14th-issue-Bangla, lipi magazine

শনিবারের লিপি – ১৪ তম সংখ্যা

লেখক

রবীন জাকারিয়া <img class="alignnone wp-image-6202" src='https://sp-ao.shortpixel.ai/client/q_lqip,ret_wait/https://www.lipimagazine.com/lipicontent/uploads/2021/06/-জাকারিয়া-e1624635468598-286x300.jpg' data-src="https://www.lipimagazine.com/lipicontent/uploads/2021/07/Verification-Badge-4.svg" alt="" width="17" height="17" />

রবীন জাকারিয়া

রংপুর, বাংলাদেশ

আজমত খলিফা (গল্প)

বহু বছর পর আজকে আমি আমার জন্মস্থান, প্রিয় শহর রংপুরে এলাম৷ নিজের শহর৷ নিজেই চিনতে পারছি না৷ চারিদিকে বহুতল বাড়ি, শপিং মল, প্রশস্ত রাস্তা, আলোর ঝলকানি চোখে ধন্ধে ধরায়৷ প্রিয় স্কুল, খেলার মাঠ, গাছ-গাছালি কিছুই নেই আগের মতো৷ যে পুকুরগুলোতে সারাদিন মহিষের মত ডুবে থাকতাম৷ সেগুলোতে এখন দাঁড়িয়ে আছে বহুতল ভবন৷ সহপাঠি-বন্ধু এখন তারা যে কোথায় কিংবা কেমন আছে৷ জানিনা৷ নিজের শহরেই নিজেকে আগন্তক মনে হচ্ছে৷

আমি ঢাকায় থাকি৷ বিয়ে-শাদী করেছি৷ পরিবার নিয়ে সেখানেই থাকি৷ একটা বস্তিতে৷ সিএনজি চালাই৷ স্ত্রী গার্মেন্টসে চাকুরি করে৷ করোনার কারণে সারাদেশে লক ডাউন চলছে৷ ঢাকায় খুবই কড়াকড়ি৷ ভ্রাম্যমান আদালত, পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট গাড়ি আটকায়৷ জরিমানা করে৷ লাঠিপেটা করে৷ চাঁদা আদায় করে৷ এতকিছুর পরেও লজ্জাহীনভাবে আমাদের রাস্তায় নামতে হয়৷ কেননা লজ্জা আর ভয় দিয়েতো পেট ভরবে না৷ আর আমাদের জীবণ-জীবিকা নিয়ে মাথা ঘামানোর মতো সময় রাষ্ট্রযন্ত্রের নেই৷ তাদেরকে অনেক বড় বড় বিষয় নিয়ে ভাবতে হয়৷ কীভাবে রিজার্ভ বাড়াতে হবে৷ দেশীয় অর্থে কীভাবে পদ্মা সেতু হবে৷ কেন রাতারাতি একটা হাসপাতাল গায়েব হয়ে গেল ইত্যাদি৷

রোজার মাস৷ সামনে ঈদ৷ বাচ্চাদের আবদার৷ কীভাবে সংসার চলবে? তাই ঝুকি নিয়েই রংপুরে এসেছি৷ এখানে যাহোক একটা কাজ জোটাতে হবে৷ আমার ইচ্ছা অটো চালানো৷

আমাদের বাড়িটা সাতগাড়া মিস্ত্রিপাড়ায়৷ আগের বাড়ি আর নেই৷ ভেঙ্গে নতুন করে বানানো হয়েছে৷ ভাড়া দেয়া হয়েছে৷ ওটা এখন বোনের দখলে৷ আমি ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে কারমাইকেল কলেজে বাংলায় অনার্স ১ম বর্ষ পর্যন্ত পড়াশুনা করেছি৷ ছাত্র হিসেবে ভালই ছিলাম৷ কিন্ত বাবার হঠাৎ মৃত্যু, দারিদ্র্য আর পরিবারের প্রতি কর্তব্যের কারণে লেখাপড়ার পাঠ চুকিয়ে ফেলতে হয়৷ মনে পড়ে বহুদিন আগে এক কাক ডাকা ভোরে সবার অগোচরে এ শহর ছেড়ে পাড়ি জমাই ঢাকায়৷ যে কোন উপায়েই রোজগার করতে হবে৷ বাড়িতে মা-বোনের জন্য টাকা পাঠাতে হবে৷ নাহলে ওরা না খেয়ে মরবে৷ ঢাকায় গিয়ে প্রথমের দিকে রিক্সা চালালাম৷ শহরটা কিছুটা পরিচিত হলে অটো চালানো শুরু করি৷ যা রংপুরে করা সম্ভব ছিলনা৷ আমার লজ্জার কারণে নয় বরং পরিবারের মর্যাদার কারণে৷ বিশেষ করে ছোট বোনের জন্য৷ আমি রিক্সাচালক জানলে ও যত ভাল স্টুডেন্টই হোক না কেন সুপাত্রস্থ করতে অসুবিধা হবে৷ মাসে মাসে নিয়মিত টাকা পাঠাই৷ সবাই জানে আমি চাকরি করি৷ কিন্ত সম্ভবত মা কিছুটা আঁচ করেছিল৷ হাজারো হোক মায়ের মন৷ আমি এড়িয়ে গেছি৷ বুঝতে দেইনি৷

দিনে দিনে অনেক বছর পেড়িয়ে গেছে৷ বোনের বিয়ে হয়েছে৷ স্বামী-সংসার নিয়ে ভাল আছে৷ মা এখন শুধুই স্মৃতি৷ মুনসিপাড়া কবরস্থানে স্বামীর কবরের পাশেই শুয়ে আছে৷

কী আশ্চর্য! একদিন লজ্জার ভয়ে শুধুমাত্র রোজগারের কারণে যে আমি নিজের শহর থেকে ঢাকায় পালিয়ে গিয়েছিলাম৷ বহু বছর পর সেই আমি আবার নিজের শহরে ছুটে এসেছি রোজগারের আশায়৷ পার্থক্য শুধু প্রথমবার ছিল মা-বোনের জন্য৷ আর এবার এসেছি স্ত্রী-সন্তানদের জন্য৷ তবে একটা বিষয়ে নিশ্চিন্ত যে এখন কেউ আমাকে চিনবে না৷

গাবতলী থেকে অনেক সময় আর অনেক কষ্টে অবশেষে রংপুরে পৌঁছালাম৷ টার্মিনালে নেমে রিক্সা করে মিস্ত্রিপাড়ায় ঢুকলাম৷ রিক্সাটাকে দাঁড় করালাম৷ নিজের জন্মস্থান, বাড়িটাকে দেখলাম৷ আশে পাশের বরই, পেয়ারা, আম, জাম আর আতা ফলের গাছগুলোর চিহ্নই খুঁজে পেলাম না৷ কত স্মৃতি, কত আনন্দ বেদনার সাক্ষি এ জায়গা৷ চোখটা ঝাপসা হয়ে এলো৷ অনুভব করলাম দু’চোখে নোনা জলের অস্তিত্ব৷ বুকের ভেতর বাতাসের ঘাটতি অনুভব করছি৷ বড্ড বেশী ব্যাথা করছে৷ নাহ্! সরে পড়তে হবে৷ রিক্সায় আবারো চেপে বসলাম৷ কবরস্থানে গিয়ে মা-বাবার চিহ্নহীন কবর জিয়ারত করলাম৷

রাত জাগা৷ দীর্ঘ সময় ধরে জার্ণি৷ নাস্তা না খাওয়া শরীরটাকে মাতালের মত টেনে নিয়ে চলছি৷ আমি হেঁটে চলছি৷ গন্তব্য কাচারী বাজার৷ সেখানে অনেক হোটেল৷ নাস্তাটা সেখানেই সারবো৷ সেখানে ছিল আর এক বিশ্ময়! যেন এক যাদুবলে এখানকার ব্যাঙের ছাতার মতো অসংখ্য হোটেল উধাও হয়ে গেছে৷ কিছুই নেই৷ শুধু ইতিহাসের সাক্ষি হয়ে এখনো রয়ে গেছে শিশু নিকেতন স্কুলটি৷ এখানেই আমি প্রাইমারী শিক্ষা নিয়েছি৷ যদিও স্কুলটা থাকলেও পুরাতন আঙ্গিকে নয় বরং নতুন ভবন শোভা পাচ্ছে৷ স্কুলটার ঠিক বিপরীত দিকে কোর্ট ভবন৷ রেজিস্ট্রি অফিস৷ তখনো নতুন জেলাগুলো হয়নি৷ সকল মহকুমার মানুষকে এখানে আসতে হতো৷ মামলা-মোকাদ্দমা৷ জমি রেজিস্ট্রি৷ আরো কত কি৷ কাচারী থাকতো মানুষের সমুদ্রের মতো৷ কোর্টের চারিদিকে কোন প্রাচীর ছিল না৷ বরং অসংখ্য দোকান দিয়ে পরিবেষ্ঠিত ছিল৷ খাবার হোটেল৷ থাকার হোটেল৷ স্ট্যাম্প ভেন্ডার৷ সাইকেল গ্যারেজ৷ লন্ড্রি৷ দর্জ্জি৷ আরো কত যে দোকান৷ ল্যাম্প পোস্টের নীচে ছিল একটা লন্ড্রি৷ নাম উকিলের লন্ড্রি৷ উকিলের লন্ড্রি নাম শুনে অনেকে মনে করতো এটা বোধ হয় কোন উকিলের দোকান৷ আসলে তা নয়৷ এখানকার বেশীরভাগ কাস্টমার ছিল উকিল৷ তাই এর নাম হয়ে যায় উকিলের লন্ড্রি৷ তার পাশে ছিল একটা সাইকেল মেকানিকের দোকান৷ আর ঠিক তার পাশের দোকানটা ছিল একটা দর্জ্জির৷ খলিফার৷ নাম আজমত খলিফা৷ নাম করা খলিফা৷ বয়স্ক, ধার্মিক আর বিশ্বস্থ ব্যক্তি৷ উনি কাপড়ের টুকরো অংশগুলো একটা কার্টুনে রেখে দিতেন৷ নামাজি লোকেরা মুঠো মুঠো করে ওগুলো নিয়ে যেতেন৷ কুলুক হিসেবে ব্যবহার করতেন৷ তখনো টিস্যু পেপারের ব্যবহার শুরু হয়নি৷ সে সময় তৈরি পোষাকের প্রচলন ছিল না৷ তাই খলিফাদের আয় রোজগার দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে সংসার চালানো যেত৷ আজমত খলিফার দু’টি সন্তান৷ বড়টি ছেলে ও ছোটটি মেয়ে৷ দু’জনেই পড়াশুনায় খুব ভাল৷ শুধুমাত্র এ পেশা দিয়েই সংসারের খরচসহ আজমত খলিফা সন্তানদের উচ্চ শিক্ষার খরচ চালাতে থাকেন৷

সেসময় লোকে ঈদ পরবেই পোষাক-আষাক বানাতেন৷ এত বাহুল্য পোষাক মানুষের ছিল না৷ আজমত খলিফা জানতেন৷ এই সামান্য আয়ে তিনি বাচ্চাদের নতুন পোষাক বানিয়ে দিতে পারবেন না৷ তাই তিনি পূর্ব থেকেই প্রস্ততি রাখতেন৷ অন্যের জামা বানানোর পর তুলনামূলক যে বড় ছাটগুলো বেচে যেত৷ সেগুলো তিনি জমা করে রেখে দিতেন৷ একটা সময় যখন অনেক টুকরো কাপড় জমে যেত৷ তখন তিনি সেগুলো জোড়া দিয়ে নিজের করা ডিজাইনে সন্তানদের ঈদের পোষাক বানিয়ে দিতেন৷ সেই নতুন জামা নিয়ে বাচ্চারা যে কতবার দেখে৷ আবার গুছিয়ে লুকিয়ে রাখে৷ যেন বন্ধুরা ঈদের আগে দেখতে না পারে৷ আগে দেখলেতো ঈদ মাটি হয়ে যাবে৷ আজমত খলিফা আর তার স্ত্রী দেখেন৷ ওদের হাসিমুখ দেখে আনন্দের অশ্রু মোছেন৷ এ প্রতারণা কেউ বুঝতেই পেত না৷ শুধু তিনি আর তার স্ত্রী ছাড়া৷ এছাড়া কী-ইবা করার আছে?

এরপর দেশে নতুন নতুন জেলা হলো৷ শহরে মানুষের আগমন কমতে লাগলো৷ তৈরি পোষাকের  ব্যবহার বাড়তে লাগলো৷ কমতে থাকলো খলিফাদের আয়৷ নিদারুন অর্থ কষ্ট, সন্তানদের লেখাপড়া, পরিবারের ভবিষ্যৎ এসব চিন্তায় এক রাতে নিজের দোকানের সেলাই মেশিনের উপরেই মরে গেলেন তিনি৷

কাচারীতে একটি হোটেলে নাস্তা খেতে খেতে অনেককে আজমত খলিফার কথা জিজ্ঞেস করলাম৷ কেউ বলতে পারে না৷ শেষে বয়স্ক দেখে একজনকে প্রশ্ন করলাম চাচা এ বিষয়ে কিছু জানেন কী-না! তিনি বললেন৷ আর বলো না বাবা৷ খুব ভাল মানুষ ছিলেন৷ আর ভাল মানুষ ছিলেন বলেই দু’টি সন্তানকে মানুষের মত মানুষ বানাতে পেরেছেন৷ একটু থেমে তিনি আবার বলতে লাগলেন তুমি শুনে আশ্চর্য হবে যে এ ব্যবসা করেই সে তার মেয়েকে ডাক্তার বানিয়েছেন৷ আর ছেলেটি ঢাকায় মস্ত বড় চাকুরি করে৷ কী কপাল! তাই না?

চাচার কথাগুলো শুনে বুকটা কেঁপে উঠলো৷ বুক চাপা কান্না নিজেকে পরাভূত করে বেড়িয়ে আসতে চাচ্ছে৷ শক্ত হতে হবে৷ অন্যদিকে মুখটা ঘুরিয়ে নেই৷ গালে গরম কিছুর অস্তিত্ব অনুভব করি৷ হাত দিয়ে গোপনে অশ্রুজল মুছে ফেলি৷ হয়তো আমার আচরণে অস্বাভাবিকতা ছিল৷ তাই চাচা বললেন তুমি কি অসুস্থ বোধ করছো? আমি বললাম না চাচা৷ সারারাত জার্ণি করেছিতো তাই খারাপ লাগছে! কিন্ত একথা বলার সাহস হলো না যে আমিই আজমত খলিফার সেই ছেলে!

সৌমেন দেবনাথ <img class="alignnone wp-image-6202" src='https://sp-ao.shortpixel.ai/client/q_lqip,ret_wait/https://www.lipimagazine.com/lipicontent/uploads/2021/07/Somen-Debnath-300x287.jpg' data-src="https://www.lipimagazine.com/lipicontent/uploads/2021/07/Verification-Badge-4.svg" alt="" width="17" height="17" />

সৌমেন দেবনাথ

বাংলাদেশ

টাইম পাস

মেহেদীর মুখে রাজ্যের মেঘ। হৃদয়ের গোপন কুঠিরে তার পর্বতসম কষ্ট। আমার রুমে এসে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতে লাগলো, শান্তি তুমি পালিয়ে যাও। সুখ তুমি হারিয়ে যাও। কিসের প্রচেষ্টা! কিসের প্রত্যাশা! ও কেনো জীবন থেকে চলে গেলো? আজ ইচ্ছা করছে সমস্ত স্মৃতির খণ্ড কাঁচগুলো আবার জোড়া দিয়ে তোমার মুখ দেখি। ওহ, আমি তোমার জীবনের সুর হতে পারিনি, হয়েছিলাম কিছু শব্দ। হৃদয়ের সবটুকু অনুরাগ দিয়েও পারলাম না তোমার অভিমান ভাঙাতে। তুমি কী হাজার সুখের মাঝে হারিয়ে ফেলেছো আমার দেয়া সুখগুলো, আমার কাছ থেকে চেয়ে নেয়া সুখগুলো? তিলে তিলে গড়ে তোলা বিশ্বাসের প্রাচীর তুমি একটি মুহূর্তে কিভাবে ভাঙলে? অপেক্ষার করাতে রক্তাক্ত হৃদপিণ্ড, তোমার অনুভবের সূক্ষ্মকণাগুলো কী তা বুঝতে পারে না? স্মৃতির জানালা খুলে যখন তোমাকে স্বপ্নালোকে দেখি তখন ভাবি ভালোবাসার প্রদীপ নিভিয়ে দিলে কী এমন কারণে? 

মেহেদীর বর্তমান যে অবস্থা তা ব্যাখ্যাতীত। অপ্রাপ্তিতে ওর প্রচণ্ড বিতৃষ্ণা জন্মেছে। রায়হান এলো। প্রচণ্ড দেশ প্রেমিক। দেশ নিয়ে তার চিন্তার শেষ নেই। বললো, অসম দেশটাকে সংগ্রামী চেতনায় ভেঙে সমান করবো। ভয় করলেই ভয়, ভয় না করলে কিসের ভয়! মৃত্যু নামক রঙিন তীর হাতে নামতে হবে অশনি বিনাশে।

আমাদের মাঝে এসে উপস্থিত হলো সব্যসাচী। দুই হাতের চেয়ে তার মুখ চলে বেশি। অকারণেই কথা বলে। কথা বলতে শুরু করলে থামে না। বিষয়ভিত্তিক কথা তার কাছ থেকে আশা করাও অবান্তর। যখন যা মনে আসবে তাই বলতে শুরু করবে। আজ এসেই বলা শুরু করলো, যেখানে বিশ্বাস আছে, সেখানে সন্দেহ আছে। মানুষকে সন্দেহ করার চেয়ে বিশ্বাস করা বেশি উচিত। ঝগড়া করা ঠিক, ঝড়ের মতো মনের ময়লা দূর করে দেয়। বুক হালকা হয়। তবে অনেক ঝগড়া সুন্দর সম্পর্ক বিনষ্টের কারণ।

সচ্যসাচীর কথা শুনে মেহেদী দীর্ঘশ্বাস ফেললো। আমি সব্যসাচীকে থামাতেই অলোক এলো। ফিশারীজে পড়ে। সারাদিন মাছ নিয়ে গল্প বলবে। কেউ কেউ যখন বলে মাছ নিয়ে পড়ার কী আছে, তখন সে রেগে যেয়ে মাছ নিয়ে কেনো পড়তে হবে বলতে শুরু করে। কিন্তু আজ ও মাছ নিয়ে কিছু বললো না, বললো, আজ ক্যাম্পাসে এক স্বর্গীয় নারী দেখেছি। নারী মানে ছাত্রী! যৌবনরঙা দ্বীপ্ত অঙ্গ থেকে ভেসে এলো হৃদয় দগ্ধানো স্ফূলিঙ্গ। চন্দ্র মুখ, দীঘল কেশ, হিরকোজ্জ্বল সলজ্জ প্লাটিনাম হাসি, মায়াবি কণ্ঠ, চোখে চকচক শাণিত ধার! আমি কাঠপাথর হয়ে যাই, বিছুতি পাতা ছোঁয়ালেও প্রতিক্রিয়া হতো না। মানুষ এত সুন্দর কী করে হয়!

অলোকের কথা শুনে মেহেদী গালে হাত দিয়ে হা করে শুনছিলো। রায়হান অলোককে বললো, তোর রুচি সম্বন্ধে জানা আছে। কাচ-কাঞ্চন তোর কাছে সমান। যা দেখিস তাতেই তোর ভালো লাগা। যা দেখিস তার চেয়ে বেশি বর্ণনা করিস। 

আমি সবাইকে বললাম, আমার পরীক্ষা চলছে। তোমরা গেলে আমি পড়তে পারি।

সবাই গেলেও মেহেদী গেলো না, ও বললো, শরীরের অাঘাত দু দিন পরে সারে কিন্তু হৃদয়ের আঘাত সারে না। বারবার ওর কথা মনে পড়ছে, ওর কণ্ঠ শুনতে ইচ্ছা করছে, ওকে দেখতে ইচ্ছা করছে, ওর হাত ধরে হাটতে ইচ্ছা করছে, ওর সাথে রিক্সা চড়ি না কত দিন হলো। একা আমি বাঁচবো না। আমি ঘুমাই কিন্তু আর আগের মতো স্বপ্ন দেখি না। আশাশূন্য জীবন আমার। যাবো না ওর কাছে। আমি কী কুকুর, তাড়িয়ে দিলে আবার ফিরে যাবো!

মেহেদীর অত্যাচারে আমি অতিষ্ঠ। খুব বিরক্তি প্রকাশ করলাম। মেঝে থেকে সব্যসাচী তা দেখতে পেয়ে বললো, কখনো অধৈর্য হবে না। থাকতে হবে সবার সান্নিধ্যের উষ্ণতায় তৃপ্ত, জীবনের জয়গানে উদ্দীপ্ত। শ্বাপদ সংকুল ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্দ, কণ্টকাকীর্ণ পথ তবেই উত্তরণ সম্ভব।

এদের যন্ত্রণায় আর পারি না। মেহেদীকে কোনো মতে বিদায় করতেই ইসরাফিল এলো। ইসরাফিলের আসা দেখে আলীও এলো। ইসরাফিল বিবাহিত। আলী তাকে নেড়ে নেড়ে রাখে না আর। বললো, মেয়েদের কান্না হলো জয়ের মূল্যবান কৌশল। খবরদার বৌয়ের নাকে কান্নার পাত্তা দিবি না। আর নারীর বুদ্ধি শুনবি না, ওদের বুদ্ধি হাটুতে, মগজে না, মগজে গোবর৷ নদী, নারী, শৃঙ্গধারী এ তিনে না বিশ্বাস করি।

আমি ওদের দু’জনকে বের হতে বললে আলী গেলেও ইসরাফিল গেলো না, ও বললো, জব না পেয়ে বিবাহ করবেন না। আমার জীবনটা কীটের চেয়েও খারাপ।

বললাম, বৌ যন্ত্রের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ? আগ ভেবে কাজ করতে পারোনি? যাও এখন।

ও গেলে আমি দরজা বন্ধ করে দিলাম। হলের উত্তর-পুর্ব ব্লকে আমরা বিশজন ছাত্র থাকি। সবার মধ্য উত্তম সম্পর্ক। আমি আর সব্যসাচী বড়। বাকিরা আমাদের চেয়ে ছোট। পড়াশোনা আর আড্ডা-মজার মধ্য দিয়ে আমাদের দিন চলে যায়। তবে সবাই আমার রুমে বেশি আসে, কারণ জানি না। একটু পরেই সুধা আমাকে ফোন দিলো। ওর ফোন ধরলাম না। কথা শেষ না করতেই কেটে দেয়। আমি ব্যাক দিলাম। এবার আর ও কল রাখার কথা ভাববেও না। যশোরে পড়ে ও। আমার খুব ভালো বান্ধবী। আমার খোঁজ খবর নেয়, কী করি না করি, খেলাম কিনা, এসব। এও কী কম! 

জনিকে নিয়ে আমার রুমমেট এলো। দরজা খুলে দিলাম। জনি বললো, মতি ভাই, ধ্রুব এর মধ্যে আমি অমিত সম্ভাবনার ভ্রূণ দেখতে পাচ্ছি। দেখবেন ও একদিন শচীন হবে।

আমি হ্যাঁ-সূচক মাথা ঝাঁকিয়ে বললাম, আমার পরীক্ষা চলছে। বন্ধুর সাথে গল্প করো৷ 

জনি ক্রিকেট জগৎ নিয়ে তানভীরের সাথে আড্ডায় মাতলো। আমার রুমমেট আবার বলিউড প্রেমী। বললো, জনি, আগে মাধুরীকে বেশি ভালো লাগতো, তবে এখন ক্যাটরিনা আমার প্রিয়। তবে আলিয়া ভাটকে দেখলে ক্যাটরিনাকে আর দেখি না।

ওদের যন্ত্রণায় আমি প্রিন্সের রুমে গেলাম। ও বললো, মতি ভাই, এত পড়ে কী হবে? বই এত না পড়ে, ঘরের মধ্যে বন্দী না থেকে জগৎটাকে দেখেন। নিভৃতচারী মানুষ কখনো আগে জব পান না। 

সব্যসাচী দরজায়। বললো, জীবন কী আর বই পড়ে জানা যায়? জীবন হলো সড়ক, যার শেষ নেই। জীবনের ক্রিজে যে বেশি রান করতে পারবে সেই জীবনের মানে খুঁজে পাবে, জীবনকে তখনই সে উপভোগ করতে পারবে। জীবনে দুঃখের চোখ রাঙানি থাকবে, কষ্টের শাসানি সহ্য করতে হবে, দুর্ভোগের প্রতাপ জীবনের অনুষঙ্গ, ডরলে কী চলে?

প্রিন্স বললো, শোনেন মতি ভাই, ঘেরাটোপে থেকে নিজস্ব স্বাধীনতা নিঃশেষ করবেন না। চোখের স্বপ্ন চোখেই থাকবে যদি না প্রাকটিক্যাল হন। বুকের ভেতর যে ফুলের বাগান, সেই বাগানে ফুল ফোঁটাতে হলে অন্ধ অনুভূতিতে কাজ হবে না। স্বপ্নকে শুধু মানসচক্ষে দেখলে হবে না, বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন।

এত জ্ঞান গ্রহণ ভালো লাগলো না। হাটতে হাটতে বাইরের দিকে যেয়ে সুধাকে ফোন দিলাম। সুধার মন খারাপ। বললাম, মন খারাপের কারণ কী?

সুধা বললো, আমার সর্বশেষ বান্ধবীটাও প্রেমে পড়েছে। 

বললাম, তা মন খারাপ হবে কেনো?

সুধা বললো, ওরা সব সময় ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকে। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ঘুরে বেড়ায়। বিকাল হলে শপিং মলে যায়, পৌরপার্কে যায়। মনিহারে সিনেমাও দেখে।

আমি বললাম, তা তুই-ও প্রেমের বাজারে নেমে যা। তা তো যাবি না। 

সুধা বললো, প্রেমের পথে যাবো না। টাইম পাসের জন্য তুই তো আছিস। ফোন দিলে ফোন ধরবি।

সুধার সাথে কথা বলার পর থেকে ভালো লাগছে। রুমে এলাম। জনি যায় নি। সবাই মিলে ওরা আড্ডা দিচ্ছে। রায়হান বলছে, আমরা ফোয়ারার জলে স্নান করি না, মজা কিংবা শ্যাওলা জলে শরীর ভাসাই। ঠোঁটে আলগা রং নেই, তবুও ঠোঁটে থাকে সদা সাদা হাসি। আমাদের সম্পর্কগুলো হার্দিক, আত্মিক, আন্তরিক। পৌরাণিক নয়, কাল্পনিক নয়, যান্ত্রিক নয়। আমাদের টাকা নেই, হৃদয় আছে। রক্ত দিই, মান দিই না, অধিকার ছাড়ি না। আমাদের লাল সবুজের পতাকা আছে।বায়ান্ন আছে, ঊনসত্তর আছে, একাত্তর আছে। মানচিত্র আছে। প্রাণের মানচিত্র। 

রায়হানকে কেউ থামানোর নেই। ও বলেই চলেছে৷ দেখি কতো বলতে পারে। বকুল এসে আমার বেডে বসলো। শান্ত ছেলে। কিছু বলছে না। রায়হান ধমক দিয়ে বললো, বোবা কেন? কিছু বল্…।

বকুল বললো, জ্ঞানীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হয়। জ্ঞানীদের কথার মাঝে উচ্চবাক্য করতে নেই। সেই কথা মনের হার্ডডিস্কে সেভ করে রাখতে হয়। প্রয়োজনের সময় কাজে লাগাতে হয়। কেনো চুপ বুঝলি?

রায়হান খুব খুশী হলো। জনি এসে তানভীরের সাথে ছবি দেখতে লাগলো। খুব মিল ওদের মাঝে। রায়হানের কথা শুনে ওরা দুজন বিরক্তি বোধ করছে। কিন্তু রায়হানের কথা থামছে না। পাশের রুম থেকে আলী এলো, সিনেমাতে কিছুক্ষণ চোখ রেখে রায়হানের কাছে এলো, বললো, প্রতিটি পুরুষই নায়ক কিন্তু প্রতিটি নারীকে নায়িকা বলতে আমার দ্বিমত আছে। পুরুষ রত্ন হয়ে জন্ম গ্রহণ করে, নারীকে রত্ন হতে হয়। উদ্বৃত্ত পত্রে পুরুষ যায় সম্পদ পাশে, আর নারী যায় দায় পাশে।

একথা অলোক শুনে ফেলেছে। ও ভীষণ রেগে বললো, নারী হলো মুক্তোর মালা, গলায় রাখতে হয়। নারী হলো রূপের রানী, বিস্ময়ে দেখতে হয়। 

মেহেদী এসে দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, নারীকে বিশ্বাস করলে ঠকতে হয়। নারীর ছলনায় পড়ে চোখের ঘুম হারাম হয়েছে। ক্ষণিকের জন্য জীবনে অতিথি হয়ে এসে জীবনের বারোটা বাজিয়ে ছেড়েছে। সে কেনো এসেছিলো জীবনে যদি এমন করেই চলে যাবে! চোখের জল দিয়ে মনের এত বেশি দুঃখ প্রকাশ করা যায় কী? কথা দিয়ে হৃদয় নিয়ে পাথর দিয়ে হৃদয় ভেঙে চুরে চলে গেলো নির্বিধায়। একরত্তি একটি মেয়ের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে বুঝেছি কাকে বলে প্রেমের বাজার!

মেহেদীর এমন বুক ভাঙা উক্তিতে কেউ একটু আফসোসও প্রকাশ করলো না। বরং কেউ কেউ হেসে নিলো। জনি বললো, কালকের খেলার খবর জানেন? মুশফিক সেঞ্চুরি করেছেন, বাঘ কারে কয়!

তানভীর জনির কথায় কান না দিয়ে রায়হানকে ডেকে বললো, কাল একটা হিন্দী ফিল্ম দেখলাম। যা সুন্দর…

তানভীরের কথা শেষ না হতেই রায়হান বললো, বাংলা ছবি দেখো। বাংলা হলো প্রাণের ভাষা। এই দেশের মাটির সোঁধা গন্ধে প্রাণটা ভরে।

কোথা থেকে লিংকন হাতে কাগজ নিয়ে ছুটে এলো। কবিতা লেখে ও। নতুন কবিতা লিখলেই সবাইকে ডেকে ডেকে পাঠ করে শোনায়। আজো সে কবিতা পাঠ করতে চায়, এত স্রোতা একত্রে সে পায়নি। ও কবিতা পাঠ করতে লাগলো, আশার কুঁড়ি ঝরে গেছে/ মালা দিয়ে কী হবে?/ স্বপ্নের সাথী হয়ে আজো তুমি আছো হৃদয়ের কাছাকাছি/ কেনো অজান্তে মনে দোলা দাও?/ কেনো মনটাকে ছুঁয়ে যাও?/ আজ আছি একা নিঃসঙ্গ বিরহী নক্ষত্রের মতো/ সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে ভেসে যাচ্ছি/ তোমার কথা মনে পড়লে কিচ্ছু ভালো লাগে না/ তোমার জন্য এতো অশ্রুক্ষরণ আর তুমি কিভাবে ভাসো সুখ সাগরে?/ যদি কথা এক সাথে দিই তবে কেনো একা আমি পথ চেয়ে রই?/ দয়া করে ফিরে এসো চিন্তার করিডোরে।

কবিতা পাঠ শেষে লিংকন মুখ তুলে দেখে মেহেদী ছাড়া কেউ নেই। মেহেদী বললো, কবিতাটা আমাকে দে।

লিংকন বললো, তোকে দেবো কেন্? পেপারে দেবো। যা। 

লিংকনের পিছন পিছন মেহেদী চলে গেলো। আমি কিছুক্ষণ পড়ার চেষ্টা করে যখন পড়াতে মন বসাতে পারলাম না তখন সুধাকে ফোন দিলাম। স্কুল কলেজের বন্ধুগুলো খুব ক্লোজ হয়। একই অঞ্চলের তো তাই। সুধাকে ফোন দিয়ে বন্ধুদের কথায় বলাবলি করি। কে কোন ভার্সিটি পড়ছি এসব নিয়ে। বললাম, ইউনুছ, মিঠুন দিনরাত পড়েও রেজাল্ট করতে পারছে না। 

সুধা বললো, লাকী, জামেনা ওরা তো সব পরের ঘরে চলে গেছে। রাবেয়া তো বিয়ে করার জন্য মুখিয়ে আছে। চার বছর ধরে প্রেম করছে। আমার সময় কাটে না। কখনো পড়ি, কখনো একা একা হাটি। এই মতি, তোর ভার্সিটির ভালো দেখে একটা ছেলের সাথে আমার যোগাযোগ করিয়ে দে না! আমি প্রেম করবো। আমার প্রেম করার শখ চেপেছে। বান্ধবীরা প্রেম করে, মজা করে, গিফট পায়।

আমি বললাম, ভালো বন্ধুর সাথে তোর বন্ধুত্ব করিয়ে দিলাম। গণ্ডগোল বা ব্রেকআপ হলে আবার আমায় দোষ দিবি নাতো? 

সুধা একগাল হেসে বললো, ওরে ভালোবাসার জন্য কী ভালোবাসবো! পাগল নাকি তুই! জাস্ট টাইম পাস! 

আমি সুধার কথা শুনে বিস্মিত হলাম। বললাম, তুই কোন হৃদয়ের জানি না। সব পারিস। 

সুধা আমাকে বললো, আমার বাবা মা আমার বড় তিন বোনকে নিজ হাতে বিবাহ দেছেন, আমার তিন বোনই অনেক সুখী। আর আমাদের বান্ধবী গোলাপী, বয়ফ্রেন্ডের হাত ধরে বিবাহ করলো। ছেলেটা এখন সময় দেয় না। টর্চারও করে। গোলাপী কল করে আমাকে সব বলে, কান্না করে। বাবা মায়ের কাছেও যেতে পারছে না৷ তাই বলছি, বাবা মা যার হাতে আমাকে তুলে দেবে তাকে ঘিরেই স্বপ্ন দেখবো। এখন অনলি এনজয়। দিবি কোনো বন্ধুর নাম্বার?

আমি সুধার এহেন আবদার রক্ষা করিনি। হাসানকে কল দিলাম। ও ঢাকার একটা কলেজে পড়ে। আমরা একত্রে ইন্টারমিডিয়েট এ পড়েছি। নারীর এমন চরিত্র হাসানের কাছে বললাম। সুধার নাম বলিনি, কারো নাম ধরে বলাও ঠিক না তাই। হাসান তো আমার কথা বাগানে ফেলে দিলো। সে বলে, নারী যাকে ভালোবাসে মন প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসে। ছেলের মন ফিরতে চাইলেও মেয়ের মন ফেরে না। 

বুঝলাম অলোকের মতই হাসানও নারীপ্রেমিক। এদের বলে লাভ নেই। হাসান বললো, জানিস তো আমিও প্রেম করি। কত ভাল মেয়ে ও। ওর জন্যই আমার জীবনটা রঙে রঙে রঙিন হয়ে উঠছে। তোর বান্ধবীকে নম্বর দে। জড়িয়ে গেলে বুঝবে কারে বলে টাইম পাস!

ক্যাম্পাস থেকে ফিরছি। পথে সজীবের সাথে দেখা। এক সাথে আসছি। ও বললো, মতি ভাই, সব কিছুতেই ভেজাল। কিছু একটা যে কিনে খাবো, ভেজালের ভয়ে তা আর হয়ে উঠে না।

আমি বললাম, সব খাঁটি ভালো না। খাঁটি সোনায় অলংকার হয় না, খাঁটি সত্য কথা বিশ্বাসযোগ্য হয় না, খাঁটি প্রেম অনেক সময় পরিণতি পায় না। 

অলোক আমাদের সাথে যোগ দিলো। বললো, বাসস্টান্ডে একটা মেয়ে দেখলাম, বড় আবেদনময়ী। সাগর চোখে খুশীর পরাগ। যৌবনার পোশাকের কী বাহার! আহ, বুকটা ভরে গেছে।

সজীব অলোকের কথায় সমর্থন করে বললো, তোমার সাথে ঘোরা দরকার। আমরা তো সুন্দর মেয়ে দেখি না। ডাইনিং-এ খেয়ে কেউ গেলো টেলিভিশন রুমে, কেউ গেলো পত্রিকা রুমে, কেউ নিজ রুমে গেলো ঘুমাবে। আমিও রুমে গেলাম। রুমমেট রুমে নেই। ও হয়ত নামাজে গেছে। পরীক্ষাটা আজ তেমন ভালো হয়নি। এদের সাথে শেয়ার করলে বলবে রেজাল্ট দিয়ে কী হবে? পাশ করলেই যথেষ্ঠ। সুধাকে ফোন দিলাম। ও আমায় সান্ত্বনা দিতে পারে। বললাম, আজ পরীক্ষাটা কেমন দিলাম বুঝতে পারছি না। মনে হয় ভালো হয়নি।

সুধা বললো, সব যদি লিখে এসে থাকিস, ভালো নম্বর পাবি। 

বললাম, সব লিখেছি। 

সুধা বললো, তবে নিশ্চিন্তে থাক। পরের পরীক্ষা দেয়ার পর দেখিস মনে হবে আজ যে পরীক্ষা দিছিস এটিই ভালো হয়েছে। আচ্ছা, আমাকে নম্বর দিচ্ছিস না কেন্? আমাকে কিন্তু এ বিষয়ে এড়িয়ে চলছিস!

আমি মনে মনে ভাবলাম, এখনো ওর টাইম পাস করার খায়েস যায়নি? হাসান যেভাবে বলেছে, জড়িয়ে গেলে তো মসিবত। 

সুধা আবার বললো, দিবি না?

আমি পড়ে গেলাম দ্বিধায়। দেবো, না দেবো না এ নিয়ে এবং দিলে কার নম্বর দেবো এ নিয়ে।

সুধা বললো, বুঝেছি তুই বন্ধু হওয়ার অযোগ্য। বলেছি তো প্রেম করবো না, তোর ক্যাস্পাসের গল্প শুনবো, সে কিসে পড়ে, কী হবে জীবনে এসবই শুনবো।

আমি অনেক ভাবলাম, আলীর নম্বর দেবো, না অলোকের নম্বর দেবো। আলী নারী বিদ্বেষী। নারীর পাল্লায় পড়ে আলীর কী অবস্থা হয় এটা দেখার লোভ জাগলো। ওর নম্বরটাই দিলাম। সুধা খুব খুশী হয়ে বললো, কৃপণ?

আমি বললাম, অকারণে তো তোকে কেউ কল দেবে না। প্রথম প্রথম তুই কল দিয়ে মজা ধরিয়ে দিবি।

সুধা এবার বললো, একটা নম্বরে হবে না। একজনে টাইম পাস হবে না। আর একটা নম্বর দে। 

আমি বললাম, আমি নেই? আমার সাথে টাইম পাস করবি না আর?

সুধা বললো, তোর হিসাব আলাদা। তুই চিরজীবনের বন্ধু। তোর সাথে টাইম পাস করবো না। ভালো বন্ধুদের সাথে কেউ টাইম পাস করে না। দে, আরো একটা নম্বর দে।

এবার কার নম্বর দেবো তাই ভাবলাম। ব্যর্থ প্রেমিক মেহেদীর নম্বরটাই দিলাম। দেখি ওর জীবনে কোনো পরিবর্তন আসে কিনা! সুধা দ্বিতীয় নম্বর পেয়েও খুশী। বললো, সকাল, বিকাল কাটবে ভালো এবার। তোকে অনেক ধন্যবাদ।

আমি বললাম, খবরদার ওরা যেন জানতে না পারে আমি তাদের নম্বর তোকে দিছি। আমার মান-সম্মান সব যাবে।

সুধা আমাকে নিশ্চিন্তে থাকতে বললো। আমি সুধার এই কাণ্ডে রীতিমতো বিস্মিত। হাসানকে ফোন দিলাম। বললাম, হ্যাঁরে, তোর প্রেমের কী খবর?

হাসান বললো, বন্ধু, জীবনটা ওর জন্য পূর্ণতা পেয়েছে। ও অনেক ভালোবাসে আমাকে। 

আমি বললাম, ভালো। সব মেয়ে তো আর এক না। আমার সে বান্ধবীকে দুটো নম্বর দিলাম। ওমা! কী খুশি সে!

হাসান বললো, যাদের নম্বর দিছিস তাদের সাথে যোগাযোগ রাখিস। তোর বান্ধবী তাদের সাথে কথা বলে কীনা জানাবি। তোর ভার্সিটির মেয়ে এত খারাপ, ছি!

আমি হাসানকে বললাম, কোনো একজনের জন্য গোটা ভার্সিটিকে দোষারোপ করা ঠিক না।

হাসান আমার কথাতে সমর্থন প্রকাশ করে বললো, তা ঠিক।

সুধা আর হাসানের সাথে কথা বলে আমি প্রিন্সের রুমে গেলাম। ওর রুমে আসর বসেছে। লিংকন একটা কাগজ নিয়ে চুপ করে বসে আছে। বারবার কবিতাটা পাঠ করতে যেয়ে ও বাঁধা পেয়ে চুপ হয়ে গেছে। কেউ কবিতা শুনবে না। লিংকন তাই ক্ষোভে বললো, মাংসের শরীর পঁচে যায়, শব্দের শরীর বেঁচে থাকে চেতনার প্রতিটি কণায়। কাব্য হৃদয়ের নদী হয় নাব্য। কবিদের মূল্যায়ন কী তোরা করতে জানিস?

মেহেদী বললো, তুমি কবিতা পাঠ করো। 

লিংকন অন্তত একজনের রাজি হওয়াতে উৎফুল্ল হয়ে কবিতা পাঠ শুরু করলো, প্রেম হলো চোখে চোখ পড়া/ লাজুক কিংবা মুচকি হাসি/ অপেক্ষা, ইতস্তত কথা/ চার চোখের মিলন/ আনন্দের মহাকাব্য কিংবা লক্ষ কোটি অশ্রুকণা/ ইঞ্চি ইঞ্চি বৃষ্টিপাত/ অানলিমিটেড দুঃখমালা/ বৃহদাংশ খাঁটিসোনা/ নকশি কাঁথায় স্বপ্ন আঁকা/ প্রতিশ্রুতির হিমালয়/ বিশ্বাসে পঁচন কিংবা বিশাল স্বার্থ, কাম/ বর্গমাইল অনিঃশেষ অশ্রুপাত/ বেদনার বিষাদ সিন্ধু।

অলোক আর মেহেদী হা করে কবিতা শুনলো। বাকরুদ্ধ তারা দুজন। আলী বললো, নারীকে বাদ দিয়ে কবিতা লিখতে পারিস না?

অলোক বললো, নারীকে নিয়েই কবিতা লিখতে হয়। কবিতা মানেই নারী।

রায়হান বললো, দেশ নিয়ে কিছু লেখো। সার্বিক সমস্যা সমাধানের নিমিত্তে কিছু লেখো, কবি। 

সব্যসাচী বললো, খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে কিছু লিখতে তো পারো। প্রেমের সস্তা কবিতা দিয়ে তো দেশ জাতির কিছু হবে না।

সব্যসাচীর কথাকে মেহেদী মেনে নিতে পারলো না, বললো, প্রেমের কবিতা সস্তা? সবচেয়ে বাস্তব প্রেম। লিংকন, তুমি প্রেমের কবিতায় লিখবে।

অলোকও মেহেদীকে সমর্থন করাতে আলী ক্ষেপে গেলো, বললো, যদি প্রেমের কবিতা লেখো তবে অলোক আর মেহেদীকেই শোনাবে। আর কেউ শুনবো না। অলোক আর মেহেদী ব্যতীত আর সবাই আলীকে সমর্থন দিলো।

পরদিন ক্যাম্পাস থেকে আসতেই মেহেদী আমার কাছে এলো। ওকে খুব উৎফুল্ল দেখাচ্ছে। এত উৎফুল্ল ও সাম্প্রতিক সময়ে ছিলো না। ও বললো, মতি ভাই, আপনার বাড়ি না যশোর? যশোর খুব সুন্দর জায়গা। খেজুর গাছ আছে, কপোতাক্ষ নদ আছে। মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি। 

আমি বললাম, হঠাৎ যশোরের এতো প্রশংসা কেন্?

মেহেদী বললো, পরে বলবো মতি ভাই।

আমার বুঝতে বাকি থাকলো না, সুধার সাথে কথা হয়েছে। আলীর খবর কী জানার জন্য ওর রুমের দিকে গেলাম। আলী বললো, মতি ভাই আসেন, বসেন। আপনার সাথে কথা আছে। সবাই আমাকে নারী বিদ্বেষী বলে। আসলে আমি ভেবে দেখলাম, আমি ভুল। নারীর কোমল হৃদয়ের সংস্পর্শে যে কোনো পুরুষ মোমের মতো গলতে বাধ্য। নারীত্বে বিলীনে পুরুষের অমিয় সুখ। শুধু কণ্ঠ শুনে যদি মন এত ভালো হয়ে যায় তবে তার ছোঁয়া পেলে জীবন ধন্য হয়ে উঠবে।

আমার বুঝতে বাদ থাকলো না দুজনের সাথেই সুধা কথা বলেছে। দুজনকেই একদিনে কুপোকাত করে ফেলেছে। বাইরে গিয়ে হাসানকে ফোন দিলাম। ও ফোন ধরেই বললো, নিশ্চয় ঐ দুই ছেলের সাথে তোর বান্ধবী কথা বলেনি!

আমি বললাম, তোর ধারণা ভুল। বলেছে। দুজনকেই সে ধরাশায়ী করে ফেলেছে। 

হাসান এতক্ষণে বললো, মেয়েদের চরিত্র বোঝা দায়। রাজা বাদশারা তাই ওদের প্রলোভনে বলি হয়েছে, আর আমরা তো সাধারণ মানুষ। তোর বান্ধবীর এসব খবর যদি যাদের নম্বর দিছিস ওরা জানে তোদের সম্পর্কে প্রভাব পড়বে নাতো? 

আমি ভ্রূ কুঁচকে বললাম, সত্যই ফ্যাসাদে পড়েছি। মেয়েদের সাথে কথা না বলাই উচিত। অনভিজ্ঞতার জন্য বিপদে পড়, বেশি বুদ্ধির জন্য ফাঁদে পড়ে আর বলে নারীর ক্ষমতায়ন নেই। 

বন্ধু দেখলাম তবুও নারীর পক্ষে, ও বললো, ওরা আছে বলে স্বপ্ন দেখি। বাঁচার মতো বাঁচি। আমার মনে হয় তোর বান্ধবীকে বোঝানো উচিত। শুরুতেই থামানো দরকার। 

আমি সুধাকে ফোন দিলাম। সুধা বললো, মেহেদী সাজিয়ে গুছিয়ে কথা বলে। আলী নিজেকে খুব বেশি প্রকাশ করে। মেহেদী ফুলে বসা বিমুগ্ধ মৌমাছির মতো, একমনা। আলী নদীর মতো চঞ্চল, হরিণের মতো উচ্ছল। তবে দুজনই মাছের মতো, খাদ্য পেলে মৃত্যুফাঁদও মাড়াতে  ভুল করবে না।

সুধার বিশ্লেষণ ভালো লাগলো। একদিনে মানুষ চিনে নেছে। বলতে হয় মেধা কী!

আমি বললাম, খবরদার মুখে আমার নাম নিবি না। আমি ভাই গা বাঁচিয়ে চলা মানুষ। ডাল দিয়ে ভাত খাই সোজা পথ দিয়ে হেটে চলে যাই।

সুধা আজো আমাকে নির্ভয় দিলো। 

কৌতূহল থেকেই আমি মেহেদীর রুমে গেলাম। সব্যসাচীও পিছন পিছন এলো। বললো, মতি তো ঘর থেকে বেরই হতো না। এখন দেখি এর ওর রুমে ঘুরে বেড়ায়। 

আমি বললাম, মুক্তোভরা ঝিনুক পেলে পিষে যাওয়া একটা মানুষ আবার কী করে জীবনের দিশে পায় তাই দেখার জন্য এলাম।

মেহেদী লাজুক হেসে বললো, মতি ভাই কী যে বলেন! জীবনে মন্দঘন ঘটনা অানন্দঘন ঘটনা থাকবে। এ নিয়েই জীবন। মানুষ দুঃখে ম্রিয়মাণ, সুখে বিহ্বল হবে এটাই স্বাভাবিক। মাঝে কিছুদিন আমার বিষাদে গেছে, এখন আবার জীবনে সুস্বাদ ফিরেছে।

সব্যসাচী বললো, পিষে যাওয়া থেকে মোড় ঘুরিয়ে ফিরে আসার নামই জীবন। প্রতিটি মানুষের মধ্যেই আছে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি। রাত্রির অবসানের পর জীবনে আবার ঊষার আলো ফোঁটেই।

আলীও যোগ দিলো। আলীকে দেখে বললাম, ইদানিং আলীকে খুব লাজুক টাইপের দেখা যাচ্ছে। অনুভূতির তলদেশে ঘুরে ঘুরে মনে হয় জীবনের ঋজু পথ খুঁজে পেয়েছে!

আলী বিজ্ঞজনের মতো করে বললো, যে হাসি ভাবাতে জানে, যে কণ্ঠস্বর তোলপাড় তুলতে জানে; সে হাসি, সে কণ্ঠস্বরের ঠিকানা যদি পাওয়া যায় জীবনে পরিবর্তন আসেই। মন আকুলি বিকুলি করে শ্রুতিমধুর কথা শুনে। কথায় কী জাদু, কণ্ঠে কী মধু, হাসিতে কী অমৃত, আহ!

আলীকে সমর্থন করে মেহেদী বললো, কখনো ভাবিনি আমার জীবনে আবার সূর্যালোকের রশ্মি পড়বে! জীবন আবার রংধনু রঙে রাঙবে! মরে যাওয়া মনে নতুন করে ঢেউ জাগবে! ভালোবাসায় সৃজন ডালপালায় গোলাপ ফোঁটেরে, গোলাপ ফোঁটে।

রায়হান এসেই বললো, সবাইকে বেশ চনমনে লাগছে। কারণ কী?

আমি বললাম, কার মনে কী যে দোলা দিচ্ছে সেই জানে! মনের গোপন কথা কেউ কী বলে! গোপন কথা বললে কী আর গোপন থাকে! 

রায়হান বললো, সবার মনে ভালো লাগা থাকাটাই ভালো। অন্তরের সুজনকে লালন করে, অন্তরের হিংসার লাগাম টানতে পারলেই সুখ সহজলভ্য হবে।

অলোক রায়হানের কথা শুনে বললো, এজন্যই সামাজিক হয়ে মেতে উঠতে হবে নির্দোষ আনন্দে। অশ্রুর সরোবরে ফুঁটবে ভালোবাসার কমল। হিংসা সর্বদা নতজানু প্রেম ভালোবাসার কাছে।

সব্যসাচী বললো, শান্তির জন্য কবুতর উড়িয়ে দিই, শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়, শান্তি কিন্তু হয় না। শান্তির জন্য ছাড় দিয়ে অগ্রসর হতে হয়। অহিংসার ধারা যত বইবে হিংসার ধারা তত কমবে। শান্তির বাতাস তত বইবে। পৃথিবীটা কবে হবে প্রেমময়ে ভরা!

অলোক বললো, শান্তিপ্রিয় মানুষের সংখ্যা মুষ্টিমেয় নয়। শান্তিপ্রিয়রা সংযত থাকেন। আজ কোনো তর্কতর্কি নেই। মন ভরে আছে অজানা সুখানুভবে। স্বপ্ন যতই অমূলক হোক, স্বপ্ন দেখতে মানা কেনো? সব সৃষ্টি স্বপ্নের হাত ধরেই।

আমাদের মাঝে লিংকন কবিতা নিয়ে হাজির। এসেই বললো, প্রেম ভালোবাসার কবিতা তো তোমরা কেউ শুনবে না, তাই আজ একটা বিদ্রোহ ভাবাপন্নের কবিতা এনেছি। অনিয়মের শিকড় উপড়ে ফেলার মতো জ্বালাময়ী কথা দিয়ে কবিতা লিখেছি।

আলী বললো, আমরা আজ প্রেম ভালোবাসার কবিতা শুনবো। প্রেম ভালোবাসায় জীবনের শ্রেষ্ঠ জিনিস। জীবনকে পৌঁছে দেয় জীবনের কাছে।

অলোক আলীর দিকে চেয়ে বললো, তুমি একটা গাঁধা, জল খেলে ঘোলা করেই। প্রেমে কেউ দেউলিয়া হয় না। প্রেমে অবিশ্বাস করা পাপ। মানব জীবনের পাতায় পাতায় প্রেম।

মেহেদী বললো, আমরা বিদ্রোহী কবিতা শুনবো না। প্রেমের কবিতায় শুনবো। প্রেম থাকলেই পৃথিবী সুন্দর হবে। বিদ্রোহ কখনোই জাগবে না।

রায়হানও একমত হয়ে বললো, যাও লিংকন, প্রেমের কবিতা নিয়ে এসো।

লিংকন প্রেমের কবিতা আনতে নিজ রুমে গেলে আমি আসর থেকে বের হয়ে পড়লাম। সুধাকে ফোন দিলাম। বললাম, তুই তো মেহেদী আর আলীকে পাগল করে ফেলেছিস!

সুধা বললো, ওরা আমাকে গিফট দিয়েছে। ওরা খেজুরের রস খেতে চেয়েছে। আমি ওদের কপোতাক্ষ নদের ঘোলা জল খাওয়ায়ে তবেই ছাড়বো।

সুধার কার্যকলাপ সুবিধাজনক ঠেকছে না। হাসানের সাথে বিষয়টি আবার শেয়ার করলাম। বললাম, আমার ভার্সিটির ঐ দুই ছেলে তো স্বপ্ন দেখা শুরু করেছে।

হাসান বললো, যে যাকে ভালোবাসে সে তাকেই চায়, তাকেই ভাবে। তার জন্য অপেক্ষা করে, তার অপেক্ষায় রোদে পোড়ে, বৃষ্টিতে ভেজে। ভালোবাসার বাঁধন বড় কঠিন বাঁধন।

আমি বললাম, আমার বান্ধবীকে নিয়ে আছি চিন্তায়। ডটকমের যুগ। কবে না ধরা পড়ে যাই!

হাসান বললো, তোর বান্ধবী খুব সেয়ানা। এসব শেয়ানা মেয়ের সাথে তোর বন্ধুত্ব হয় কী করে? তোকেও তবে তো ঠকাচ্ছে, খাটাচ্ছে, নাচাচ্ছে, বুঝতে পারছিস না। দিবি তোর বান্ধবীর নম্বরটা আমাকে? 

আমি বললাম, তুই তো তিন বছর প্রেম করছিস? আমার বান্ধবীর নম্বর নিবি কেন?

হাসান বললো, আমি কী প্রেম করবো? কত সেয়ানা মেয়ে একটু দেখতাম। দে, তোর বান্ধবীর নম্বরটা দে।

হাসানকে এখনি সতর্ক করা দরকার। তাই আর কথা লুকিয়ে রাখা ঠিক হবে না। বললাম, আমার ঐ বান্ধবী আমার ভার্সিটির না। ওর নম্বর তোর কাছেও আছে। এবং প্রতিদিন সেই নম্বরে তোর চোখ যায়। আমাদের বান্ধবী সুধা আজ আর সেই সুধা নেই। পুরুষ নাচিয়ে বেড়ায় সে।

সুধার নাম শুনতেই হাসান চুপ হয়ে গেলো। ঐ সুধার প্রেমেই যে গত তিন বছর ও অন্ধ হয়ে আছে।

শ্যামাপ্রসাদ সরকার <img class="alignnone wp-image-6202" src='https://sp-ao.shortpixel.ai/client/q_lqip,ret_wait/https://www.lipimagazine.com/lipicontent/uploads/2021/06/শ্যামাপ্রসাদের-224x300.jpg' data-src="https://www.lipimagazine.com/lipicontent/uploads/2021/07/Verification-Badge-4.svg" alt="" width="17" height="17" />

শ্যামাপ্রসাদ সরকার

কলকাতা

প্রণয় সম্ভাষণ

মধ্যরাত্রি অতিক্রান্ত হতে সামান্য অবশিষ্ট। দক্ষিণ কোশল রাজ্যের এই অঞ্চল পার্বত্য অধ্যূষিত ও জঙ্গলাকীর্ণ। নুড়ি ও ক্ষুদ্রকায় প্রস্তরখন্ডের উপর গুরুনিতম্বী কামিনীদের ন্যায় অলস ছন্দে রোহিত নদী ক্ষীণ শব্দে প্রবাহিতা। বর্ষায় এটি আয়তনে সামান্য বৃদ্ধি পেলেও শীতে সে এমনই শীর্ণকায়া। নদীতীরের অদূরে কিছু গুহামুখ নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে রহস্যাবৃত হয়ে সুপ্ত। তারই একটির অভ্যন্তর হতে প্রস্তর ও লৌহ শলাকার সংঘর্ষহেতু মৃদু ঝনৎকার নিশীথের স্তব্ধতাকে কিঞ্চিৎ বিড়ম্বিত করছে।

কিছু পল অতিক্রান্ত হলে অদূরে একটি ধূমায়িত শিখা গোচর হল। একটি সুঠাম দেহী কৃষ্ণকায় যুবা গুহাভ্যন্তরে মৃদু প্রদীপশিখায় পার্বত্যগুহাগাত্রে কিছু লিপি উৎকীর্ণ করায় নিমগ্ন ছিল। ওই ঝনৎকার তারই স্বকৃত। যুবক পাটলিপুত্রবাসী। তার নাম দেববর্ম্মা। সে ও তার সাথীবৃন্দ কোশলাধিপতি বিশাখদেবের আদেশে একটি কারুকার্যমন্ডিত মনোরম নৃত্যসভা ও শতআসনবিশিষ্ট মল্লযুদ্ধভূমিবীক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণে শোণনদীর অপর প্রান্তে এই স্হলে আগত প্রায় বৎসরাধিক কাল থেকে। তাদের এতদিনে নিযুক্ত কারুকৃতি সমাপ্ত। প্রস্তরের বেদী ও অসামান্য ভাস্কর্য সমণ্বিত এই নির্মাণ প্রসন্ন করেছে কোশলরাজ ও তাঁর পারিষদবর্গকে। সাম্মানিক অর্থ ও অতিরিক্ত পারিতোষিক পূর্বাহ্নেই রাজকোষ থেকে তারা সকলে প্রাপ্ত হয়েছে। সাথীগণ আপাতত শিবিরে নিদ্রামগ্ন।কাল প্রত্যূষেই পুনরায় মলয়াদ্রি পর্বতের নিকট কাঞ্চীদেশের পথে যাত্রা শুরু হবে। কিন্তু দেববর্ম্মা বিনিদ্র, বোধকরি কোনও সমাগতার পূর্বপ্রতীক্ষায় সে ঈষৎ উদ্বিগ্ন। উত্তেজনা প্রশমনের নিমিত্তেই সে যেন গুহাগাত্রে ব্রাহ্মীলিপিতে কিছু উৎকীর্ণকর্মে যেন ব্যাপৃত ছিল।

ধূমায়িত বর্তিকাটি নিকটবর্তী হলে এক অবগুন্ঠিতা দৃষ্টিগোচর হয়। সর্বাঙ্গ কৃষ্ণকায় বস্ত্রে আচ্ছাদিত হলেও তার দেহভঙ্গিমাটি বড় মনোহরা। সে একজন নবীনা। যৌবনের কুসুমাদি তার দেহতনুকে পারিপাট্যে সাজাতে কার্পণ্য করেনি। তার চলনে রয়েছে নৃত্যের নিপুণতা। নবীনাটি প্রকৃতই নৃত্যে ইতিমধ্যে সুখ্যাতা। কিন্তু সে নিছক নটী অথবা বারবধূ নয়। আজন্মকাল সে সোমেশ্বর শিবের উদ্দেশ্যে নিবেদিতা। তার পরিচয় দেবদাসীশ্রেষ্ঠা রূপদক্ষা নামে।
রাজআনুকূল্যে রূপদক্ষার এই অনুচরীদের সংখ্যা আপাততঃ বিংশতি সংখ্যা পূর্ণ করেছে। আগামী সংক্রান্তির দিনে সোমেশ্বরের বিশেষ পূজা ও এই নৃত্যসভাগৃহের উদ্বোধন। তারই মহড়ায় তারা ইদানীং সর্বদা ব্যস্ত।

দেববর্ম্মা গুহার বর্হিদ্বারে এসে দাঁড়ায়।
অবগুন্ঠিতা রমণীটি এবারে বস্ত্রাঞ্চল সরিয়ে আকূল স্বরে ডাকে ‘দেবদিন্ন !’ এই আহ্বানটি তার নিজস্ব। পরিবর্তে তারও একখানি নাম আছে যা দেববর্ম্মার প্রদত্ত। রূপদক্ষার সুকুমার মঞ্জরীত দেহতনুটি বহুবার মসৃণ প্রস্তর আর জলপ্রপাত বিধৌত শিলাখন্ডের উপর চকিত বিদ্যূতের ন্যায় কতবার যে তাকে চমকিত করেছে নৃত্যের ছন্দে ! তাই তো সে তার একান্ত ‘সুতনুকা’।

হঠাৎই নায়িকার কন্ঠ যেন ঈষৎ বাষ্পযোগে কম্পিত শোনায়। দেববর্ম্মা মাথা নীচু করে বলে ‘তোমার অনুমান সঠিক। কালই প্রত্যুষে আমরা দক্ষিণঅভিমুখে যাত্রা করব। ‘

নায়িকাটির ব্যর্থতার নিদারুণ অভিমান যেন হঠাৎ স্ফূরিত হয় তার ওষ্ঠপ্রান্তে !

‘তাহলে আমাদের শুভপরিণয়? আর এই পর্বতসঙ্কুল গুহামন্দির থেকে নিষ্কৃতি? মিথ্যা স্বপ্নজাল রচনার কারণ?’

দেববর্ম্মা কিয়ৎকাল নতশিরে স্তব্ধ হয়ে থাকে।
ধীর অথচ দৃঢ় স্বরে সে উত্তর দেয়। তার প্রণয়ের সততা সংশয়াতীত। কিন্তু এই রাজানুগ্রহের সচ্ছ্বলতা পাটলিপুত্রে সে যে প্রদানে অক্ষম। তার জীবিকা দেশ থেকে দেশান্তরে। সেখানে তার কুটিরটিও পর্ণের, আর সে সম্পূর্ণ একাকী যাযাবরের ন্যায় বাস করে। সতত সঞ্চারমাণ মেঘখন্ডের মত সে স্হায়ী শিকড়হীন, নিতান্তই অযোগ্য।
রূপদক্ষার রূপ আর নৃত্যের সৌকর্য্যে সে বিনামূল্যে তার সামান্য জীবন বিনিময়ে প্রস্তুত কিন্তু সে তার প্রাণাধিকা ‘সুতনুকা’র স্বামীর দায়িত্বপালনে অক্ষম। তার দরিদ্র সংসারে ‘সুতনুকা’র মতো অগ্নিশিখা ধারণের সে শক্তি কোথায়? সম্ভবপর হলে সে আজ রাত্রেই যাত্রা করত সবার অলক্ষ্যে। কিন্তু একটি কাজ বাকী রয়ে যাওয়ায় সে স্হানত্যাগ করতে পারেনি।

র‍ূপদক্ষা অভিমানে ঈষৎ ক্ষুব্ধা হয়। দেববর্ম্মার ভীরু প্রণয়ে তার নবীন হৃদয় অপমানিত বোধ করে। বৎসরকালের প্রতিটি যাপিত মধুময় দিবস রজনী সকলই নিষ্ফলা মনে হয় এক লহমায়। নিজের কুসুমিত পূর্ণযৌবনশ্রী এই অকর্মণ্য ভীরু যুবাটিকে অর্ঘ্যপ্রদানের এতদিনের বিবেচনাকে বড়ই অর্বাচীনের মত ভ্রান্তিকর বলে মনে হয়। বৃথাই সে রাত্রির মধ্যযামে স্বয়মাগতা হয়ে এসেছে আজ। তার কাছে সমগ্র চরাচর মিথ্যা প্রহেলিকায় পরিণত হয়ে যায়।

ক্ষোভগর্বিত পদক্ষেপে, নুপূরনিক্কণে রাত্রিশেষের সুষুপ্তিকে অনুরণিত করে রূপদক্ষা ফিরে যায় নিজগৃহে, চিরজন্মের মত বিস্মরণের আড়ালে সে অবদমিত করে পশ্চাতে ফেলে যায় ‘দেবদিন্ন’ ও ‘সুতনুকা’ নাম্নী দুই নায়ক নায়িকার অপূর্ণ ব্যর্থকাম এক প্রণয়কাহিনী।

এদিকে ঊষালগ্নেই দেববর্ম্মা আর তার সহকারীগণ কোশল ত্যাগ করে হস্তিপৃষ্ঠে যাত্রা শুরু করে দ্রাবিড়ভূমির পথে।

ভোরের প্রথম অরুণরাগে রক্তিমতায় উদ্ভাসিত হয় গুহাগাত্র সহ সমস্ত প্রস্তরপুরী। তারই একটি অংশে উৎকীর্ণ কয়েকটি ব্রাহ্মীলিপি সূর্যালোকে আবিষ্কৃত হয়।

“সুতনুকা নামা দেবদাসীক্যা
সুতনুকা নামা দেবদাসীক্যি!
ত্বম কামায়িতা (বল) ন সেআ
দেবাদীন্না নামা লুপ্পদক্ষা।।”

গতরাত্রের সেই ভীরু প্রেমিকপ্রবর প্রস্তরগাত্রে রচনা করে দিয়ে গেছে তার অক্ষয় প্রেমের সেই অভিজ্ঞানটি যার অর্থ ‘দেবদিন্ন’ তার নায়িকা ‘সুতনুকা রূপদক্ষা’ কে একদা যে প্রণয় সম্ভাষণ করেছিল, পরিণয়ের অপূর্ণতা তাকে কোনওদিন মলিনতায় ক্লিন্ন করতে পারবে না কখনো।

বদরুদ্দোজা শেখু <img class="alignnone wp-image-6202" src='https://sp-ao.shortpixel.ai/client/q_lqip,ret_wait/https://www.lipimagazine.com/lipicontent/uploads/2021/06/বদরুদ্দোজা-শেখু-258x300.jpg' data-src="https://www.lipimagazine.com/lipicontent/uploads/2021/07/Verification-Badge-4.svg" alt="" width="17" height="17" />

বদরুদ্দোজা শেখু

বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ

অলৌকিক ট্রেন

একটা ট্রেন আসছে।

আমার বিশ্বাসের বিশীর্ণ তট, প্রতীক্ষার ছারখার
চাঁদমারি, আর অস্তিত্ত্বের বিপন্ন বিস্ময় নামক উপত্যকা ধ’রে
একটা ট্রেন আসছে।

আমার শ্রমিক সত্ত্বার ঘামের অমোঘ নদী, সোনালি
আকাঙ্ক্ষার উজানীর মাঠ, আর সাতপুরুষের
ঘুমানো নৈঃশব্দ্যের আরণ্যক প্রান্তর অতিক্রম ক’রে
একটা ট্রেন আসছে।

আমার বুকের বিধ্বস্ত নীলিমার নিসর্গ-প্রচ্ছদ, আড়ষ্ট
অনুভূতির অব্যক্ত ঊর্ণাজাল, উন্মাতাল
ভালবাসার বিহ্বল বিবর্ণতা, আর
ভদ্রতার পরাকাষ্ঠা শিল্পঘ্ন সমাজ ভেদ ক’রে
একটা ট্রেন আসছে।

আমার চিন্তার নির্দল নিজস্ববোধ, চেতনার
মর্চে-পড়া ঝোপঝাড়, আদর্শের
বলি হওয়া বিশ্বাসের রক্তাক্ত সোপান, আর মানুষ নামক এক
অবিভাজ্য পার্থিব জীবের সাথে আত্মীয়তার আঙিনা উচ্চকিত ক’রে
একটা ট্রেন আসছে।

তোমরা বানাও ধাতব শহর, বৃক্ষদের
বংশে হানো নির্মম কুঠার, স্তূপীকৃত করো
চৈতন্যের কবরখানায় তেজস্ক্রিয় আবর্জনা, কফিন বানাও
আমার কণ্ঠের যৌবনের নির্ভীক মলোইসকে,
তবু আমার সত্ত্বার—

দ্বিখণ্ডিত বঙ্গদেশ
বর্ণবৈষম্যবাদ-বিরোধী বাঙ্ময় আফ্রিকা
বিপর্যস্ত বাউল সঙ্গীত
স্পন্দন-মুখর সবুজ পাতার প্রেম
প্রজন্মের পরাস্ত প্রয়োজনের দৈনন্দিন দিকচক্রবাল
তোলপাড় ক’রে তীব্র হুহু শব্দে এ-ফোঁড় ও-ফোঁড় ক’রে
ছুটে আসছে আমার একান্ত অনুভূতির শব্দশ্রেণীর শৃঙ্খলাবদ্ধ ট্রেন।

সাদা পৃষ্ঠার প্ল্যাটফর্ম দিয়ে
ওকে পাশ করিয়ে দিই গন্তব্যের দিগন্তের উদ্দেশ্যে,
তারপর প’ড়ে থাকি
ধূসর প্রান্তরে যেমন শূন্য রেললাইন কংক্রীটের কঙ্কাল;
কখনো-বা, একটা ট্রেন যেতে না যেতেই
ঘন ঘন তাগাদার বাঁশি দ্যায়
পায়রার মতো নেচে-নেচে-ওঠা বক্ষলগ্ন রাজেন্দ্র শব্দের
অলৌকিক আরেকটা ট্রেন।।

বিষণ্ণ বিকেল

দীপঙ্কর সরকার

বিষণ্ণ বিকেল এক দাড়িয়ে আছে ঠা ঠা
পড়ন্ত রোদ্দুর যেন গায়ে আতর মাখা।
মন খারাপের এই বিকেল সন্ধ্যে ডেকে
আনে, ক্রমে রাত্রি ঘনায় আকাশে ফোটে
তারা। আলো ও হাওয়ার মাঝে বিষণ্ণতায়
ভরা এ বিকেল যেন কাউকে খোঁজে জাগিয়ে
সারা পাড়া।

শূন‍্যতা

হামিদুল ইসলাম

সময় গিরগিটির মতো পাল্টে ফেলছে রঙ

চাঁদের গায়ে বুনো হাঁসের ডানার ঘাম নুন জল চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ছে
স্বপ্নের মতো

অজস্র ধারায় খুবলে খাচ্ছে বৃষ্টি

নৈনিতাল পাহাড়ে ক্লান্ত সূর্য ঘুমিয়ে আছে পাথরে মুখ গুঁজে

আমরা ঈশ্বর পুত্র
অমরত্ব লাভের জ‍ন‍্যে প্রার্থনা করছি দিনরাত

জীবন অথৈ শূন‍্যতা

আশা

সঞ্জীব সেন

ঘুমের ভিতরে কিভাবে দেখি নিজেকে, জানো ছোটবাবু
তোমার ফাল্গুনী নাটকের সেই অন্ধবাউলের কথা মনে আছে,
কিম্বা সেই ছবির অন্ধবালিকা
যার বীণার একটাই তন্ত্রী অবশিষ্ট ছিল
আজ সময়ের দাবীতে তন্ত্রীটি কী অবশিষ্ট আছে !
যে জন্মান্ধ মেয়ে তোমায় প্রেমের ধারনা দেবে বলে ঠোঁট ছুঁয়েছে আঙুলের তীর্থে
আজ সেই স্পর্শসুখের আধিকার চাইতে এসেছি
কখনও আবার কি দেখি, জানো ছোটবাবু
যারা মনের কথা মনেই রেখে দিয়েছে
মুখ ফুটে বলতে পারিনি সংকোচে কিম্বা সংশয়ে
তারা আজ জীবনের প্রান্তসীমায় এসে
প্রেম খুঁজে, পায়,, পেয়েছে গীতবিতানের অক্ষরে অক্ষরে,,,

সঙ্গী

ইসমোতারা খাতুন

একলা আকাশ, একলা বাতাস
একলা হয়ে রই,
তোমরা ভাবো একলা ভীষন
সঙ্গী কেবল বই।
বইয়ের মতো সঙ্গী পেলে
কি চায় আর বলো,
জগৎটাকে মুঠোয় ভরে
তল্পি নিয়ে ‌চলো।
মনের যতো একলা খোঁজা
জানে শুধু বই,
একদিন তাদের সাথে
পরিচয় করাবোই।
তোমার ভেতর রাখতে হলে
থাকবে নাকো কথা,
জানো না সে পাল্টা-কথার
কি তীব্র ব্যথা।
তোমরা ভাবো একলা থাকে
আপনজন নাই,
বিশ্বাস করো এরা কিন্তু
আপনজনই হয়।
কি যে বলি বুঝিয়ে তোমায়
কিসের এতো অভয়,
এদের নিয়ে সারাদিন মনের
বাজনা বেজে যায়।
এরা কিন্তু সঙ্গী ভালো
ভীষন ভালো সই,
এরা থাকতে একলা কিন্তু
নই কখনোই।

সমাপ্ত
  1. লেখা নেওয়া হবে প্রত্যেক রবিবার থেকে শুক্রবার বিকেল ৫ টার মধ্যে। 
  2. লেখা প্রকাশ হবে প্রত্যেক শনিবার সকাল ৯ টায়।  
  3. লেখা পাঠাতে পারেন –
    1. কবিতা
    2. গদ্য
    3. ছোটগল্প
    4. প্রবন্ধ
  4. মেইলে টাইপ করে অথবা MS Word ফাইলের লেখা নেওয়া হবে। 
  5. আপনি কিভাবে লেখা পাঠাবেন তার কিছু নমুনা দেওয়া হলো। – Download 
  6. লেখা পাঠাতে আমাদের এই মেইলটি ব্যবহার করুন – [email protected]
  7. লেখার সাথে আপনার লেখক পরিচিতি, প্রথম পুরুষে, ৬০ থেকে ১০০ শব্দের মধ্যে, এবং আপনার ছবি পাঠান। 
  8. সপ্তাহে একজন একটি বিভাগে লেখা পাঠাবেন। 
  9. লেখা বাছাইয়ের মধ্যে দিয়ে নির্বাচিত করা হবে। 
  10. আবেদনকারীর সমস্ত লেখা নিজের হতে হবে, যেটি অন্য কোথাও প্রকাশিত হয়নি।
  11. লেখার মধ্যে কোনো ব্যাকরণগত ভুল থাকবে না, থাকলে সেটিকে বাতিল করা হবে।
  12. আবেদনকারীকে ফোন নম্বর অবশ্যই দিতে হবে মেইলের সাথে।
  13. পিডিএফ ও পিকচার এর মাধ্যমে পাঠানো লেখা গ্রহণ করা হবে না।
  14. লিপি ম্যাগাজিন ওয়েবসাইটে একাউন্ট তৈরির সময় আপনার লেখক পরিচিতি, ঠিকানা, এবং ছবি আপলোড করতে হবে।
  15. প্রত্যেক মাসে Amazon Kindle প্লাটফর্মে এবং পিডিএফ প্রকাশ করা হবে (মাসের সমস্ত লেখা)
  16. তিনমাস অন্তর সমস্ত লেখা পিডিএফ এবং Google Book or Amazon Kindle with ISBN Number সাথে প্রকাশ করা হবে।   

Share This

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on telegram
Share on email

Editorial Board 

  • Reviewed, Designed & Published by Akshay Kumar Roy (Editor)

For More Information, Click Here

For any type of Suggestion, Question, or Help, please contact us at this mail – [email protected]

Follow Us

0 0 votes
Writing Rating

Related Articles

Saturday Lipi | Bangla | April, 2nd Week

নইমুদ্দিন আনসারী | সঞ্জীব সেন | সৈকত চক্রবর্তী | রবীন জাকারিয়া | সৌমেন দেবনাথ | বনমালী নন্দী | ইলিয়াস খাঁ | গোবিন্দ বর্মন | বদরুদ্দোজা শেখু | তীর্থঙ্কর সুমিত | রূপো বর্মন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

Comments

Please use '@' before Author/Writer name (e.g @John Mark)

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email