পরিক্ষা করলো উভয়ের৷ রিপোর্ট দেখে বললো কোন সমস্যা নেই৷ চিকিৎসা করলে সব ঠিক হয়ে যাবে৷ আশান্বিত হয়ে চিকিৎসা চালাতে থাকলাম৷ তিন বছর হয়ে গেল৷ কিছু হলো না৷

ঢাকায় গেলাম৷ বড় বড় ডাক্তার আর ক্লিনিকে ছুটে বেরালাম৷ জলের মত টাকা খরচ হতে থাকলো৷ একটা সামান্য চাকুরিজীবির জন্য যা কল্পনাতীত৷ ঢাকাতে চার বছর চিকিৎসাতেও ব্যর্থ হলাম৷ যদিও ঢাকায় নতুন করে পরীক্ষা করে জানা গেল সমস্যাটা আমার৷ কিন্ত ইতিমধ্যে আমার স্ত্রী হতাশ হয়ে পড়লো৷ কিছুটা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেললো৷ হতাশা তাকে আত্মহত্যার পথ দেখাতে থাকলো৷ ইতিমধ্যে সে দু-দু’বার আত্মহত্যার চেষ্টা করে ফেললো৷ ভাগ্যিস একান্নবর্তি পরিবার তাই বেঁচে গেছে৷ চাকরির কারনে আমি বাহিরে থাকি৷ সপ্তাহে কিংবা পনেরো দিন পর পর বাড়ি আসতে পারি৷
বাড়ির সকলে রাগারাগি করলো৷ বললো তোর বৌয়ের রিস্ক কে নেবে? তুই বাড়িতে থাকিস না৷ এরমধ্যে যদি কোন অঘটন ঘটে যায়? এর দায় কে নেবে? পুলিশ’ আইন-আদালত সকলেতো আমাদেরকে জেলে ভরাবে৷ তারচেয়ে তুই তোর বৌকে সাথে নিয়ে যা কিংবা শশুর বাড়ি পাঠিয়ে দে৷ কথাগুলো শুনে এবং আমার স্ত্রীর Mental stress এর অবস্থা ভেবে খারাপ লাগলো৷ বুকটা হাহাকার করলো৷ খুব কান্না পেল৷ কিন্ত প্রচন্ড ব্যথায় কখনো কান্না আসে না৷
সিদ্ধান্ত নিলাম ওকে আমার সাথেই নিয়ে যাব৷ কেননা বৌকে বাপের বাড়ি রাখার জন্য বিয়ে করিনি৷ আর যেভাবেই হোক টাকা যোগাড় করে ইন্ডিয়াতে চিকিৎসা করবো৷ সেখানে মেডিকেল সাইন্স অনেক উন্নত৷ বরং এখন আফসোস হচ্ছে দেশে কতিপয় কসাই ডাক্তারের পিছনে সময় নষ্ট ও অর্থ না করে প্রথমেই ইন্ডিয়াতে যাওয়া উচিৎ ছিল৷ কিন্ত এত টাকা পাবো কোথায়? আত্মীয়-স্বজন, কলিগ এমনকি শশুর বাড়ির পক্ষের বিত্তবান বড়ভাই-শ্যালক কারো কাছেই কোন ইতিবাচক সাড়া পেলাম না৷
অবশেষে পৈত্রিকভাবে প্রাপ্ত জমিখানা বিক্রি করে ইন্ডিয়া চলে গেলাম৷ সেখানে তিন বছর চিকিৎসার ফলস্বরুপ আল্লাহ্ অবশেষে আমাদেরকে একটি সন্তান দিলেন৷ সেই হলো আমাদের আদরের ধন৷ আয়াত৷ ওর জন্মটাই আমাদের জীবন পাল্টে দিল৷ বহু বছর বেঁচে থাকার সাধ যোগাল৷ তাই ওর কোন কিছুতেই আমরা বাঁধা দেই না৷ ও হাসলে আমরা হাসি৷ ও কাঁদলে আমরা কাঁদি৷ কেন জানিনা৷
তবে আয়াত লেখাপড়ায় তুখোড়৷ প্রচন্ড মেধাবি৷ ওর বিশেষত্ব হলো৷ যখন যেটা করবে সেটা মনোযোগ আর অধ্যাবসায়ের সাথে করবে৷ তাই স্বাভাবিকভাবেই সে ক্ল্যাশের শুধু নয় ওর স্কুলেরও ট্যালেন্ট শিক্ষার্থি৷ শুধু লেখাপড়ায় নয়৷ স্কুলের ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতাতেও সে বরাবরের ন্যায় সেরাদের সেরা৷ ইতিমধ্যে সে অনেক পুরস্কার অর্জন করেছে৷ আমি ওকে একটা শোকেস কিনে দিয়েছি৷ সেখানে সে তার প্রাপ্ত অর্জনগুলো সাজিয়ে রেখেছে৷ কেউ বেড়াতে আসলে সেগুলো দেখিয়ে সে আনন্দ পায়৷ আমি দোয়া করি ওর এই আনন্দগুলো থাক চির অম্লান৷

ও যে প্রাইভেট স্কুলে পড়ে৷ সারাদেশব্যাপি ওদের শাখা৷ গতমাসে ওর স্কুল কর্তৃপক্ষ দেশব্যাপি অনলাইন ভোটের মাধ্যমে শ্রেণিভিত্তিক কবিতা আবৃর্ত্তির আয়োজন করে৷ আয়াত সেখানে বিশাল ভোটের ব্যাবধানে প্রথম হয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের উম্মুক্ত পর্বের সেরা পাঁচের লড়াইয়ে অবতির্ণ হয়৷ আনন্দের বিষয় হলো চূড়ান্ত পর্বের সেরা পাঁচের লড়াইয়ে সে সেরাদের সেরা অর্থাৎ প্রথম স্থান দখল করে৷ এটা যে কত আনন্দের তা বোঝানো মুশকিল৷
করোনার কারণে এখন লক ডাউন৷ তাই স্কুল বন্ধ৷ বাড়ির বাহিরে যাওয়া নিষেধ৷ চতুর্থ শ্রেণিতে পড়া একটা শিশুর জন্য এর চেয়ে বড় শাস্তি কী হতে পারে৷ তাই সারাদিন মোবাইলে গেম খেলে৷ কম্পিউটারে কার্টুন দেখে৷ টিভি দেখে৷ এভাবে আর কতদিন কাটে? দূরন্ত-চঞ্চল ছেলে এটা মানতে পারে না হয়তো৷
একদিন অফিস থেকে একটু তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরলাম৷ গ্রিলের দরজায় নক করলাম৷ কিন্ত আয়াত গেট খুলতে আসে না৷ বিষয়টা কী? ওতো আমার নক বুঝতে পারে৷ কেননা আমি গেটে পরপর তিনবার টোকা দেই৷ এটা শুনলে ও যেখানে থাক এমনকি গোসলরত থাকলেও সে নেংটু অবস্থায় এসে গেট খুলে আমাকে জড়িয়ে ধরে চুমু দিবে৷ কিন্ত এখনো ওর কোন খবর নেই৷ ওর মা গেট খুলে দিল৷ বললাম বেটা কোথায়? ও বললো খাটের নীচে৷ মানে কী? মানে কিছু নয়৷ তোমার ছেলের Aim in life আবার চেঞ্জ হয়েছে৷ আমাকে কিছু না বলে নিজে গিয়ে দেখ সে এখন কী হতে চায়! ঘরে ঢুকে ওকে ডাকলাম৷ খাটের নীচ থেকে সে বললো বাবা আস্তে কথা বলো৷ নাহলে খরগোশটা পালিয়ে যাবে৷ তখন খাবার সংকটে পড়বো৷ আমি রাগ হয়ে বললাম তুই আগে বের হয়ে আয়৷ তারপর তোর গল্প শুনবো৷ নাহলে শুনবো না৷ কিছুক্ষণ পর ও খাটের নীচ থেকে বেরিয়ে এলো৷ দেখলাম সারা শরীরে ধুলো, মাকড়সার জাল৷ নোংরা আর বিদঘুটে লাগছে৷ কাধে একটা ব্যাকপ্যাক৷ মাথায় ক্যাপ৷ একহাতে একটা ছোট টর্চলাইট অন্যহাতে পর্দা লাগানোর এলুমিনিয়ামের চিকণ পাইপ৷ মুখে একটু কালি লাগানো৷ বললাম বিষয়টা খুলে বল৷ ও যেটা বললো তার সারমর্ম হলো এখন ওর স্বপ্ন হলো বড় হয়ে সে বিয়ার গ্রিল হবে৷ আমি বললাম এটা কি ফাইনাল? একটু ভেবে বললো না বাবা আরো চেঞ্জ হতে পারে৷ আমি হাসতে হাসতে বললাম যা আগে গোসল করে আয়৷ তখন রসিয়ে রসিয়ে তোর কাহিনী শোনা যাবে৷ ও গোসলে গেলে আমি স্ত্রীকে বললাম ছুটির এই সময়টাতে ওকে একজন আরবী শিক্ষক দাও৷ কোরআন শিক্ষা দেয়াটাও আমাদের কর্তব্য৷ তাছাড়া সামনে রমজান আসার পূর্বে ও কোরআন খতম দিতে পারবে৷
ক’দিন এক হুজুর কোরআন তা’লিম দেয়া শুরু করলেন৷ ওর আগ্রহ আর মনোযোগের প্রশংসা করে বললেন৷ ও খুব তাড়াতাড়ি রপ্ত করতে পারবে৷ তাছাড়া ওর তাল-লয় ও সুর খুবই সুন্দর৷ হুজুরের কথাকে সত্যি প্রমাণিত করে ও দ্রুত সময়ের মধ্যেই সাবলীলভাবে কোরআন শরীফের আয়াতে তেলওয়াত শিখে গেল৷ কম সময়ে কোরআন শিক্ষা, হুজুরের প্রশংসা আর সুমধুর আয়াতে তেলওয়াতের কারণে সকলের কাছে ওর সুনাম আর গুরুত্ব বেড়ে গেল৷ কিছুদিন আগে ওকে দেখলে যারা কবিতা আবৃর্ত্তি শুনতে চাইতো৷ তারাই এখন শুনতে চায় আয়াতের তেলওয়াতে আয়াত৷

লিপি

রামধনু

সঞ্জীব সেন

কি কুক্ষণে যে বলতে গেলাম নেকুপুশু কথাটা
আজকালকার মেয়েদের নেকুপুশু বলা যায় না
বাড়িতে যতটা নেকুপুশু বাইরে তারচেয়ে বেশী ডেসপারেট
নিসর্গসুন্দরীর নাতনির সঙ্গে দেখা হলো অনেকদিন পর, ফেরিঘাটে,
আকাশে ভাঙা ভাঙা মেঘ
পশ্চিমের আকাশে বৃষ্টি হচ্ছে
লম্বালম্বি সূর্যের আলো এসে পড়েছে বুকে
ফুটে উঠেছে ব্রার স্ট্রাপ
মনে মনে হাসলাম, একটা সময় বলতাম “পৈতে”
এখন কিন্তু বলা যাবে না,
সে হেসে বলল আপনি কি ভাবছেন আমি জানি,
এটাকে পৈতে না স্ট্রাপ বলে
নিসর্গসুন্দরীর নাতনি বলে কি আমাদের রামধনু হতে নেই।

লিপি

ইটভাঁটা

সুনীতা


সঞ্চিত মাটির পুঁজি
পাহাড় হয়ে আছে
শ্রমিকরা প্রতিদিন কাদামাটি ছেনে, ছাঁচে ফেলে
অপেক্ষমান সারি সারি ছাপ
চুল্লিতে যাওয়ার আগে –


থরে থরে সাজানো কাঁচা আর পোড়া ইট
মাঝে বেশ খানিকটা ফাঁকা জমি
অদূরে চুল্লি, কাঁচা ইট
সব কাঁচা ও পাকা ইটের মাঝে এক চুল্লি আছে
শ্রমিকরা তাতে আগুন দিয়ে যায়।

লিপি

পিতৃঋণ

দেবা

শরীর ছেড়েছ, জগৎ ছেড়েছ,
ছেড়েছ মোহ – মায়া।
রয়েছে তবু, তোমার অংশ,
তোমার সন্তান, তোমারই প্রতিচ্ছায়া।।

প্রাণ জড়ানো হাসি তোমার,
মন জড়ানো প্রেম।
স্মৃতির পাতা ওল্টাতেই দেখি,
ভেসে ওঠে, এক-একটা ফ্রেম।।

গরিব-দুখীর পাশে দাঁড়ানো,
সাহায্যের হাত বাড়ানো।
আজ বড়োই miss করি সেই,
ধমক দেওয়া প্রেম জড়ানো।।

আজ এক বিশেষ দিনের,
তোমাকেই অনুস্মরণের।
চাপুক বোঝা, বাড়ুক আরও,
তোমার প্রতি আমার পিতৃঋণের।।

লিপি

ফেকু প্রেম

নাসিরা খাতুন

বাতাসের মত ফুরফুরে,
মোলায়েম সুগন্ধী মেখে,
ফেকু প্রেম তোমায় ছোঁবে।
হঠাৎ ঝড়ের মত দমকা হাওয়া এসে,
তছনছ করে দিয়ে যাবে,
তোমার সুন্দর হৃদয়কে,
তছনছ করে দেবে,
একটু একটু করে তৈরি হওয়া,
মনের ভিতর তোমার স্বপ্নের ঘরকে,
তছনছ করে দেবে তোমার,
সুন্দর জীবনটাকে।
অবশেষে পরে থাকবে শুধুই তুমি,
আর তোমার ঐ ভাঙা মন।
ঝড়ের গতি যেদিকে বইবে,
ফেকু প্রেম সেইদিকেই উড়ে যাবে।
আবারও ফিরে আসতে পারে এই,
ফেকু প্রেম নতুন কোনো নামে,
নতুন কোনো গন্ধে,
নতুন কোনো ছন্দে,
ঝড়ের ন্যায় সবকিছু তছনছ করে দিতে।।

Share This

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on telegram
Share on email

Editorial Board

  • Reviewed by Gobinda Sarkar (Editor)
  • Designed & Published by Akshay Kumar Roy (Editor)

For More Information, Click Here

For any type of Suggestion, Question, or Help, please contact us at this mail – contact@lipimagazine.com

Follow Us

Related Articles

শনিবারের লিপি – ১৭ তম সংখ্যা – সপ্তাহিক প্রত্রিকা

২০৫০ সালের বইমেলা (গল্প),
আমারে দেব না ভুলিতে,
আমি অবোধ কবি,
আপডেট,

Saturday Lipi | Bangla | May, 4th Week

আনন্দস্বরূপা, টুলিপের বিয়ে, হরিণী সময়সূচী, বিকল্প , ঈবাদাহ্’র ঈবাদাত, ট্রাম্পেটবাদক, ভঙ্গুর, লুকোনো অশ্রু, সহমরণ, ভালোবাসা, করোনা, প্রিয় আম

Saturday Lipi | Bangla | May, 5th Week

আমার সাধ না মিটিল, যাজ্ঞসেনী আর পাঁচজন, যোগসূত্র, সেই জানলাটা আজও বন্ধ, ছয় পুরুষ , তরুণ সন্ন্যাসী, একজোড়া ফুলকপি ও শীতকালীন বনভোজন, মোহনার চরিত্র, কলরব, করি খুশির ঈদ, অহংকারী

ছোটগল্প | Saturday Lipi | Bangla | 1st Week

Post Views: 508 সূচীপত্র ছোটগল্প ইলিশ লিখেছেন – সৈকত সাহা   ‘ও রুপার মা, মাইয়াটাকে আর একখান ইলিশ দিয়া যা, বেটি আমার ইলিশ খেতে বড়

Saturday Lipi | Bangla | April, 2nd Week

নইমুদ্দিন আনসারী | সঞ্জীব সেন | সৈকত চক্রবর্তী | রবীন জাকারিয়া | সৌমেন দেবনাথ | বনমালী নন্দী | ইলিয়াস খাঁ | গোবিন্দ বর্মন | বদরুদ্দোজা শেখু | তীর্থঙ্কর সুমিত | রূপো বর্মন

Responses

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Submission (English & Bangla)

Please read the guidelines – English & Bangla