ভজন-স্যারের-পাজী-ছাত্ররা

ভজন স্যারের পাজী ছাত্ররা

সে অনেক কাল আগের কথা। ভজন ভট্টাচার্য নামে একজন গুণী শিক্ষক ছিলেন। আজ সেই ভজন স্যারের কথা আর তাঁর ছাত্রদের কথা শোনাবো। 

ছাত্ররা তাঁকে যমের মত ভয় পায়। যেমন গুরুগম্ভীর চেহারা আর রাজা-বাদশাদের মত গোঁফ, ভয় না পেয়ে উপায় নেই। বাংলা দ্বিতীয় পত্র বড় যত্ন করে পড়ান আর পরদিন পড়া ধরে ধরে ছাত্রদের দম বের করে দেন। যথারীতি স্যার ক্লাসে এলেন আর মদনকে ধরলেন, এই মদন, স্কুল ড্রেস না পরে রঙিন ঝকমকে ড্রেস পরেছিস কেন? স্কুল কি তোর শ্বশুরবাড়ি? 

মদন বললো, ছি, ছি, স্কুল শ্বশুরবাড়ি হবে কেন? পড়া শেখার জায়গা!

ভজন স্যারের হাতে বেত উঠবে আর স্যার বেত চালাবেন না তা কি হয়? দুই ঘা বসিয়ে দিলেন। তারপর বোর্ডে গিয়ে একটি বাক্য লিখলেন, গরু আকাশে উড়ে যাচ্ছে

বাক্যটি পড়েই ছেলেরা হাসাহাসি শুরু করে দিয়ে একে অপরকে বললো, গরু প্লেনে উঠেছে নাকি?

মদনকে স্যার পড়া ধরলেন, বল্, এই বাক্যে কিসের অভাব?

মদন বললো, স্যার, একটি দাঁড়ির অভাব।

স্যার মদনের দিকে কটমট চোখে তাকিয়ে পরক্ষণে বোর্ডের দিকে তাকালেন। তারপর বাক্যটির শেষে একটি দাঁড়ি দিয়ে বললেন, এবার বল্, এই বাক্যে কিসের অভাব?

মদন বললো, স্যার, একটা ‘ড়’ এর অভাব।

স্যারের চোখ চড়ক গাছ। বললেন, কি বললি? পড়াশোনা কি করছিস? 

মদন বললো, গরু এর পর ‘ড়’ দিলে হয় গরুড়। আর গরুড় হলো পাখি। নারায়ণের বাহন। পাখি তো আকাশেই উড়ে।

ভজন স্যার চমকে গেলেন। তারপর আবারও তাকে দুই ঘা মেরে বললেন, ওরে যোগ্যতার অভাব।

মদন না বুঝতে পেরে বললেন, না স্যার, গরুর তো আকাশে উড়ার যোগ্যতা নেই। 

প্যাকলে মদনের দিকে চেয়ে বললো, অবশ্যই গরুর যোগ্যতা আছে। নতুবা গরু প্লেনে উড়বে কি করে? গরু প্লেনে চড়ছে বলেই- গরু আকাশে উড়ে যাচ্ছে। 

স্যার কটমট চোখে প্যাকলের দিকে তাকালেন। তা দেখে টোটন বললো, স্যার, মনে হয় প্যাকলে ভুল বলেনি। অবশ্যই গরু প্লেনে উড়তে পারছে। কারণ গরু-ছাগলেরই এখন টাকা বেশি।

স্যার এবার আর না রেগে স্থির হলেন। কাউকে মারলেন  না। বুঝিয়ে বলে দিলেন, বাক্যের গুণ তিনটি। আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, যোগ্যতা। বাক্যটিতে এই যোগ্যতার অভাব।

পিছন থেকে গজা উঠে বললো, স্যার, আপনি তো আমাদের বাপ-দাদা চৌদ্দগোষ্ঠীকে পড়াচ্ছেন। আপনার তো অনেক যোগ্যতা। তা আপনি আকাশে উড়েন না কেন?

ভজন স্যার তাকে না মেরে স্বস্তি পেলেন না। দু ঘা মেরে বললেন, চুপ করে বসে থাক্। ঠিকঠাক করে পড়ে আসবি।

ভজন স্যার এবার প্যাকলেকে পড়া ধরলেন, প্যাকলে বল্ তো, ‘গল্পের গরু গাছে উঠে ‘ এ বাক্যের ভাবার্থ কি?

প্যাকলে কিছুক্ষণ ভেবে নিয়ে বললো, এমন বাক্য বাপের জন্মে শুনিনি। এমন আজগুবি বাক্য কোথা থেকে পান? না, আমাদের ভুল শেখাচ্ছেন? আপনি আমাদের স্যার, তাই বলে উল্টা-পাল্টা পড়ালে মানবো না!

একথা শোনামাত্রই ভজন স্যার প্যাকলেকে দুই ঘা মেরে বসলেন। প্যাকলে মার খেয়ে বললো, গরু গাছে উঠে কি করে? আজ শেখাবেন গরু গাছে উঠে, কাল শেখাবেন ছাগল একটি পাখি। আমরা কি বেবোধ? বুঝি না?

ভজন স্যার তদক্ষেপা রেগে বললেন, আমি কি বলেছি ‘গরু গাছে উঠে’! বলেছি, ‘গল্পের গরু গাছে উঠে’।

প্যাকলে চমকে উঠে বললো, ‘গল্পের গরু গাছে উঠে’! ও গল্প কি কারো নাম? যেমন- রচনা, প্রত্যয়, অক্ষর… 

বলতে শেষ না তো দুই ঘা বেত্রাঘাত খাওয়া শেষ প্যাকলের। প্যাকলে এবার বললো, স্যার, গল্প কি রূপকথার চরিত্র? গল্প যদি রূপকথার চরিত্র হয় তবে তার গরু গাছে উঠতেই পারে।

ভজন স্যার আরো দুই ঘা মেরে বললেন, ‘গল্পের গরু গাছে উঠে’ মানে কল্পনায় সব সম্ভব। বস্।

ভজন স্যার আবার বললেন বল্, ‘কাজীর গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই’ এর মানে কি?

টোটন আশ্চর্য হয়ে বললো, গরু কেতাবে থাকে কি করে? উঁইপোকা, ছারপোকা না হয় কেতাবে থাকে, তাই বলে অত্ত বড় গরু? গরু গোয়ালেই থাকবে। আপনি ভুল নতুবা যে বইয়ে এ বাক্য আছে সেই বই ভুল।

টোটনের পিঠে বেত্রাঘাত বসে গেলো। স্যার গজাকে পড়া ধরলেন, বল্, ‘গরু মেরে জুতা দান’ মানে কি?

গজার চোখ চড়ক গাছ। আশ্চর্য হয়ে বললো, জীবনে এই প্রথম শুনলাম জুতাও দান করা যায়! বয়স বাড়ার সাথে সাথে আপনার মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। প্যাকলে ঠিকই বলেছে, এমন সব আজগুবি কথা কোথা থেকে পান?

গজাকেও দুই বার বেত্রাঘাত মেরে গেদুকে বললেন, তুই বল্, ‘জুতা মেরে গরু দান’ মানে কি?

গেদু একচোট হেসে নিলো একথা শুনে। তারপর বললো, এতক্ষণ জুতা দান, এবার গরু দান। স্যার, আপনার কি মাথা গেছে?

স্যার ওকেও দুই ঘা মেরে পঁচাকে বললেন, বল্, ‘গরু খোঁজা’ মানে কি?

পঁচা বললো, ‘গরু খোঁজা’ মানে আবার কি হবে? গরু খোঁজা মানে গরু খোঁজা! ছাগল খোঁজা মানে ছাগল খোঁজা, মুরগি খোঁজা মানে মুরগি খোঁজা, ভেড়া খোঁজা মানে…

কথাটি বলতে দিলেন না ভজন স্যার, তার আগে চার ঘা। আর গোঙাতে গোঙাতে বললেন, এই সব দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো।

পঁচা বললো, আমরা দুষ্ট গরু স্যার? তবে তো ক্লাস রুমটা গোয়াল ঘর! আর আপনি রাখাল!

ভজন স্যার পঁচাকে এক ঘা মেরে দ্বিতীয় ঘা মারতে উদ্যত হলেই মদন দাঁড়ায়ে বললো, আজ ক্লাসে এসে আপনি গরু নিয়েই আছেন। কেন? গরু কি পড়ার বিষয় হতে পারে? গরু একটি নিরীহ প্রাণী। আর আপনি গরুকে নিয়ে যত আজগুবি কথা বের করছেন!

ভজন স্যার মদনকে মারার জন্য দৌঁড়ে এলে মদন ক্লাস ছেড়ে দৌঁড় মারলো আর বললো, সব তো পারেন, আমাকে ধরেন তো দেখি…

মদন বাড়ি গেলো। ভজন স্যার মেরে তার শরীরে দড়িদড়ি দাগ করে দেছেন। বাবার সাথে শলাপরামর্শ করছে, বাবা, ভজন স্যার দেখো তোমার ছেলেকে মেরে কি করেছেন?

ভজন স্যারের নাম শুনেই মদনের বাবা হরগঙ্গা তো থ। বললেন, ওরে উনি এবার তোকে ধরেছেন? উনি তো আমারও স্যার। পিটিয়ে পিটিয়ে আমার পিঠ তো তক্তা করে দিয়েছিলেন। তাই তো পড়ালেখা ছেড়ে বিয়ে করেছিলাম। 

মদন বললো, এবার আমাকে যেভাবে পিটাচ্ছেন, না জানি কবে পড়া ছেড়ে আমাকেও বিয়ে করতে হয়! বাবা, চলো দুই জন মিলে ভজন স্যারকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করি।

হরগঙ্গা বললেন, ভজন স্যারের নাম শুনলে আমার দাঁত নড়ে। যাসনে স্যারের সাথে লড়তে।

মদন বললো, না বাবা, আজ একটি বুদ্ধি দাও, স্যারকে শায়েস্তা করার বুদ্ধি। স্যার আজ ক্লাসে গরু নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। গরু নিয়ে কিছু বলো, গরু দিয়েই স্যারকে শায়েস্তা করবো।

হরগঙ্গা বললেন, তুই কি স্যারের পায়ে গরুর রশি বেঁধে দেয়ার পরিকল্পনা করতে চাচ্ছিস? খবরদার, এসব দুষ্টমি করতে যাসনে।

মদন বললো, না বাবা, ওমনটা করবো কেন? স্যার তো অনেক মেধাবী আর বুদ্ধিমান! স্যারকে বুদ্ধি দিয়ে সোজা করতে হবে। যেহেতু গরু নিয়ে উনি মেতেছেন। গরুসংক্রান্ত কিছু টিপস্ দাও, যেন স্যারকে জব্দ করতে পারি।

হরগঙ্গা বললেন, স্যার যেহেতু বাংলা দ্বিতীয় পত্র পড়ান, স্যারকে কৃষিশিক্ষা থেকে প্রশ্ন করবি। যেমন, বলবি, ‘গরুর মুখে দুধ’ মানে কি? স্যার কাবু হবেন উত্তর না দিতে পেরে।

মদন বাবার একথা শুনে খুশি হয়ে বললো, বাহ্ দারুণ, কালকে স্যারের ঘাম ছুটিয়ে দেবো।

পরের দিন সবাই স্কুলে এলো। আর যথারীতি বাংলা দ্বিতীয় পত্রের ভজন স্যার ক্লাসে এলেন। গজাকে পড়া ধরলেন, বল্, ননীগোপাল আটকপালে- এখানে আটকপালে মানে কি?

গজার দ্রুত উত্তর, স্যার, মানুষ আবার আটকপালে হয় কি করে? ননী দাদুর তো একটা কপাল!

স্যার দুই ঘা মেরে বললেন, মন্দভাগ্য। 

গজা মার খেলো আর বললো, এভাবে মার খাওয়া তো মন্দভাগ্যই। তা স্যার আটকপালে মানে কি?

স্যার আবার দুই ঘা মেরে বললেন, কানের মধ্যে কি তেলাপোকা গেছে?

গজা কানে হাত দিয়ে বললো, কাল স্নানের সময় কানে জল গিয়েছিলো। তেলাপোকা না, গেলে তেলাপিয়া যেতে পারে।

স্যার আবার দুই ঘা মারলেন। মেরে বোর্ডের দিকে তাকালেন। বোর্ডে লেখা আছে, ‘শিশুদের বেত্রাঘাত করা গুরুতর অন্যায়’।

স্যার ছাত্রদের দিকে তাকালেন, কে লিখেছে একথা?

সবাই চুপ। স্যার বললেন, মদন, এতো তোরই হাতের লেখা।

মদন চুপ করে থাকলো। মদনের প্রতি স্যারের গতদিনের একটা রাগ আছে। স্যার বললেন, বল্, যে বাক্যটি লিখেছিস এটি কি বাক্য?

মদন বললো, উপযুক্ত বাক্য।

স্যার কটমট করে তাকিয়ে বললেন, কি বললি? ঠিক করে বল্।

মদন মার খাওয়ার হাত থেকে বাঁচার জন্য বললো, এটি একটি ভুল বাক্য।

স্যার এবার না মেরে পারলেন না। মেরে বললেন, এটি একটি সরল বাক্য।

পাশ থেকে গুণগুণ করে প্যাকলে বললো, কিসের সরল বাক্য? এটি একটি সঠিক বাক্য।

স্যার তা শুনতে পেয়েছেন। প্যাকলেকে দুই ঘা মেরে বললেন, পড়াশোনা কতদিন হলো বাদ দিয়েছিস? বল্ বেত্রাঘাত কি শব্দ?

প্যাকলে চোখ মুছতে মুছতে বললো, বেত্রাঘাত স্বাস্থ্যহানীকর অশুভ শব্দ।

স্যার বাঘের মত গর্জিয়ে বললেন, কি বললি?

প্যাকলে ভড়কে গিয়ে বললো, স্যার, বেত্রাঘাত শুভ শব্দ।

স্যার আরো দুই ঘা মেরে বললেন, তোদের বাপদের আমি মানুষ করেছি। আর তোরা তো বাচ্চা। 

স্যার আজ খুব রেগে আছেন দেখে এবং গরু বিষয়ে কথা না উঠাতে মদন বাবার শেখানো বুদ্ধি প্রয়োগ করে স্যারকে শায়েস্তা করতে পারলো না। ভজন স্যার হঠাৎ বললেন, তোরা কি আমাকে ভয় পাস? আমাকে ভয় পেলে তোরা পড়া শিখবি কি করে? বল্, তোদের মনের কথা শুনবো আজ। কে কি জানতে চাস্, বল্।

প্রথমে প্যাকলে বললো, স্যার, ভূতপূর্ব হয়, প্রেতপূর্ব হয় না কেন? ভূতাপেক্ষা হয়, প্রেতাপেক্ষা হয় না কেন?

স্যার রেগে গিয়ে বললেন, এটি কি প্রশ্ন হলো? বস্।

টোটন বললো, স্যার, ভীতু পুরুষকে আমরা কাপুরুষ বলি, ভীতু মহিলাকে আমরা কামহিলা বলি না কেন?

স্যার আরো রেগে গেলেন, বললেন, গঠনমূলক কিছু জানতে চাস্ না কেন? এসব কি কোনো প্রশ্ন নাকি? তোরা হচ্ছিস এক একটা বিশ্ববদ। তোদের সুযোগ দেয়ায় ঠিক না।

তখন গেদু উঠে বললো, আচ্ছা স্যার, গঠনমূলক কিছুই জানতে চাচ্ছি। ডাব বতী হলে নারকেল বলি, আম বতী হলে আমই বলি কেন?

স্যার বেতটা হাতে উঠিয়ে চশমার উপর দিয়ে চেয়ে বললেন, এটা গঠনমূলক জানতে চাওয়া? তোরা পাকামো করছিস। আমি ঘ শুনলে ঘোড়া মারা পর্যন্ত বুঝে ফেলি।

মদন দাঁড়িয়ে বললো, স্যার, আমি ঘ শুনলে ঘোড়ার ডিম বুঝি। 

স্যার এবার রেগে গেলেন। গতকালের রাগ ছিলোই। মদনের কাছে এলেন আর বললেন, আমি পালং শাকের জলে পালং শাক রান্না করা লোক। তুই আমাকে ভূগোল বুঝাচ্ছিস? মুখে মুখে কথা বলিস, ষাড়কে যতই খেতে দেয়া হোক না কেনো সে একটুও দুধ দেবে না। তোদের যতই জ্ঞান দিই না কেন, একটুও সম্মান দিবি না। 

এই বলে মদনকে স্যার দুইটা বেতের বাড়ি দিলেন। মদনের চোখে জল চলে এলো। তা দেখে স্যারের মনটা আজ গলে গেলো। বললেন, তোরা হয়ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বীরপুরুষ কবিতা পড়িসনি। একটা ছেলে মায়ের জন্য কত কি করে! তোরা কি করলি? হয়েছিস এক একটা খাটাশ। আজ তোদের বীরপুরুষ কবিতাটি পাঠ করে শোনাবো। তার আগে বল্ তো দেখি বীরপুরুষ কে?

গজা বললো, স্যার, বীরপুরুষ? মেয়েকে বিয়ে করতে না পেরে মেয়ের মাকেই বিয়ে করে যে সেই বীরপুরুষ। 

স্যার গজাকে দুই ঘা মেরে বললেন, বয়স কত হলো? এখনই মাথায় বিয়ের চিন্তা? পঁচা, তুই বল্, বীরপুরুষ কে?

পঁচা অনেকক্ষণ ভেবে বললো, যে ব্যক্তি তিন থেকে চারটি বিয়ে করেও দিব্যি সুখে সংসার করছে সেই বীরপুরুষ। 

স্যার কোনো কথা না বলে পঁচাকে চোখ বুঝে শরীরের জোরে দুই ঘা মেরে বললেন, আবার সেই বিয়ের কথা? কোনো মেয়ের সাথে কথা বলবি তো পা ভেঙে দেবো। মদন বল্, বীরপুরুষ কে?

মদন কি বলবে ভেবে পেলো না। হঠাৎ বলেই ফেললো, স্যার, যে ব্যক্তি বিয়ে করে ঘর-জামাই থেকেও বৌকে বেদম প্রহার করতে পারে সেই প্রকৃত বীরপুরুষ। 

ভজন স্যার আফসোস করে বললেন, বুঝেছি, তোদের মাথা থেকে বিয়ের ব্যামো যাবে না। তোরা সব এক একটা বিয়ে পাগল। বিয়ে পাগল বিয়ের পর বৌ পাগল হয়ে যায়। আর বৌ পাগলেদের বৌরা ইচ্ছেমত বাদর নাচ নাচায়।

মদন বললো, স্যার, বিয়ে পাগল আর বৌ পাগল ব্যতীত আর কোনো পাগল ভালো না। এই জন্য আমরা পড়া পাগল বা কাজ পাগল হতে চাই না।

ভজন স্যার এবার মারতে যেয়েও না মেরে বুঝিয়ে বললেন, এই জ্ঞানে যা বুঝিস তাই বললি। পড়া পাগলরাই আসল পাগল। কাজ পাগলরাই সফলকামী হয়। আমার কথা তোদের ভালো লাগবে না। দাঁত থাকতে দাঁতের  মর্যাদা কেউ কোনো দিন বোঝে না।

মদন সুর টেনে বললো, জ্যি স্যার, কিডনি থাকতে কিডনির মর্যাদা কেউ বোঝে না।

স্যার চোখ কটমট করে তাকালেন। আর ভাবলেন, এ যুগের ছোট্ট ছোট্ট শিশুগুলি অকালপক্ব হয়ে গেছে। জুতসই প্রহার না চালিয়ে গেলে ঠিক হবে না।

স্যার চলে গেলেন। ছাত্ররা গোল হয়ে বসলো। মদন বললো, এভাবে কি স্যারের কাছে চৌদ্দগোষ্ঠী মার খেতে খেতে মরবো?

গজা বললো, স্যারকে একটা শিক্ষা না দিলে হবে না, তিনি শিক্ষা দিতে দিতে ভুলে গেছেন শিক্ষা তাঁরও দরকার।

প্যাকলে বললো, প্রথমে বেত চুরি করতে হবে, তারপর তাঁর চশমা চুরি করতে হবে।

মদন বললো, ওরে ওমন বেত আর চশমা ক্রয় করা তাঁর কাছে কিছু না। অন্য কোনো বুদ্ধি বের কর্। মুখ বুঝে মার খাওয়ার দিন শেষ। 

মদনরা কোনো বুদ্ধি বের করতে পারলো না। মদন বাড়ি এসে বাবাকে বললো, ভজন স্যার মেরে মেরে শেষ করে দিলেন। তাঁর ভয়ে তো স্কুলে যাওয়া বন্ধ করতে হবে।

হরগঙ্গা বললেন, দিন রাত পড়বি। পড়া পারলে তোকে আর মারবেন না।

মদন বললো, দুনিয়ার আজগুবি প্রশ্ন ধরেন। বাবা, স্যারকে সোজা করা যায় কিভাবে বলো তো! নতুন নতুন পরিকল্পনা ছাড়া স্যারের হাত থেকে বাঁচা যাবে না।

হরগঙ্গা বললেন, স্যার প্রশ্ন করার আগেই তুই প্রশ্ন করবি৷ কঠিন কঠিন প্রশ্ন। স্যার জবাব দিতে দিতে ঘণ্টা পড়বে, আর উত্তর না দিতে পারলে ধরা খাবেন।

পরদিন সবাই স্কুলে গেলো। স্যার পড়া ধরার আগেই মদন প্রশ্ন করলো, স্যার, ঢাল নেই তলোয়ার নেই, নিধিরাম সর্দার- এখানে নিধিরাম কে ছিলেন বলেন তো?

স্যার ভ্রূ কুঁচকে থাকলেন কিছুক্ষণ। তারপর বললেন, বাসা থেকে পড়ে এসে জানাবো।

মদন অন্য প্রশ্ন করলো, উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে- এই উদো এবং বুধো কি দুই ভাই ছিলেন? এদের জীবন কাহিনি শুনতে চাই।

স্যার চিবুকে হাত দিয়ে ভেবে ভেবে বললেন, পড়ে এসে কালকে জানাবো।

স্যার এবার মদনকে পড়া ধরলেন, বল্, কান পাতলা মানে কি?

মদন কিছুক্ষণ ভাবলো, তারপর বললো, পড়ে এসে কালকে জানাবো। 

স্যার চোখ আগুন করে বললেন, কি বললি?

মদনকে মারার জন্য স্যার উদ্যত হলে পঁচা বললো, স্যার তুঘলকি কাণ্ড তো জানি। তুঘলকি কাণ্ড সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে চাই।

স্যার আবারো বিব্রত হলেন আর বললেন, আমি কি ইতিহাসের স্যার? ইতিহাসের স্যারের কাছ থেকে জেনে নিবি।

গেদু বললো, স্যার, বিদুরের খুদ তো জানি৷ বিদুর সম্বন্ধে জানতে চাই।

স্যার তো পড়লেন মহামুশকিলে। বললেন, আমি কি ধর্মীয় শিক্ষক? ধর্মীয় বিষয় স্যারের কাছ থেকে জেনে নিবি। 

কেদু বললো, স্যার, সবচেয়ে বড় ইংরেজি শব্দ কোনটি, যদি জানাতেন।

ভজন বললেন, আমি কি ইংরেজির স্যার? ইংরেজি স্যারের কাছ থেকে জেনে নিবি।

স্যার মনে মনে ভাবলেন, ছাত্রদের প্রশ্ন করার সুযোগ দিলে হিতে বিপরীত হবে।

তারপর নিজেই প্রশ্ন করলেন, মদন বল্, পটল তোলা মানে কি?

স্যারের উত্তরের সাথে উত্তর মিলিয়ে মদন বললো, আমি কি কৃষকের ছেলে? কৃষকের কাছ থেকে জেনে নিয়েন।

স্যার গেলেন তুমুল রেগে। এক ঘা মেরে দিলেন, মদন বললো, আপনি না পারলে অন্য স্যারেদের কাছ থেকে জেনে নিতেন বলেন, আমরা না পারলেই যত দোষ, কেনো?

স্যার বললেন, পরীক্ষা কি আমি দেবো? আমি না পারলে কি ফেল করবো? তোদের সব জানতে হবে।

মদন বললো, আপনাকেও জানতে হবে। আপনি না জানলে শিখবেন কি করে?

স্যার মনে মনে ধরা খেলেন আর রাগ কিছুটা স্তিমিত করলেন। ভাবলেন, শিশুগুলো পেকে গেছে। শিশুদের মন প্রশ্নপ্রবণ। জানার আগ্রহ প্রকাশ করে বেশি। কিছু একটা বলে দিলে বুঝে যায়। আমারও তাই করতে হবে।

স্যার মুখে বললেন, আচ্ছা, তোরা কি জানতে চাস্ বল্?

মদন বললো, স্যার, আপনি পড়িয়েছেন শকুনি মামা মানে কুচক্রী লোক। আমার প্রশ্ন হলো, শকুনি মামা মানে কুচক্রী লোক কেনো?

প্যাকলে বললো, আপনি পড়িয়েছেন রাবণের গোষ্ঠী মানে বড় পরিবার। আমার প্রশ্ন হলো, রাবণের গোষ্ঠী মানে বড় পরিবার কেনো?

স্যার অবস্থা বেগতিক দেখে ক্লাস ত্যাগ করলেন। ছাত্ররা আনন্দে স্ফূর্তি করতে লাগলো আর হাসাহাসি করতে লাগলো। 

টোটন বললো, স্যার তো আজ জব্দ হয়েছেন। সেই সাথে প্রচণ্ড রেগেছেনও। আগামীকাল না সুদে-আসলে পরিশোধ করে দেন। আগামী কালের জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

মদন বোর্ডে একটি বাক্য লিখলো। কিছুক্ষণ পরেই ভজন স্যার প্রধান শিক্ষককে নিয়ে হাজির হলেন। দুই গম্ভীর স্যারকে দেখে ক্লাসের সবাই চুপ। প্রধান শিক্ষক বোর্ডে তাকালেন, তাতে লেখা আছে, ‘বেত্রাঘাত বরদাস্ত করা হবে না’।

প্রধান শিক্ষকের চোখ তো চড়ক গাছ, বললেন, কে লিখেছে এ কথা? স্কুলে তো বেত্রাঘাত নিষেধ করেছি আমি।

মদন দাঁড়িয়ে বললো, বেত্রাঘাত তো চলছেই স্যার। বেত্রাঘাতের ভয়ে আমার বন্ধুরা একে একে স্কুল ত্যাগ করছে। ডাক্তার খরচ দিতে দিতে বাবা-মা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।  

প্রধান শিক্ষক বললেন, স্যার, কত করে বলেছি ছাত্রদের প্রহার করবেন না।

ভজন স্যার বেত উঠিয়ে প্রধান শিক্ষককে এক ঘা বসিয়ে দিলেন। প্রধান শিক্ষক একেবারে থ এবং বিব্রত। তাছাড়া ছাত্রদের সামনে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাতে হতভম্ব হয়ে গেলেন। ভজন স্যার বললেন, মারের উপর ওষুধ নেই। তোকেও যদি না মারতাম প্রধান শিক্ষক হতে পারতি?

প্রধান শিক্ষক কোনো কথা না বলে চলে গেলেন। পূর্বাপেক্ষা গর্জে উঠলেন ভজন স্যার, বললেন, প্যাকলে, বেত্রাঘাত শব্দ দিয়ে নতুন দুইটা বাক্য বল্।

প্যাকলে বললো, বেত্রাঘাত আর খাবো না। আমরা বেত্রাঘাতের বিপক্ষে। 

শুনেই ভজন স্যার এক ঘা মারলেন, পরক্ষণেই প্যাকলে বললো, বেত্রাঘাত স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বেত্রাঘাত ভীতির কারণ।

ভজন স্যার আর এক বাড়ি মারলেন। প্যাকলে এবার বললো, বেত্রাঘাত ছাড়া ছাত্ররা সোজা হবে না। বেত্রাঘাতেই ছাত্ররা মানুষ হবে।

ভজন স্যার বললেন, এবার ঠিক আছে। গজা, বেত্রাঘাতের ত্র দিয়ে শব্দ গঠন করে বাক্য বল্।

গজা বললো, অত্র স্কুলের নেত্রহীন গোত্রহীন চরিত্রহীন আরত্র স্যার ছাত্রদের কাছে ঘৃণার পাত্র, চলে যাক অন্যত্র।

ভজন স্যার চমকে গিয়ে বললেন, কথাটি কি আমাকে বললি?

বলেই দুই ঘা। ঘণ্টা পড়ে যাওয়ার পরও স্যার আজ যাচ্ছেন না। পরবর্তী বিষয় পড়াতে অন্য স্যার চলে এসেছেন। কিন্তু সাহস করে ভজন স্যারকে কিছু বলতে পারলেন না। গেদু বললো, স্যার, আপনার ক্লাস শেষ।

ভজন স্যার বললেন, পরবর্তী ক্লাস করবি? কোন স্যারের? বাইরে দাঁড়িয়ে দেখছি। টিংকু স্যার ভেতরে আসেন। 

ভয়ে ভয়ে টিংকু স্যার ক্লাসে ঢুকলেন। ভজন স্যার বললেন, পড়ান। আমি দেখবো।

বিব্রত হলেও টিংকু স্যার পড়াতে শুরু করলেন। টিংকু স্যার একটু বুদ্ধি করে বইয়ের বাইরে থেকে পড়াতে লাগলেন, সমাজে কিছু কিছু মানুষ আছে যারা নিজেকে খুব পণ্ডিত মনে করে, তোমরা তেমন কোনো পণ্ডিত দেখেছো?

কেদু বললো, হ্যাঁ স্যার, তেমন পণ্ডিত আমাদের স্কুলেও একখান আছেন। আমরা তাঁকে একদিন পুকুরের জলে চুবিয়ে পণ্ডিতি ছুটাবো।

কথাটি ভজন স্যারের কানে খুব বাঁধলো। কিন্তু কিছু বললেন না। টিংকু স্যার আবার বক্তব্যে ফিরলেন, তোমরা কি জানো যারা নিজেকে মহাজ্ঞানী ভাবে তারা মূলত কি?

গেদু দাঁড়িয়ে বললো, স্যার তারা আস্ত একটা গর্দভ, অপদার্থ, ভাঁড় কিংবা কেবলাকান্ত। আর তেমন একখান মহাজ্ঞানী ভাঁড় আমাদের স্কুলে আছে, আমরা তাঁকে একদিন দিগম্বরী করবো।

কথাটি শুনতেই দুই কান খাঁড়া হয়ে গেলো ভজন স্যারের। বুঝতে বাকি থাকলো না তীর তাঁর দিকেই ছুঁড়ছে। টিংকু স্যার আবার বললেন, বাচ্চারা, তোমরা কি জানো সব কাজে বেশি বেশি করলে হীতে কি ঘটে?

মদন বললো, স্যার, বেশি বেশি কোনো কিছুই ভালো না। কেউ কেউ বেশি বেশি করে ফেলেন। বেশি বেশি কোনো কাজেরই ফল ভালো না। আমরা সংঘবদ্ধ হচ্ছি যেই বেশি বেশি করবে আমরা তাঁকে ধরবো, আর চ্যাংদোলা করে নিয়ে বাতরুমে আটকে রাখবো।

টিংকু স্যার বললেন, তোমরা কি জানো বয়স বেশি হলে কি করা উচিত?

প্যাকলে বললো, স্যার, বয়স বেশি হলে ধর্ম চর্চায় বেশি মনোযোগী হওয়া উচিত। আর শরীর চর্চা করা উচিত। কিন্তু কিছু নির্বোধ আছেন বুড়ো হয়েছে ভুলেই যান। আমরা তেমন একখান বুড়ো বানরের সন্ধান পেয়েছি, তাঁকে পাগল আখ্যা দিয়ে ভেবেছি তাঁর পিছে পিছে আমরা ঘুরবো আর তাড়াবো।

অবস্থা বেগতিক দেখে ভজন স্যার ক্লাস ছেড়ে চলে গেলেন। স্যার চলে যেতেই ক্লাসে হাসির রোল পড়ে গেলো।

পরদিন স্যার ক্লাসে এলেন। স্যার আজ ‘বাংলাদেশের পাখি’ এর উপর রচনা লিখতে দিয়েছেন। যে যার ইচ্ছামত লিখছে। পাশ থেকে মদন প্যাকলেকে দেখেছে, স্যার তা দেখতে পেয়ে প্যাকলেকে বললেন, এই মদনকে দেখাচ্ছিস কেন?

প্যাকলের তৎক্ষণাৎ উত্তর, স্যার, আমি পরোপকারী। মানুষ তো মানুষের জন্যই।

স্যার চোখ গোল্লা গোল্লা করে বললেন, ফের দেখাবি তো ক্লাস থেকে বের করে দেবো।

তা শুনে মদন বললো, স্যার, আপনি এত নিষ্ঠুর কেন?

স্যার এবার রেগে গেলেন, মদনকে দাঁড়াতে বললেন, আর বললেন, কি লিখেছিস, পড়্।

মদন যা লিখেছে পড়তে শুরু করেছে, পাখি একটি উড়ন্ত প্রাণী। দুটি পা, দুটি চোখ, দুটি ডানা আছে। অবশ্য ডানা কাটা পাখিও আছে। তারা অবশ্য ঠোঁটে লিপিস্টিক দেয়।

স্যার মদনকে থামিয়ে দিলেন, কি লিখেছিস এসব? টোটন, অফিস থেকে বেতটা আন্।

পাশ থেকে কেদু টোটনকে অর্ডার করলো, যা টোটন, দ্রুত বেতন নিয়ে আয়।

স্যার কেদুর উপর ক্ষেপে গেলেন, কান ধরে টেনে দাঁড় করিয়ে বললেন, তোকে অর্ডার করতে কে বলেছে? পেকে গেছিস, না?

পিছন থেকে প্যাকলে দাঁড়িয়ে বললো, স্যার, আপনি এসব কি শুরু করলেন? আপনার বিরক্তিতে তো ‘বাংলাদেশের পাখি’ রচনা লিখতেই পারছি না। চুপ করেন। কাজের সময় বিরক্ত করতে নেই।

স্যার প্যাকলের কাছে এলেন আর বললেন, আমি তোকে লিখতে বিরক্ত করছি? কি লিখেছিস পড়্।

প্যাকলে বললো, লিখেছি আমি, পড়ার দায়িত্ব আপনার। ভালো লিখলে ভালো আমার, খারাপ লিখলে খারাপ আমার। ভালো লিখেছি, না খারাপ লিখেছি বিচার করবেন আপনি।

স্যার আবার টোটনকে অর্ডার করলেন, তুই এখনো বেত আনতে গেলি না?

টোটন বেত আনতে চলে গেলো। স্যার প্যাকলের খাতা নিয়ে পড়তে শুরু করলেন। ‘পাকি দেকতে সুন্দর। আমাদের মতই পাকি ভাত খায়, মাচ খায়। পাকিরা আমাদের চারপাশে উড়ে বলে আমাদের মন ভালো থাকে’।

এটুকু পড়ার পর স্যার বললেন, তোর হাতের লেখার যেমন শ্রী, তেমন বানানের শ্রী। আজ তোকে ডাবল ডোজ দেবো।

এরপর স্যার বাকি অংশ পড়তে লাগলেন। প্যাকলে লিখেছে,’আমরা পাকি দেকতে আমাদের স্কুল পালিয়ে গার্ডস স্কুলে যাই’।

স্যার গম্ভীর চোখে প্যাকলের দিকে চেয়ে বললেন, পাখি দেখতে গার্লস স্কুলে যাস?

প্যাকলে কানে ধরে বললো, স্যার, আমরা পাখি দেখতে বনে যাই।

স্যার আবার খাতা পড়তে লাগলেন, প্যাকলে লিখেছে, ‘পাকি শিস দেয়, আমরা পাকি দেখে শিস দিলে দোশ। আমরা হাসলে পাকিরা দেখলে দোশ নেই, পাকিরা হাসলে আমরা দেখলে দোশ। আমরা তাই হতভাগা প্রাণী’।

টোটন বেত এনে হাজির। স্যার প্যাকলের জামার কলার ধরে চারটা বেতের বাড়ি দিলেন। প্যাকলে ক্ষমা চেয়ে চেয়ে বলতে লাগলো, আমরা না, পাখিরা হতভাগা প্রাণী। পাখি গান গায়, উড়ে বেড়ায়। পাখিরা জামা পরলে যত না সুন্দর লাগে, শাড়ি পরলে তার চেয়ে বেশি সুন্দর লাগে।

স্যার আরো দুই ঘা মেরে বললেন, গোল্লায় গেছিস। কোন্ পাখি নিয়ে লিখতে বলেছি আর কোন্ পাখি নিয়ে লিখেছিস?

প্যাকলে বললো, স্যার, আমি বনের পাখি আর মনের পাখি ‘বাংলাদেশের পাখি’ রচনাতে একাকার করে লিখেছি। আপনি কি শুধু বনের পাখি নিয়েই লিখতে বলেছেন? 

স্যার আরো এক ঘা মেরে বললেন, তোকে আর লিখতে হবে না। বাড়ি গিয়ে বাবাকে বলবি, বাবা, স্যার তোমার ছেলেকে বিয়ে দিতে বলেছেন।

গজা দাঁড়িয়ে বললো, স্যার, আপনি এভাবে বাল্য বিবাহে কাউকে উৎসাহী করতে পারেন না। এটা আপনার অন্যায়।

স্যার এবার গজার কাছে এলেন, বললেন, মাঝখান থেকে পড়্, কি লিখেছিস শুনি…

গজা পড়তে লাগলো, ‘পাখি বজ্জাত প্রাণী, মানুষের কাঁধে মল ছুঁড়ে মারে। পাখি বিরক্তিকর প্রাণী, জানালায় বসে কিচির-মিচির করে আমাদের ঘুম ভাঙায়। আর শকুন পাখির কথা কি বলবো, তার দোয়াতে গ্রামের সব গরু মরে যায়। আর কাঠঠোকরা পাখির কথা কি বলবো, গ্রামের গাছগুলি সব ফুঁটো করে ফেলছে, ডেকে ডেকে বাড়িতে আত্মীয় আনছে’।

ভজন স্যার গজার চোখের দিকে তাকালেন আর বললেন, পাখির কত কত ভাল গুণ আছে, একটিও চোখে পড়ে না? যত অবান্তর চিন্তা তোদের মনের মাঝে বাস করে! একটু পড়াশোনা কর্ বাবা, জীবনের হিসাব কিন্তু মিলাতে পারবি না। তখন আমার কথা মনে পড়বে।

ক্লাস শেষে স্যার চলে গেলেন। গজা বললো, কাল থেকে আমরা আর কেউ স্কুলে আসবো না। দেখি ভজন স্যার কাকে মারেন!

প্যাকলে বললো, স্কুলে আসবি না মানে? স্কুল আমাদের। আমরা স্কুলে আসবো। ভজন স্যারের আসা বন্ধ করতে হবে।

মদন বললো, কিন্তু কিভাবে?

প্যাকলে একটা বুদ্ধি দিলো। বুদ্ধিমত কাজ। সন্ধ্যাবেলা ভজন স্যার বাজার করে ফিরছিলেন। মদন ভূত সেজে স্যারকে ভয় দেখালো। আর স্যার গিয়ে তার গলা ধরলেন, বললেন, ওরে ভূত বলে কিছু নেই।

মদন ছটফট করতে লাগলো কিন্তু স্যার তাকে ছাড়লেন না, বললেন, আমার বাড়ি চল্। বাজার করেছি, আমাকে রান্না করে খাওয়াবি। বাড়িতে নতুন একটা বেতও এনে রেখেছি, ওটা তোর পিঠে মেরে উদ্বোধন করবো।

মদন বললো, স্যার, বেতের বাড়ি আর কত খাবো, এক জিনিস খেতে আর কত ভালো লাগে?

স্যার মদনকে ছাড়তেই কোনো কথা না বলে দৌঁড় দিলো। সামনে যেতেই চারদিক থেকে ঢিল পড়ছে স্যারের সামনে। স্যার বললেন, ওরে তোর বাবারাও এভাবে আমাকে ঢিল ছুঁড়তো। সবগুলোকেই মানুষ করেছি। তোদেরও মানুষ করে ছাড়বো।

থুত্থুরে বুড়ির মতো কণ্ঠ ধারণ করে প্যাকলে আড়াল থেকে বললো, আমরা তোর যম।

স্যার বললেন, কানমলা খেলে সামনে আয়।

স্যার তৎক্ষণাৎ বুঝতে পারলেন গাছের আড়ালে কে যেন আছে। হনহন করে হেটে প্যাকলেকে ধরে রাস্তায় আনলো। প্যাকলে বললো, স্যার, আমাকে ছেড়ে দেন, আমি কিন্তু সত্যিকারের ভূত। আপনার অমঙ্গল হবে।

স্যার কান টেনে বললেন, ভূত? তুই সত্যিকারের ভূত? পড়াশোনা করতে ইচ্ছে না থাকলে বিয়ে কর্। তারপর বৌর বায়না পূরণ করতে করতে মর্।

প্যাকলে বললো, স্যার, আমি বাচ্চা মানুষ। কেউ মেয়ে দেবে না, নতুবা আপনার কথা রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করতাম।

স্যার প্যাকলের কান আরো জোরে জোরে টানছেন আর প্যাকলে আরো জোরে জোরে কেঁকাচ্ছে। তা শুনে জঙ্গল থেকে বাকিরা পালালো। স্যার বললেন, আমার ভয়ে বাকি ভূতেরা তো পালালো, আমি তবে কে?

প্যাকলে বললো, ভূত সর্দার।

স্যার জোরে হুংকার দিয়ে বললো, কি বললি?

প্যাকলে বললো, যম সর্দার।

স্যার আরো জোরে কান টেনে বললো, আবার বল্!

প্যাকলে বললো, যমের বাপ।

প্যাকলে কান ছাড়িয়ে নিয়ে দৌঁড় মারলো আর বললো, আপনি যম রাজ।

পরের দিন ক্লাসে মদন, প্যাকলে, গজা ওরা মাথা নিচু করে বসে থাকলো। স্যার বললেন, এই তোদের কি হয়েছেরে? মাথা নিচু করে কেন? মাথা নিচু করে থাকতে ভালো লাগে? আয়, সামনে আয়।

তিনজনকে সামনে এনে তিনজনেরই মাথা টেবিলের নিচে ঢুকিয়ে দিলেন আর মদনকে বললেন, প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই উত্তর দিবি। বল্, ব্যাকরণে পণ্ডিত যিনি-

মদন বললো, ব্যাকরণে পণ্ডিত যিনি- ভজন স্যার।

স্যার এক ঘা মেরে প্যাকলেকে পড়া ধরলেন, কয়েক দিন আগে পড়িয়েছিলাম অলংকার। বল্, অলংকার কি?

প্যাকলে বললো, স্যার, অলংকার হলো আংটি, চুড়ি, হার, নূপুর…

প্যাকলে আরো কিছু বলছিলো কিন্তু থেমে গেলো কারণ প্রতিটি অলংকারের নাম বলার সাথে সাথে একটি একটি করে বেতের বাড়ি পড়ছিলো। এবার গজাকে পড়া ধরলেন, গজা বল্, পুরুষ কত প্রকার ও কি কি?

গজা বললো, স্যার, পুরুষ তিন প্রকার।

স্যার খুশী হলেন, বললেন,  কি কি?

গজা বললো, পুরুষ তিন প্রকার, যথা- কালপুরুষ, সিংহপুরুষ ও পরপুরুষ।

স্যার দিলেন এক ঘা। গজা বললো, না স্যার, চার প্রকার, যথা- কালপুরুষ, সিংহপুরুষ, পরপুরুষ ও বীরপুরুষ। বীরপুরুষটা ভুলে গিয়েছিলাম।

স্যার দিলেন আর এক ঘা। গজা বললো, না স্যার, পাঁচ প্রকার। কালপুরুষ, সিংহপুরুষ, পরপুরুষ, বীরপুরুষ ও মহাপুরুষ। দূর ছাই, ছয় প্রকার, বাকিটা কাপুরুষ।

স্যার রেগে বললেন, ছয় প্রকার?

স্যার গুণে গুণে আরো ছয় ঘা মারলেন। আর বললেন, যা নিজ নিজ আসনে গিয়ে বস্।

স্যার এবার কেদুকে বললেন, প্রকৃত মানুষ হবি কি করে?

কেদু বললো, প্রকৃত মানুষ হবো নিয়মিত বেত্রাঘাত খেলে, কান উঠবস করলে আর টেবিলের নিচে মাথা দিলে।

বলামাত্রই কেদুর পিঠে দুই ঘা বসে গেলো। তা দেখে পিছন দরজা দিয়ে অন্যরা দৌঁড়ে পালালো।

পরদিন ছাত্ররা বসে বসে যুক্তি আটছে কিভাবে কি করলে স্যারের হাত থেকে মার না খাওয়া যায়। জুতসই কেউ কোনো বুদ্ধি বের করতে পারছে না। গজা বললো, স্যার যাকেই মারবেন আমরা মরার ভান করবো। স্যার ভয় পেলে আর মারবেন না।

মদন বললো, ভজন স্যারের হৃদয় বলে কিছু নেই। স্যার যদি মারেন আর মরার ভান করিস তবে আরো মারবেন। দয়া-মায়া আছে নাকি উনার? মরার উপর খাড়ার ঘা মারার লোক তিনি। তারচেয়ে মরার ভান না করে অন্য বুদ্ধি বের কর্।

গেদু বললো, যাকেই স্যার বেত আনতে দেবেন, ফিরে এসে বলবো, বেত নেই। উঁইপোকা খেয়ে ফেলেছে। আমরা যদি একমত হতে পারি তবে কিন্তু বুদ্ধিটা ভালো। 

মদন বললো, স্যার তো অধিকাংশ দিনই নিজ হাতে বেত নিয়েই আসেন। এ বুদ্ধিতে কাজ হবে না।

গজা বললো, আমাদের কাউকে বেত নিয়ে আসতে পাঠালে এত আস্তে ধীরে যাবো আর আসবো যেন আসতে আসতে ঘণ্টা পড়ে যায়।

মদন বললো, তোর বুদ্ধিটা ভালো। তবে প্রত্যেকদিন এমন করলে স্যার বুঝে যাবেন। দীর্ঘদিন ফল পাওয়া যাবে এমন বুদ্ধি বের কর্।

পঁচা বললো, বেত ভেঙে গেলেই তো স্যার বেত কেনেন। বেত বিক্রেতাকে বলবো, অন্য ব্যবসায় শুরু করেন।

মদন বললো, বেত বিক্রেতা কি আমাদের কথা শুনবে? অন্য কোনো বুদ্ধি বল্।

টোটন বললো, আচ্ছা, আমরা স্যারের সাথে বেশি বেশি মিশবো। বাড়ি থেকে ফল-ফলাদি এনে খাওয়াবো। প্রয়োজনে তাঁর বাসায় বাজার সদাই কিনে দিয়ে আসবো। স্যারের হাতের কাজ করে দেবো। যদি স্যারের বন্ধু হতে পারি তবে মনে হয় কাজ হতে পারে।

মদন বিজ্ঞজনের মত করে বললো, বুদ্ধিটা ভালো। চল্, আজ বিকালে বাজার নিয়ে স্যারের বাসায় যাবো।

যেই বলা সেই কাজ। বাজার থেকে এক ব্যাগ ফল-মূল আর তরি-তরকারি কিনে ওরা স্যারের বাসায় গেলো। স্যার দেখে খুব খুশি। বললেন, তোরা এই বয়সেই তেল মারা শিখে গিয়েছিস? তোদের পড়িয়ে এই শিখালাম? তোদের স্যার আমি? আমি কি কখনো তোদের এ শিক্ষা দিয়েছি?

স্যার দরজা বন্ধ করে দিয়ে নতুন কিনে আনা বেতটা হাতে নিলেন। স্যারের ভাবগতি দেখে মদন টোটনের দিকে তাকিয়ে হেসে দিলো। আর বললো, তোর বুদ্ধির একি হাল আর ফল দেখ্!

স্যার মদনকে এক ঘা মেরে বললেন, হাসছিস কেন্? 

মদন বললো, স্যার, আমি হাসি-খুশি থাকতেই পছন্দ করি। 

বলেই আর একটু হাসলো। স্যার আরো এক ঘা মেরে বললেন, আমি তোকে মারছি আর তুই হাসছিস? আমাকে এত অবজ্ঞা?

মদন বললো, স্যার, আপনার হাতের বেতের আগাতে মিষ্টি আছে। আর মিষ্টি খেলেই আমার হাসি লাগে। ফল-মূল এনেছি, খাবেন, শক্তি হবে, বেত জোরে চালাতে পারবেন।

স্যার রেগে গিয়ে আরো এক ঘা মেরে বললেন, এই প্রথম শুনলাম বেতের বাড়ি খেলে হাসি লাগে।

মদন বললো, স্যার, শত কষ্ট আর ব্যথার মাঝে হাসতে পারায় জীবনের স্বার্থকতা। 

গেদু বললো, স্যার, আমরা তেল মারতে আসিনি। আপনার বয়স হয়েছে। আমরা আপনাকে অনেক ভালোবাসি। আর তাই বাজারের ভালো ভালো তরকারি কিনে এনেছি। তবুও স্যার আপনি আমাদের বন্ধুকে মেরে শেষ করে দিলেন। ও যে হাসছে, কত কষ্টে হাসছে জানেন? ওর চোখের ভাষা কি বোঝেন? মার দিয়ে সব হয়? আপনি ভালোবাসতে জানেন?

স্যারের গেলো রাগ হয়ে, কিন্তু মারলেন না, গেদুর কান ধরে বললেন, জ্ঞান দিস?

গেদু বললো, না স্যার, জ্ঞান সাগরে কেউ কি জ্ঞান বিলাতে যায়?

স্যার তদপেক্ষা জোরে কান টেনে বললেন, ভালো-মন্দ বুঝিস? বড় বড় যে কথা বলিস!

গেদু বললো, পাগলও ভাল-মন্দ বোঝে। আমি তো পাগল না। আপনি পড়াতে ভালো পারেন, কিন্তু আপনি ভালো শিক্ষক না।

স্যার গেদুর পশ্চাৎদেশে দুই ঘা মেরে বললেন, মুখে মুখে কথা বলিস! এ সাহস তোদের কে দিলো?

গেদু বললো, যত পারেন মারেন। আপনার ভয়ে পালিয়ে শিক্ষা জীবন তো শেষ করতে পারি না। আমাদের ভালোবাসার মত আরো অনেক স্যার আছেন।

স্যার বললেন, বুঝেছি, অন্য স্যারেরা তোদের লেলিয়ে দিয়েছেন আমার বিরুদ্ধে। 

গেদু বললো, তেমনটা ভাবতেই পারেন। কারণ আপনার ভাবনা-চিন্তা হিংসাত্মক। সৎসাহস থাকলে সব অন্যায় প্রতিবাদ করা যায়। 

ছাত্ররা একত্রে স্লোগান দিয়ে উঠলো। অবস্থা বেগতিক দেখে ভজন স্যার দরজা খুলে দিলেন।

পরদিন ভজন স্যার স্কুলে এলেন না। খুব অসুস্থ। সবাই খুব খুশি হলো এবং আনন্দে সারা স্কুলে হৈ-হুল্লোড় করলো। কিন্তু বেশ কিছুদিন স্যার স্কুলে আসলেন না। তখন খবর নিয়ে জানা গেলো, স্যার ভীষণ অসুস্থ, বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থতা পেয়ে বসেছে। কিন্তু কোনো ছাত্র তাঁকে দেখতে গেলো না। এমনকি তাঁর সহকর্মীরাও তাঁকে দেখতে গেলেন না। ভজন স্যারের চোখ দিয়ে জল ঝরতেই থাকলো। ভাবলেন, কেনো সারাজীবন ভালো শিক্ষক হওয়ার চেষ্টা করেছিলাম, কেনো জনপ্রিয় শিক্ষক হইনি।

5 1 vote
Writing Rating
Share This
Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on telegram
Share on email
Share on linkedin
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
আমি যখন শিক্ষাজীবনের শেষলগ্নে তখন বাধ্য হয়ে একটি বাচ্চাকে পড়াতে গিয়েছিলাম। বাচ্চাটির বাবা মা দুজনই চাকরি করেন। বাচ্চাটি একা থাকতে থাকতে একরোখা আর বদমেজাজি …
ঘরে-বাইরে বাজনার মা বাতাসী কাজ করছেন। বাজনা নাকে কেঁদে কেঁদে বললো, মা, আমাকে কি আর বিয়ে দেবে না? মা বাতাসী বললেন, তোর বিয়ে দিতে …
রমিজ আর লাভলু বসে আছে। রমিজের মনের মধ্যে রাজ্যের যত কষ্ট সব ভর করেছে। গোমড়া মুখে নিরীহ প্রাণীর মত লাভলুর দিকে চেয়ে বললো, আব্বা …
হেকমত আর করিম দুই বন্ধু গল্প করছে। হেকমতকে মহাখুশি দেখে কারণ জানতে চাইলো করিম। হেকমত অতি আনন্দের সাথে বললো, মিয়া ভাইয়ের বিয়ে শেষ। এবার …
পঁচানন্দ মাংস খায় না মাংস মাংস গন্ধ করে বলে, মাছ খায় না মাছ মাছ গন্ধ করে বলে, ডিম খায় না ডিম ডিম গন্ধ করে …
নীলকান্ত বড্ড বোকা মানুষ। যার তার সাথে করে ফেলে বোকামি কাণ্ডকলাপ। একদিন তো বৌর উপর রাগ করে ঘরে না ঘুমিয়ে উঠানে ঘুমিয়েই রাত কাটিয়ে …
Read More
আমি যখন শিক্ষাজীবনের শেষলগ্নে তখন বাধ্য হয়ে একটি বাচ্চাকে পড়াতে গিয়েছিলাম। বাচ্চাটির বাবা মা দুজনই চাকরি করেন। বাচ্চাটি একা থাকতে থাকতে একরোখা আর বদমেজাজি …
ঘরে-বাইরে বাজনার মা বাতাসী কাজ করছেন। বাজনা নাকে কেঁদে কেঁদে বললো, মা, আমাকে কি আর বিয়ে দেবে না? মা বাতাসী বললেন, তোর বিয়ে দিতে …
রমিজ আর লাভলু বসে আছে। রমিজের মনের মধ্যে রাজ্যের যত কষ্ট সব ভর করেছে। গোমড়া মুখে নিরীহ প্রাণীর মত লাভলুর দিকে চেয়ে বললো, আব্বা …
হেকমত আর করিম দুই বন্ধু গল্প করছে। হেকমতকে মহাখুশি দেখে কারণ জানতে চাইলো করিম। হেকমত অতি আনন্দের সাথে বললো, মিয়া ভাইয়ের বিয়ে শেষ। এবার …
পঁচানন্দ মাংস খায় না মাংস মাংস গন্ধ করে বলে, মাছ খায় না মাছ মাছ গন্ধ করে বলে, ডিম খায় না ডিম ডিম গন্ধ করে …
নীলকান্ত বড্ড বোকা মানুষ। যার তার সাথে করে ফেলে বোকামি কাণ্ডকলাপ। একদিন তো বৌর উপর রাগ করে ঘরে না ঘুমিয়ে উঠানে ঘুমিয়েই রাত কাটিয়ে …