Saturday Lipi | Bangla | May, 2nd Week

লেখক

লিপি

দুই পুরুষ

বদরুদ্দোজা শেখু

 

এতো রাতে কে বাজায় মরমীয়া ভাটিয়ালি সুর

বাঁশের বাঁশিতে? কিহে, টা বছরেই সব ভুলে 

গেছো বেমালুম? মনে নেই—কত নিঝুম দুপুর

রাতে অন্ধকার নিঃসঙ্গতার নৌকায় দুলে দুলে

কারুময় মীড় তুলে তুলে ভাঁজতো সে ভাটিয়ালি—

গাঙের গফুর মাঝি,  সেই তোমার নাবিক চাচা,

আজ মরহুম? মোহন মায়ার উন্মন খেয়ালী

সুর চরের ওপার হতে এসে বুকে দিতো ঢেউ,

রে যেতো তখন তোমার বাচ্চা বয়সের কাঁচা

মন কী-এক গৌরবে; মায়াময় হতো রাত, হতো

চাঁদ তারা ছায়াপথ মোহনায় মৌন সমাগত

তার ছেলে আজো সেই ডিঙা বায়, লে উঠে কেউ। 

 

অন্তঃপুর বিস্মৃতির ঝোপঝাড়ে চালাই বুরুশ,

নান্দনিক চেতনার চর রূপ-নারাণের কূলে 

ধীরে ধীরে সমৃদ্ধ  স্মৃতির  সপ্তডিঙা উঠে আসে

সুরের মোহিনী পালে অলৌকিক আবিষ্ট বাতাসে,

আজীবন দড়ি-ছেঁড়া আকাঙ্ক্ষার মোহের মাস্তুলে
দেখি, তন্ময় শিল্পের সেতুবন্ধ  দুইটি পুরুষ।

[adinserter block="1"]
লিপি

এভাবেও সব হয়

মোহন দাস

 

এভাবেও ভালবাসা যায়

হঠাৎ তন্দ্রা ভাঙলে তোমার এলো চুলের ছোঁয়ায়

এভাবেও হয় গায়ে মাখামাখি প্রেম

এক আকাশ প্রতীক্ষা ও দীর্ঘশ্বাসের ধোঁয়ায়

এভাবেও তোমাকে প্রতিদিন বলা যায়

নির্ঘুমে ঘন গহীনে, একটি পূর্ণ মানবীর রূপ নাও

এভাবেও মান অভিমান লুকিয়ে বলতেই পারি প্রত্যহ

আজ যন্ত্রনা হীন ভালবাসা দাও

এভাবেও জীবন কুড়ানো যায়

ভাসানো যায় গোলাপ ফুলের পাপড়ি ছিঁড়ে ছিঁড়ে

এভাবেও তোমায় ভালবাসা যায়
অদৃশ্য সংসার ও ঘর বাঁধা যায় নদী তীরে

লিপি

মুখশ্রুতি

সৌমেন দেবনাথ

 

আমায় নিয়ে আমাদের পরিবার ও গ্রামে মুখশ্রুতি আছে যে, আমি ছোটবেলাতে বই বিক্রি করে ভূতের ডিম খেয়েছিলাম। ভূতের ডিম কোম্পানির দেয়া এক প্রকার মিষ্টান্নের নাম, দেখতে ছোট ছোট মার্বেলের মত, লজেন্সের মত চুষে খেতে হয়

 

বড় হওয়ার পরও যখন দাদু-কাকা সম্পর্কীয়দের মুখ থেকে কথাটি শুনি তখন খুবই বিব্রত হই। মাকে বলতেও মা বলে, হ্যাঁ, ছোটবেলাতে তুমি বই বিক্রি করে ভূতের ডিম খেয়েছিলে। বাবাও তাই বলে। নিজ দাদু আরো রসিয়ে রসিয়ে বলে

 

স্কুল মাঠের সামনে একটাই দোকান। একদিন ভেবেছিলাম দোকানদারকে জিজ্ঞাসা করি। পঁচিশ বছর আগের ঘটনা দোকানদারের কি মনে আছে? তাছাড়া দোকানটা এখন তাঁর ছেলে চালায়। যাহোক, বাড়ি এলে স্কুল মাঠে বসে ছেলেপেলেদের খেলা দেখি। মাখন দাদু অনেক দিন পর আমাকে দেখে জানতে চাইলেন বর্তমানে কোথায় থাকি, কি করছি? উত্তর শুনে খুশি হলেন। তারপর হাসতে হাসতে বললেন, ছোটবেলা এই স্কুল মাঠে তুমি বই হারিয়ে ফেলেছিলে। কি কান্নাকাটি করছিলে! তারপর তোমাকে এক প্যাকেট ভূতের ডিম কিনে দিতেই তোমার মুখে হাসি ফোঁটে। হাসতে হাসতে বাড়ি চলে যাও

বিকালে তোমার দাদুর সাথে দেখা হতেই বলি, তোর নাতি তো বই বিক্রি করে ভূতের ডিম খেয়েছে
তারপর হাসতে হাসতে মাখন দাদু চলে গেলেন। এত বছরের একটা মিথ্যে অপবাদ থেকে মুক্ত হলাম জেনে মনে মনে শান্তি পেলাম

[adinserter block="1"]
লিপি

আসল বিশ্বযুদ্ধ

রূপম শিকদার

 

সবাই ছিলাম বিশ্বযুদ্ধের আশায় আশঙ্কায়, 

কিন্তু হঠাৎ এ কী দেখি,  ভাবতে পরাণ যায়। 

এমনই এক ভাইরাস এল,  করোনা তার নাম

জগৎজুড়ে সব মানুষের ছুটিয়ে দিলো ঘাম। 

এটাই আসল বিশ্বযুদ্ধ, আগের গুলো ফাঁকি, 

কয়েকটা দেশ যোগ দিয়েছে, অনেক ছিল বাকি। 

এই যুদ্ধের একপক্ষে করোনা ভাইরাস, 

গোটা বিশ্বের লোকের মনে ঢুকিয়ে দিল ত্রাস। 

অপরপক্ষে  সারাজগৎ একসঙ্গে লড়ে, 

তা সত্ত্বেও দেশে লক্ষ মানুষ মরে। 

ডাক্তার-নার্স, স্বাস্থকর্মী প্রধান সেনাপতি, 

সাফাইকর্মী পুলিশ ছাড়া হতো যে দুর্গতি। 

একনাগাড়ে লকডাউন চললো কয়েকমাস, 

এর পরেও বেড়েই চলছে রোগের করালগ্রাস। 

মানুষ হলো ঘরবন্দি, বিপ্লবীদের মতো, 

আতঙ্ক আর হতাশাতেও মরছে মানুষ কত? 

পরিয়ায়ী  শ্রমিক যত, ফিরলো সবাই ঘরে

মরলো কতক পথের মাঝে দুঘর্টনায় পড়ে। 

একশো বছর কেউ দেখেনি এমন মহামারী

এটা নিয়েও রাজনৈতিক চাপান-উতোর জারি। 

রোগের সাথে লড়তে হবে, রোগীর সাথে নয়, 
কঠোর ভাবে মানলে নিয়ম হবেই হবে জয়।

লিপি

ইস্তেহার

সুনীতা

 

দেখা না গেলেও, ডলা দিলেই উঠে আসে চষিটানে

এত ধুলো! এত ধুলো ধর্মাবতার! জমে ছিল কোনখানে;

কলরোল এত, তবু গুছিয়ে রাখা গেছে সমবেত প্লুতস্বর

চিনবে না কি করে, অতিবাহিত – শবের পরে শবের প্রহর

সমবেত সেই আত্মরোল থেকে উঠে আসে দুই-একটি শবের অনুপাত

সময় নিজের মত সব নিয়ে গেছে। ভাসমান মনোরঞ্জক দু-একটি বাত’

আবরণী সরিয়ে যদি এমন হয় – শবেদের আত্মচিৎকার উঠে আসে
প্রতিটি শ্বাসহীন পলের হিসেব মিলিয়ে নিতে চায় বাতহীন রুদ্ধশ্বাসে

[adinserter block="1"]
লিপি

ছেলে মানুষ

রূপো বর্মন

 

 

হ্যাঁ ছেলে মানুষ আমি

আমাকে করতে হবে অনেক কিছু

পড়াশোনা রোজগার আর কতনা কি

হ্যাঁ ছেলে মানুষ আমি 

আমার চোখে জল মানায় না

কাঁদলে কাপুরুষত্ব প্রমাণ হবে 

লোকে বলবে আমি পুরুষ হওয়ার যোগ্য ছিলাম না 

কিন্তু আমিও তো মানুষ 

আমারও কষ্ট হয় আমারও ব্যথা লাগে

সেই ছোট্ট বেলা থেকে শুরু হয়েছে কাঁধে বোঝা নেওয়া

প্রথমে ছিল স্কুল ব্যাগ 

আর এখনকার ব্যাগ টা বাজারের

স্কুল ব্যাগটা যেমন শিক্ষা দিয়েছে 

তেমন বাজারের ব্যাগ টাও শিক্ষা দিচ্ছে

সংসার চালানোর শিক্ষা 

তবে ব্যাগটা এখন তেমন ভারী হয় না 

কারণ পাঁচ বছর আগে স্কুল আমাকে অবসর দিয়েছে 

আর গিন্নিরও বয়স বেড়েছে 

তার উপরে আবার দুজনে প্রেসারের রোগী 
তাই বিনা চিনিতে চা খেয়ে দিন চলে যায়!

লিপি

ভুলে যাও অভিমান

নইমুদ্দিন আনসারী

 

ভালো ছিলাম আমি, তুমিও ভালো ছিলে,

একসঙ্গে কেটেছি হাজারো প্রহর দুজনেই

হাজারো ব্যস্ততার মাঝে রেখেছিলাম পা তোমার শহরে,

তুমিও আনন্দের সঙ্গে আলিঙ্গন করেছিলে প্রত্যেহ প্রহরে

মুক্ত বিহঙ্গের মতো উড়েছি তোমার নীল আকাশে,

তুমিও দাওনি বাধা কোনোদিন বেড়াতে তোমার বাতাসে

ধীরে ধীরে অনেক ব্যস্ত হয়ে পড়লাম আমি,

কখনো বা বন্ধুদের আড্ডায়, কখনো বা নিজের কাজের ব্যস্ততায়

ক্লান্ত হতে হতে তোমার কথা মনেই আসতো না আমার

আমি ভুলে যেতে থাকলাম তোমার সেই অপূর্ব সোন্দর্য

দিনের পর দিন তুমি সহ্য করেছো আমার অবহেলা,

তুমি রয়েছো বসে আমারই অপেক্ষাই তিন বেলা

বিকেলের ডুবন্ত সোনালী সূর্যের সোন্দর্যতায়

একলা কেটেছে তোমার  হাজারো দিন বিষন্নতায়

 বাগানের বিহঙ্গের মধুর সঙ্গীতের সাক্ষী হয়েছো তুমি একাকী,

আনন্দিত হয়েছো তুমি নিজেই চাক্ষুষ করে রজনীর জোনাকি

ওই নীল আকাশ ঝকঝকে ধ্রুব তারা আর চাঁদে,

তাকিয়ে ছিলে তুমি হাতটা রেখে তোমারই ওই কাঁধে

অবশেষে তুমি আজ হলে অভিমানী দেবী,

আর আমি হলাম তুচ্ছ এক বিরহের কবি

ভুলে যাও, পৃথিবী, তুমি তোমার সব অভিমান,

আজ একলা ঘরে থেকে বুঝেছি তোমার মান

 তুমি শান্ত,  স্নিগ্ধ এবং শীতল তোমার শহরে আজও,

আমিই শুধু পারিনি তোমার যত্ন নিতে কখনও,

আজ অঙ্গীকার করি তোমার যত্ন নেওয়ার হাজারো ব্যস্ততার পরেও

[adinserter block="1"]
লিপি

মা বাবাকে খুঁজি

চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

 

মা গেল বাবার পরে

বাবা গেল আগে,

বড্ড কষ্ট লাগে

 

সবার কাঁধে চড়ে চড়ে

সেই যে গেল চলে,

কাঁদি চোখের জলে। 

 

বল বাবা বল মাগো

আসবে কবে ফিরে,

স্মৃতি আছে ঘিরে

 

ঘরটি আজও ফাঁকা ফাঁকা

কেমন করে থাকি,

তোমরা দিলে ফাঁকি

 

এ ঘরতে ও ঘরেতে

সকল সময় খুঁজি,
কষ্ট এখন বুঝি। 

লিপি

জয়া

রবীন জাকারিয়া

 

আমায় যখন বললে ডেকে 

আর এসো না তুমি

পা দুটো মোর গেল বেঁকে

দুললো নীচের ভূমি

 

তোমায় পাওয়ার আশাচ্ছলে

কাটতো নিঝুম রাত

সবাই এখন কথাচ্ছলে

করছে কুপোকাত

 

এই তুমি কি সেই তুমি

নেইকো কোন দয়া

ভালবেসে দিয়ে চুমি
নাম দিয়েছি জয়া৷

[adinserter block="1"]
লিপি

মা

ক্ষিতীশ বর্মন

 

তুমি আমায় জন্ম দিলে তুমি করলে বড়ো,

তুমি আমার প্রথম শিক্ষা তুমি আমার আলো

তোমার যত ভালোবাসা দিয়েছো আমার কোলে,

আজ পর্যন্ত বুঝতে দিলে না দুঃখ কাকে বলে

আমার যত কামনা বাসনা পূর্ণ করেছো তুমি,

তোমার জন্য আজও আমি অভাব বুঝিনি

আমার যদি কিছু হতো তুমি বুঝতে আগে,

তখন তুমি ছাড়া কেউ ছিল নাকো পাশে

তোমার মত ভগবান হয়তো পাবো না এই জীবনে,
তাই তো মা’ গো তোমায় পেতে চাই পরবর্তী জীবনে

সমাপ্ত

Share This

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on telegram
Share on email

Editorial Board

  • Reviewed by Gobinda Sarkar (Editor)
  • Designed & Published by Akshay Kumar Roy (Editor)

For More Information, Click Here

For any type of Suggestion, Question, or Help, please contact us at this mail – [email protected]

Follow Us

0 0 votes
Writing Rating

Related Articles

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments