Slide1

কবিতা | Saturday Lipi | Bangla | 1st Week

সূচীপত্র

 

কবিতা

প্রেম

লিখেছেনবনমালী নন্দী

 

জামার ভিতর গভীরতম এক জামা

প্রেম

সম্পর্ক

মৃত্যু

অন্ধকারের ভিতর শুধু মেঠো পথ

শরীরজামা 

জামশরীর ও

আমাদের পোষাকি সৌজন্যে ই

আয়ুব ওঠানামা সিঁড়ি

শীতশরীর

জোৎস্নার কলকলে জলে

দেহকে পেপার ওয়েটে চাপা দিয়ে

জামা পর্যটনে বেরিয়ে পড়া

নগ্ন নিস্বচুপ অন্ধকার বৈচিত্র্যের মেলা

পীরতলা মন্দিরের মাটি যেমন পবিত্র আশ্রয়

ঈশ্বর ওশিশ্লীর নিজস্ব মাটি

সংসার সম্পর্ক মনখারাপ সুপক্ক রোদ

মায়া শুধু ই মায়া

জামার কঙ্কাল নিয়ে বৃথা অহংকার আর উল্লাস

 

স্বপ্ন

 লিখেছেনজয়শ্রী দাস

 

স্বপ্নেরা যেন অপ্রবাসী ভাড়ার বাড়ি

ভাড়াটের কাছে রোজ ভোর পাঠায় উচ্ছেদপত্র

জীবনব্যাপী ঠেলাগাড়ী ঠেলি ভাড়া যোগাড়ের তাগিদায়;

একদিন অমানী অক্রোধী দিনে ভাড়া চুকিয়ে পাড়ি দিই নেই-স্বপ্নের রাজ্যে

স্বপ্নের রেশ টুকু রয়ে যায় দ্বিতীয় প্রজন্মের ক্ষুধামান্দ্যে আর নিঃস্বাসগোধূলিতে

 

ফাগুন

লিখেছেনবদরুদ্দোজা শেখু

 

ফাগুন আসে, পরিপার্শ্বের বিভাস ফুটে রঙের ছোঁওয়ায়

ঘর-ছাড়া মন উন্মনা মন তার ছায়াতে আগুন পোহায়।

খাই বা না খাই কী আসে যায় ? চির-বিরহী হৃদয় সেঁকি

ইতস্ততঃ কল্পনা আর মোহিনীলতার মাতম দেখি।

মেতে উঠে এই জগৎ জীবন আনচানে আর অলোক-প্রভায়

প্রেম পরিণয় প্রণোদনার উন্মাদনায় বিহ্বল সভায়।

আলাপ বিলাপ প্রলাপ ঝুরে  বিধুর সুরে চরাচরে

চলো চলে যাই ঘর ছেড়ে যাই তার তালাশে অচিনপুরে।

হৃদয়জুড়ে বসন্ত-বায়,গগন জুড়ে বিদগ্ধতা

এই লগনে বাজছে বুকে কতো জনমের না-বলা কথা।

আকুলতা প্রগল্ভতা প্রমত্ততা শূণ্য বুকে

বিধির বিধান বান ডেকে যায় এই অসুখের অমোঘ সুখে।

ভুলচুক আর অনিশ্চিতির উদ্ভ্রান্তি ধুঁকে বেড়ায়

রাতবিরিতের মফঃস্বলে গ্রামগঞ্জে পাড়াবেপাড়ায়।

শহরতলি পাহাড়তলি বেলাভূমির  পিয়াস -মরু

সব মেনকাই সুন্দরী আর  মোহন মায়ার কল্পতরু।

স্বপনপরী প্রেমলহরী উথাল পাথাল যমুনা -বিলাস

জনম জনম চায় সে হতে সেই বালিকার বিদগ্ধ দাস।

সেই প্রদোষে প্রবোধ পোষে আশা-নিরাশার অবোধ আঁখি

আশ মেটেনা ভাবভাবনার, স্বভাব -দোষে বিনয়ী থাকি।

কাউকে ডাকি আপন মনে ? উচ্চারণে অথবা নিঝুম?

ফাগুন এমন মোহন বীক্ষা, প্রতীক্ষারা আনন্দ-ধূম!

 

আহুতি

 লিখেছেনশ্যামাপ্রসাদ সরকার

 

আমায় জ্যোৎস্নাপীড়িত বলে

খাদের পাশে একা দাঁড় করিয়েছ!

জাফরানি বলে বুকের গোলাপফুল ছুঁয়েছ!

তারপর দ্রাঘিমারেখার দিকে হেঁটে গেছ একা!

 

তুমি অবান্তর ছুতোয় চুমু খেতে

জঙ্ঘার ফাঁকে চাইতে বৈরাগ্য নিতে!

আদরের উপবাস ভাঙতে চেয়ে ফলার আনতে স্বেচ্ছ্বায়

তারপর ভোগী পতঙ্গের মত পুড়িয়ে দিতে

 

নীলাঞ্জন, তোমার সেই নীল শার্টের গায়ে

জেব্রার সাদাকালো আঁচড় দিয়েছি কত?

কতবার নগ্নতাকে পুজো করতে গিয়ে

প্রেমের সংলাপ মন্ত্রের মত বলেছি……

 

সব গভীরতা শেষে হাতে আছে সেই বিন্নি খৈ

সবরী কলা আর কাগমারী দৈ নিয়ে

বসন খুলে ফেলেছি আগুনের শিখায়……

 

আহুতি নেবে এবার?

বল ! বল ! আহুতি দিয়ে যাই…..

 

নীল নিশি

লিখেছেনরাধিকা রায়

 

তুমি বলতে, নিশির কোন রঙ হয় না। 

তখন তুমি মগ্ন একাকিত্বে

বলেই বলেছিলে!

 

আজ যখন তোমার পাশে আমি, 

নিশিথেরই ভগ্ন ছায়া তটে!

মুচকি হেসেই চোখ রাঙালে তুমি,

নীল মনি ঠিক আমার মনির দিকে

 

বুঝলে বুঝি?

তোমার নিশি রঙিন হল তাই,

তাই বলে  কি নিশীথেরও রঙ থাকতে নাই?

 

পাগল আমি! 

হবই বটে!

রঙ-রঙিনের  টানাপোড়েনে

জ্যোৎস্না এসে পরে

বুঝিয়ে দিলে তুমি, 

     নিশির রঙে রাঙিয়ে দিলে 

     জীবনের রাঙ্গা ভূমি।

 

চাঁদের বুড়ি

লিখেছেনপ্রজ্ঞা

 

চরকা ঘোরে ভীষণ জোরে লাগছে ভালো,

জ্যোৎস্না রাতে চাঁদের বুড়ি বুনছে কালো ।

চাঁদও এখন ঘুমিয়ে থাকে, খুকুর চোখে স্বপ্ন আঁকে দৈত্য দানো,

পথটা কোথায় সীমারেখা ছোঁয় তা জানো ?

সবার আগে লক্ষ্য চেনা খুব জরুরি,

একলা রাতে নাও না সাথে চাঁদের বুড়ি !!

 

ভুল করেছি সন্ধ্যে নামার একটু আগে,

তাই কি বিবেক আমার সাথে রাত্রি জাগে!

ভুল তো আমার নেহাৎ ছোট শিশুর মতো,

করলে স্বীকার সত্যি ভীষণ ভালোই হতো ।

ওদের ছাদে গোঁত্তা খেতো আমার ঘুড়ি ,

সত্যি কথা বলবো তোমায় চাঁদের বুড়ি ।

 

ছোট্টবেলার স্কুলের গায়ে গন্ধ কেমন!

ভুল করলে রাগী মায়ের মুখের মতন!

আজও আমি সেই পুরোনো স্কুল বাড়িতে,

রোজ আসি যাই,তাও আবার নেহাৎ ফ্রিতে।

ছুটির ঘন্টা পড়লে হতো হুড়োহুড়ি,

আসবে কি আর সেদিনগুলো চাঁদের বুড়ি!

 

ভেঁপু বাঁশি

 লিখেছেনইলিয়াস খাঁ

 

পাঁজরে আয়াসসাধ্য  ভবিতব্য

দূরের মাঠ মনে হয় বাঁশের বেড়া

লিখতে যখন অনিচ্ছা তালপাতার ভেঁপু বাঁশি বানাই

অভিধান অনুসন্ধানে আকাশের অসীমতার খোঁজ

                      সবটাই পশ্চাদপসরণ,

ঘাড় ফিরিয়ে ছেলেবেলার হীনমন্যতা

 

বিন্দু

লিখেছেনসমাজ বসু

 

ক্রমশ ছোট হতে হতে বিন্দুতে সেজে উঠছি—

জানলায় গাছের পাতায় যেটুকু বৃষ্টি লাগে

এখন সেটুকুই বর্ষা।

বাগানবাড়ি ফেলে এক চিলতে আকাশ উঁকি দেয়-

এক ফালি রুমাল বারান্দায়—

তিনজন মানুষের আঁটোসাঁটো পরিধি আর 

একমুঠো বালি-সুখ নিয়ে এভাবেই

সম্পর্কের ছোট ছোট বৃত্তে সেজে উঠছি সবাই

 

এই পৃথিবীর মানে

লিখেছেনমীরা রায়

 

এই পৃথিবীর মানুষ গুলো

জানি না কিসের আশায় বাঁচে

ঘর বাড়ি অট্টালিকা

পাহাড় প্রমাণ ধাঁচে

টাকা পয়সা পোশাক আশাক

নূতন খাওয়া দাওয়া

নূতন নূতন খাট পালঙ্কে

আনন্দ করে শোওয়া

এইভাবে এক-একটা দিন পার হয়ে যায়

বছর ও হয় শেষ

কখনো মধুর কখনো বিষাদ

কখনো ভালবাসা কখনো দ্বেষ

মানে আছে কি এ জীবনের

তবুও বেঁচে থাকা

আত্মীয় স্বজন এর ভালোবাসা

ও এদের ভালো রাখা

পৃথিবীটার আসল মানে

বুঝতে পারিনা কি যে

কেন আপন কেন পর

কে কাকেই বা খোঁজে?

 

নেপথ্য নির্মাণ

লিখেছেনদীপঙ্কর সরকার

কিছু বা স্পষ্ট উচ্চারণ রেখে যায় স্মৃতি

বিষাদ যন্ত্রণা যেন লেপ্টে যায় ঘাসে

ওই লিপস্টিক রাঙা ঠোঁট নিষ্পলক

চেয়ে থাকে নীলিম শূন্যতা ছুঁয়ে

আর বাদামি হাওয়ায় ওড়ে কেশদাম

বিস্রস্ত এলোচুল, অস্ফুট শোনা যায়

বিষণ্ণ শীৎকার ও বহু চর্চিত ভাতঘুম —

এমনই বিনম্র উচ্চারণ কিছু থাকে জাগরুক

 

দাবানল

লিখেছেনসৌমিক কুমার দে

 

ধিকিধিকি,  সন্ সন্

বয়ে যায় হাওয়া, কেঁপে ওঠে বন

লালচে আভা লেলিহান  রোজ

সবুজের মাঝে

ধোঁয়া ওঠা সাজে

ফাঁকা  নিঃশ্বাস, শুকনো বাতাস

মন তবু চাই সবুজের খোঁজ

ছোটাছুটি সার

গন্ধের ভার

জ্বলছে ওরা জ্বলছে

আদিম হিংসা মেখে দুচোখে 

জ্বলছে ওরা জ্বলছে

য়ে শয়ে কাতারে কাতারে

সবুজ সতেজ 

একমুঠো ছাই হয়ে

জ্বলছে ওরা জ্বলছে

জ্বলছে জঙ্গল, জ্বলছে পাহাড়

দম্ভের কাছে নতজানু হয়ে

মিথ্যার জয়, সত্যের হার

জ্বলছে ওরা জ্বলছে

 

সারি সারি সব

সবুজের শব

মুখ তুলে তবু বলছে

জঙ্গল নয়

সভ্যতা জেনো

জ্বলছে ওরে জ্বলছে।।

 

ভালবাসার পরশ পাথর

লিখেছেনতুষার ভট্টাচার্য

 

রাজহাঁসের মতন  সাঁতার জানিনা আমি,

শুধু জানি পরাঙ্মুখ হৃদয়ে ভালবাসার

 সাঁঝবাতি পিদিম জ্বালাতে;

আমি তাই  নীরবে চলে যাই নদীর পাড়ে,

 সেখানে সহজিয়া আখড়ায় যে –

শ্যামল কিশোরী বৈষ্ণবী বসত করে,

 আমি তার অভিমানী দুহাতে তুলে দিতে চাই

ভালবাসার পরশ পাথর

 

ডাটাচাষী

লিখেছেনসুনীতা

 

কান্তকালে বয়সের হুজুগে, বয়োজ্যেষ্ঠদের অনুপ্রেরণায়

আমরা বহুবার দল বেঁধে গিয়েছি প্রত্যন্ত মাঠের দিকে

কিছু সূচীমুখ নিরসন, ডাটার প্রয়োজনে

বহু প্রকার ডাঁটা আমরা আ-শৈশব ও বাল্যে

কুড়িয়ে এনেছি নিজ অথবা প্রতিবেশীদের মাঠ থেকে;

সেসব বহুবিচিত্র বর্ণ ও স্বাদের ডাঁটা

মা-ঠাকুমা ডালে তরকারি তে দিয়ে

সেগুলিকে ভিন্টেজ স্মৃতি করে রেখে গিয়েছে

সারে সারে হাইওয়ে লাগোয়া ডাঁটাচাষের মাঠগুলি

গোপালদা, করিম-আব্দুল-ফজর চাচারা

বেচে দিয়েছিল মাদানি, মিত্তল, লাটা ও আরও কিছু

জাপানী, জার্মানি হাত মেলানো খদ্দেরদের, ভালো দামে

অতঃপর, অবশিষ্ট মাঠে স্বল্প ডাঁটাচাষ হত শহরে বেচার জন্য

 

অপরাপর ডাটাচাষী অবশ্য বেড়ে উঠেছিল রমরমিয়ে;

পুরোনো ডাটা কুড়োনোর সুবাদে আমরাও ঢুকে গেলাম নিশ্চিন্ত

ঠান্ডাঘরে, মধ্যপ্রদেশের উচ্চ বিকাশের সম্ভাবনাসহ

ডাটা জোগাড়ের কাজে লেগে গেল কিছু ঝক‍্ঝকে স্মার্ট পায়রা

স্মার্ট পায়রাদের মাথায় কোন আকাশী ওড়না থাকে না

 

আমাদের স্ফীত মধ্য অংশ এখন কাজ শেষে নিয়মিত ঢুঁ মারে

পাপনাশিনীর ধারে, নিকোটিনের বদলে সুগন্ধি কাঠি হাতে

পাপনাশের মন্ত্র আউড়ে যায় অস্ফূটে ও সোচ্চারে,

ঘন্টাধ্বনি-আজান-প্রেয়ার আর রামলীলার মাঠে

নতুন মাঠে এখন ঝাঁকেঝাঁকে

ঝক‍্ঝকে স্মার্ট পায়রারা খাটে,

জন্ম থেকে অশৌচ

সব ছবি বাঁধিয়ে রাখে ভুবনডাঙার মাঠে

 

রংয়ের উৎসব আসছে

লিখেছেনতনুশ্রী দাস

 

রংয়ের উৎসব আসছে,

আনন্দে সবাই মুখ খুলে হাসছে-

এবছরের উৎসব আলাদা, নেই, সেরকম হৈচৈ আছে প্রচুর বাধা

জীবনে নেই সেই রঙিন ছোঁয়া

চারিদিকে অন্ধকার যেদিকেই দেখি শুধু কালো ধোঁয়া-

তবে বসন্তের এই রঙের উৎসবে

সবার মনে প্রশ্ন, “এই মলিন দিনগুলো কবে যাবে?”

মনে পরে বন্ধুদের সঙ্গে আবির নিয়ে খেলা

আনন্দে ভেসে যেত মনের ভেলা-

এবছর দূরে থেকেও কাছে,

আনন্দের সেই স্মৃতিগুলো আজও বেঁচে আছে

তাই হবে না দূরত্ব,

রং ছোঁয়াবো মনে মনে

আসুক আনন্দ হৃদয়ের কোনে,

সেই আনন্দ দিয়ে আবার রঙিন হবে পৃথিবী

শেষ হবে মহামারী ফিরে আসবে পুরনো আনন্দের দিনগুলো

এই আশা নিয়ে এগিয়ে যাব

অন্ধকার দূর হবে ফুটবে রঙিন আলো

 

আবার করোনা

লিখেছেনচিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

 

করোনা আবার আসছে ছুটে

আবার নাকি দেশে,

ভয় করে আজ বুকের মাঝে

বিদায় নেবে কে সে?

 

পরতে হবে মাস্ক যে আবার

তাইতো সবারে বলি,

জটলা বেঁধে আর ঘুরা নয়

নিয়ম মেনে চলি।

 

ভ্যাকসিনটা দিতেই হবে

বাঁচতে যদি চাও,

হাতটা ধুয়ে তবেই তুমি

খাবার মুখে দাও।

 

বহুদূরের নগরে থাকি

লিখেছেনমারুফ আহমেদ নয়ন

 

তোমার থেকে বহুদূরের নগরে থাকি, ধূলো-বালি মাখি সারা গায়ে, হাওয়ারা এসে নিঃশব্দে উড়িয়ে নেয় তোমার দীঘল কালো চুল, তখন আমি ঝড়ো পাতাদের কান্নার মাহফিলে ঝরে পড়ি বৃষ্টির ফোঁটা হয়ে, আয়ুর দৈর্ঘ্য-প্রস্থ সম্বন্ধে বলুন পিতামহ, “জীবন এতো ছোটো কেন?” তবে মৃত্যু ও তার পরবর্তী জীবন কি দীর্ঘস্থায়ী হবে, ফুলের মায়াবী ঘ্রাণের মতো যেন বোঁটা থেকে খসে পড়া বকুল-বেলীর সংসার, তা কি তোমার আমার মৃত্যু চেতনার মতো ফ্যাকাসে!

 

বিমারি

লিখেছেনগোবিন্দ বর্মন

 

এ এক আস্ত বিমারি গোটা বিশ্ব তার বশে

শব্দটা হিন্দি হলেও বাঙালিরাও যেন কাঁদে

তবুও মানুষ চলছে নিজের ছন্দে

না, শুধু কি মানুষ, যানবাহনও চলছে দিব্যি

শুধু চলছে না গরীবের সংসার

তবু রাজার হুস নেই, সে তো নিদ্রায়!!

চাষী আবার বেজায় খুশি দিবা স্বপ্নের অছিলায়

পৃথিবী আবার রঙিন হবে স্বপ্নে আমি দেখি

শুধু কি স্বপ্ন আমি তো বাস্তবতায় বাঁচি

 

ইচ্ছে পথের নদী হয়ে

লিখেছেনতীর্থঙ্কর সুমিত

 

ইচ্ছে পথের নদী হয়ে

ফিরে আসি চেনা গ্রামে

নীল আকাশ মাটির সোঁদা গন্ধ

হারিয়ে যাই সকাল বিকাল 

দুপুরের তপ্ত রোদ

মিশে আছে না বলা ইচ্ছাতে

ফিরে যায় কত  দইওয়ালা 

অবশিষ্ট থেকে যায়

পথের ধুলো …

 

অভিশপ্ত ব্যস্ততা

লিখেছেনপ্রতাপ ঘোষ

 

ব্যস্ততার ভীড়ে আজ যেন কোথায় হারিয়ে, সেই আবেগ মাখা বন্ধুত্বের রঙিন  মুহূর্ত গুলো।

 

ভীড়ের মাঝে এখন, খালি ঠেসাঠেসি আর আর দমবন্ধ আবহাওয়ার মাঝে খুঁজে বেড়ানো প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বাতাস

 

আমরা ভিড়ের মাঝে খুঁজে পাই অনেক  বন্ধু কেউ স্বার্থান্বেষী, আবার কেউ আমাদের মতনই…

 

কিন্তু আমাদের…আমাদের  সেই রয়ে-বসে কাটানো  দিনগুলো…আবার  ফিরে পাবো কী?

 

নাকি সেগুলো  রয়ে যাবে ফসিল  হয়ে….?

 

ভেবে দেখো

লিখেছেনরতন বসাক

 

শান্তি নাই শুধু চাই হানাহানি করে

আগে গিয়ে কেড়ে নিয়ে নিজ ঘর ভরে

দেখে জ্বলে সদা বলে আমি হই ভালো

চায় ধন সেই জন মন রাখে কালো

 

নীতি কথা মানে যথা মুখে শুধু বলে

পেতে চায় কেড়ে খায় স্বার্থ নিয়ে চলে

মনে আজ নাহি লাজ চোখে ভরা লোভ

দেখেশুনে তার গুনে বেড়ে চলে ক্ষোভ

 

প্রেম-প্রীতি ন্যায় নীতি মানে না যে কেউ

ভাবি বসে কোন দোষে মনে ওঠে ঢেউ

এরা কারা করে যারা যতো পারে ছল

রাহাজানি এও মানি দিয়ে দেহ বল

 

ভেবে দেখো কিছু শেখো অর্থে নাহি সুখ

যতো করো ততো ভরো মনে তুমি দুখ

চিন্তা বাড়ে ঘুম হারে শান্তি হবে ক্ষয়

বেশি ধনে দেহ মনে বেড়ে চলে ভয়

 

দেখো খুঁজে সব বুঝে জীবনের মর্ম

ভালোবেসে আগে এসে করো সেবা কর্ম

মরে গেলে সব ফেলে চলে যেতে হবে

মারামারি বাড়াবাড়ি কেনো করো তবে?

 

আজ তোমার শুভ জন্মদিনে

 লিখেছেনরূপো বর্মন

 

আজ তোমার শুভ জন্মদিনে

সত্যি এক মুহূর্তের জন্য ভুলতে পারি না মনে।। 

শুভ জন্মদিনে অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই তোমাকে। 

আরে এদিক ওদিক কি দেখছো চেয়ে। 

ও দেখতে চাইছো আমি কে? 

আমি তোমার সবচেয়ে কাছের মানুষ,বিবেক টি যে।

তোমার শুভ জন্মদিনে আনি নি কোনো উপহার। 

খালি হাতে জানাতে এলাম মনের কথা আমার।। 

আজকে তোমার বন্ধুদের সাথে হয়তো জন্মদিনের পাটিতে যাবে তাই না। 

কারণ তোমার বন্ধুরা বলেছে ফেসবুক এ জন্মদিনের তারিখ দেখে। 

কিন্তু তোমার মা সবসময় কাজে ব্যস্ত। 

সে জানে যে তার আদরের ছোট্ট ছেলে আছে

কিন্তু মনে নেই তার জন্মদিন টা কবে ?

বিশ্বাস না হলে মাকে বলবে,

মা আমার জন্মদিন কবে? 

মা তখন চুপটি করে তোমার মুখের দিকে চেয়ে থাকবে।। 

তুমি যখন জরিয়ে ধরে বলবে , 

মা আমার জন্মদিন আজকে। 

মায়ের মুখখানা মায়া ভরা খুশিতে ভরে উঠবে।

তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে মনে মনে বলবে,

ঠাকুর আমার ছেলে টা যেন সারাজীবন সুখে থাকে

তুমি যখন রাতে,

বন্ধদের সাথে জন্মদিনে নানান রঙে ভরা কেক আর ফাস্টফুড খেয়ে বাড়ি ফিরবে

দেখবে তোমার মা তখন আছে বসে পায়েস বাটি হাতে।। 

খুব আদর করে ডাকবে তোমায় কাছে। 

তুমি তখন বলোনা যেন, মা আমার খিদে মিটে গেছে।

বললে তোমার মা খুব কষ্ট পাবে। 

তুমি যেই পায়েসে হাত দিতে যাবে।

 মা বলবে, খোকা আজকে আমি খাইয়ে দেবো তোকে নিজের হাতে। 

মায়ের ভালোবাসায় বানানো পায়েস খেয়ে

বুঝতে পারবে, 

অনেক স্বাদে ভরা আছে ওই দামী কেক টির চেয়ে।। 

মা হঠাৎ বলে উঠবে, 

তোর জন্মদিনে কিছু দিকে পারি নে। 

জানিস তো পরের বাড়িতে কাজ করি শুধু পেটের দায়ে।

সত্যি তুমি সেদিন অনেক বড়ো হবে

যেদিন তোমার মা তোমার জন্য গর্ব বোধ করবে।। 

তোমার জন্মদিনে মাকে একটি প্রণাম করিও 

এত বড়ো পৃথিবীতে মায়ের আশীর্বাদ সবচেয়ে বড়ো।

Download Pdf

সম্পাদক

অক্ষয় কুমার রায়

গোবিন্দ সরকার

 

Reviewed by Gobinda Sarkar

Managed, Designed & Published by Akshay Kumar Roy

 

সকল লেখকদের প্রতি আমাদের আমন্ত্রণ রইল লেখা পাঠানোর জন্য প্রত্যেক রবিবার থেকে শুক্রবার বিকেল ৫ টার মধ্যে । আপনি লেখা পাঠাতে পারেন আপনার কোনো পছদের বিষয়ের উপর, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কোনো বিষয়ের উপর, অথবা আমাদের প্রত্যেক সপ্তাহের নির্বাচিত বিষয়ের উপর

আরো জানতে এখানে ক্লিক করুন

লেখাগুলি পড়ে আপনার মূল্যবান মতামত জানানোর অনুরোধ রইলো।

0 0 votes
Writing Rating
Share This
Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on telegram
Share on email
Share on linkedin
Subscribe
Notify of
guest
1 Comment
Newest
Oldest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
রবীন জাকারিয়া
18 days ago

প্রথম সংখ্যায় রবীন জাকারিয়া রচিত “মিডিয়া কভারেজ” গল্পটি এখানে দেখতে পাচ্ছি না৷ নতুন ফরম্যাটে ডাইভার্ট করতে হয়তো বাদ পড়েছে৷ আশা করি সংশোধণ করবেন৷ ধন্যবাদ৷

শুদ্ধি চাই ভিলেন পাশাপাশি উষ্ণতার সান্নিধ্যহীনতা ২১’শের নগর জীবন ভোরের কণ্ঠে চাতক পাখি …
Read More