Saturday Lipi

Saturday Lipi | Bangla | May, 1st Week

লেখক

লিপি

ফাঁপা লেখক

সৌমেন দেবনাথ

 

একবার এক পত্রিকায় লেখা পাঠালাম। ফিরতি ই-মেইলে সম্পাদক মোবাইল নম্বর চাইতেই বিনাসঙ্কোচে দিয়ে দিলাম। পরক্ষণেই ফোন এলো, সম্পাদক ফোন করেছেন, বিগলিত অবস্থা আমার। কোনো পত্রিকায় লেখা ছাপে না, মনে হচ্ছে এ পত্রিকায় আমার লেখা যাবেই। সম্পাদক আমার লেখার খুব প্রশংসা করলেন, আমার লেখার ভেতর নাকি জাদু আছে, লেখার গাঁথুনি খুবই ভালো, লেখার সাহিত্যশৈলী চমৎকার, কালোত্তীর্ণ হবে। পরে পত্রিকার উন্নয়নের জন্য টাকাও চাইলেন। কোথাও আমার লেখা ছাপে না, এ পত্রিকায় আমার লেখা জায়গা পাবে, তাই পত্রিকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে টাকা  দিতে রাজি হয়ে গেলাম। লেখা ছাপলে আমার লেখক বন্ধু সুভাষকে বুক ফুলিয়ে বলবো। ও এত ভালো লেখে, হিংসা হয়। যে পত্রিকাতেই লেখা দিক ওর লেখা স্থান পাবেই। লেখার গুণের কারণে, অন্য কোনো কারণে নয়। 

পরদিন ওর বাসায় গেলাম। দেখলাম ও বিভিন্ন পত্রিকায় লেখা পাঠাচ্ছে। কোথায় কোথায় লেখা পাঠালো মেইলের সাবজেক্ট দেখলাম। দেখলাম আমি যে পত্রিকায় লেখা দিয়েছি উক্ত পত্রিকায়ও ও লেখা দিয়েছে। ওর লেখার সাথে আমার লেখাও এক পত্রিকায় থাকবে ভেবেই ভালো লাগছে। বলবো বলে মুখিয়ে আছি, দেখ সুভাষ তোর লেখার মতই আমার লেখাও গুণগত মানসম্মত হচ্ছে। নতুবা ছাপবে কেন?
যাহোক, যথাসময়ে পত্রিকা প্রকাশ হলো। সূচিপত্র তিনবার পড়লাম। সুভাষের লেখা নেই। হতভাগার লেখা রয়েছে। লজ্জায় পত্রিকাটি বন্ধুকে দেখাতেই পারিনি

লিপি

সাঁকো

সঞ্জীব সেন

 

বিগত জনমের প্রেমিকা  হয়ে ফুটে উঠছে বত্তিচেল্লির আঁকা যুবতী

কী জন্য  মুছে যাচ্ছে এই দূরত্ব

কে রচনা করছে এই সাঁকো

মনে হচ্ছে পা বাড়লেই যেন ইতালি

কাচের দরজা ঠেলে বেড়িয়ে এল বত্তিচ্চেলির যুবতী,

 

ইতালি যাইনি আমি

তবু কেন দেখতে পাই এক বেহালা বাদক বিষাদের সুর তুলছে একা

এই বেহালা বাদক নিশ্চয় প্রেমিক ছিল!

শপিং মল নেই পাস্তা নেই, রেড ওয়াইন নেই

শুধু বিকেল আঁকছে একা বিরহী

আর বত্তিচেল্লির যুবতী যেন রাধিকাসুন্দরী,

 

ইতালির মেয়েরা নাকি বাঙালির মতই

প্রেমে পড়ে পূর্বরাগ ভেঙে আসে অভিসারে

রাতভর জেগে থাকে গুনগুন গানে

 

কি জন্য মনে হল রাইন নদী যেন আজ গঙ্গা
বত্তিচেল্লির সেই যুবতী যেন বিগত জনমের প্রেমিকা

লিপি

যোগ-বিয়োগ

শ্যামাপ্রসাদ সরকার

(এক)

আজ সকালে ঘুম ভেঙে অভীক দেখল যে সুতৃপ্তি আগেই উঠে গেছে। রান্নাঘরে টুংটাং শব্দে বুঝল যে একটু পরেই চা আসছে। সুতৃপ্তিকে বিয়ের আগে থেকেই ও জানতো যে ওর বউ আর্লি রাইজার নয়। তাহলে এই রোববার সাত-তাড়াতাড়ি উঠে চা বানাতে কেন উঠল?

 

অভীক মুখহাত ধুয়ে রান্নাঘরে গেল। গ্যাসে তখন চা ফুটতে ফুটতে কালো হয়ে গেছে আর সুতৃপ্তি স্থাণুর মত সেটাই একমনে দেখছে

 

ও যেন একটা পাথরের মূর্তি হয়ে গেছে। 

 

অভীক ওকে ডাকলনা। বরং গ্যাস বন্ধ করে দিয়ে নিঃশব্দে গিয়ে বউকে বুকে জড়িয়ে ধরল

 সুতৃপ্তি তখন যেন কোন একটা ঘোরের মধ্যে ছিল। অভীকের আলিঙ্গনেও সেটা কাটলো না

 

এই অসুখটা তো আর নতুন নয়। এটা আসলে নিউরোট্রান্সমিটার ইমব্যালেন্স। এই রোগটাই যে এমন। অভীককে মাঝেমাঝে ও চিনতেও পারেনা তবুও অভীক ওর যত্ন নেয় আগের মতোই। সুতৃপ্তিকে ছাড়া যে ওর কাউকেই ভালো লাগেনা আর। 

 

অভীক আর সুতৃপ্তির অনেকদিনের রিলেশান। কলেজজীবনের থেকেই। তবে ওরা অবশ্য দ্বিতীয়বার এক সাথে থাকার সুযোগ পেয়েছে এই সবে কমাস হলো। আড়াই বছরেের বিবাহিত জীবনের শেষে অনিবার্য সেই ডিভোর্সের পর অভীক বিনাবাক্যব্যয়ে সুতৃপ্তির কাছেই ফিরে আসে। 

দুজনের জীবনে বসন্তের বজ্রনির্ঘোষ আসলে শেষ হয়নি বলে ওরা যেন জানত মিলতে ওদের সেই হবেই। 

 

আসলে সুতৃপ্তি তখন মিসক্যারেজের পর পাগল পাগল অবস্হা।এর ওপর ওর হাসবেন্ড তখন আবার  ডিভোর্সের মামলাও করেছে। 

অভীক নিজেও দু দন্ড ওকে শান্তি দিতেই সঙ্গে নিজেও বিবাহবিচ্ছেদের পর একাই যখন জীবনকে আবার গুছিয়ে নিতেই নাজেহাল ঠিক তখনই স্থির করে সুতৃপ্তিকে নিয়েই পথ চলবে আবার নতুন উদ্যমে

আসলে সময়ে সব কিছু হলে ওরা নিজেদেরকে হয়ত আর একটু  স্থিতি দিতে পারতো। 

 

(দুই)

ভোরবেলাটায় অবশ্য দেখতে বেশ ভালোই লাগে চারপাশটাকে। সুতৃপ্তি এখন কথা টথা বন্ধ করে ঠকঠক করে কাঁপছে। এই পর্বটা এখন অনেকক্ষণ চলবে মনে হচ্ছে। মেন্টাল স্ট্রেসের এই সময়টা ও চায় আরো বেশী করে সুতৃপ্তিকে জাপটে রাখতে। মেয়েটার জীবনে একজন আসল বন্ধুর অভাবটাই নিজে বোঝে ও। তাই তো স্বামীর চেয়ে বন্ধুভাবেই বেশী থাকে অভীক। বিগতজীবনকে নিয়ে বেচারার ট্রমাটা এখনো কাটেনি। এই জীবনে তো আবার নতুন করে পাওয়াটাই তো আসল হলেও বিগত জীবন অকারণ তাড়া করে ফেরে। আবার  সবকিছু বোধহয় একেবারে হারিয়ে যায় না

 

অভীক আর ওর স্ত্রী অপর্ণার জীবনটা সেই ভালোবাসা আর অধিকারের লড়াইয়ের জেরেই ভেঙে গেল। অভীকের চাকরি, অফিসে কাজের জন্য লেট নাইট আর ঘরের মধ্যে চিরন্তন বিবাদ ওকে আবার সুতৃপ্তির কাছে একদিন দাঁড় করিয়ে দিল যেখান থেকেই জীবনটাকে ও একদিন দেখতে শিখেছিল

 

ডাক্তার সেন কিন্তু বেশ গম্ভীর। আসলে এই রোগেতে Serotonin, Dopamine এইরকম নিউরো হরমোন যা স্ট্রেস ম্যানেজ করে ও দেহকে সুস্থ রাখে  যখন অতিরিক্ত ক্ষরণের  কারণে আর তৈরী হতে পারে না তখন ওই সাংঘাতিক ডিপ্রেসন এবং অন্তরের  ক্ষয় হয়। 

 

তাই জন্য এখন সুতৃপ্তির মনের এই অসুখ বাড়ছে শুধু নয় মস্তিষ্কের ভালো কোষগুলোতেও রোগের বীজ ধীরে ছড়িয়ে দিচ্ছে। অভীক নিজে যথেষ্ট আশাবাদী যে শিগগিরই সুতৃপ্তি সেরে উঠবেই। এমনিতে ওকে দেখলে এসব  কিছুই প্রকাশ পাবেনা কিন্তু গাঢ়তর বিচ্ছেদবোধ তাড়িয়ে বেড়ায় অনন্তকাল জুড়ে। অভীক কিন্তু সুতৃপ্তিকে নিয়ে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ হাসপাতালে যেতে আজ রাজী। কিন্তু কেউ কি ওকে সারিয়ে দেবে? সেটার উত্তরটাই অজানা এখনো

 

নার্স বলল এখুনি একবার তাড়াতাড়ি আসতে। আসলে চ্যানেল ব্লাড নিলেও একঘন্টায় ওটা কিছুই ফ্লো করেনি। ওরা এখন অক্সিজেন কানেকশন রেডি করার আগে ওর অনুমতি চাইছে। অভীকের মাথা তখন আর কাজ করছে না। অভীক তাড়াতাড়ি ফর্মে সই করে দেয় তখুনি

 

(তিন)

একটা গোলাপী রংএর আলো এসে ঘুরপাক খাচ্ছে এখন। সবুজ গালচের মত ঘাস যেন পা ফেলতে ডাকছে। সুতৃপ্তি যেন ছোট্ট বাচ্চা হয়ে গেছে। সে এলোমেলো পায়ে এগিয়ে এসে অভীকের পকেট ধরে ডাকছে। 

 

কি সুন্দর হাওয়া দিচ্ছে এখন। কোন কষ্টই আর নেই। যেন ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নের মতন খানিকটা। সুতৃপ্তির নিজের খুব ভাল লাগছে এখন

সব যন্ত্রণা কি করে যেন চলেই গেছে শরীর থেকে। খুব অভীককে দেখতে ইচ্ছে করছে আগের মত। কিন্তু সব যে….

 

ফুলের মত মেয়েটা এতক্ষণে ঘুমিয়ে পড়েছে কি নির্লিপ্ত এক  ভঙ্গীতে। ওর বোজা ওই দু চোখে  সেই ফেলে আসা না দেখা স্বপ্নের ঘোর জড়িয়ে আছে

 
অভীক তার জীবনের চিরাচরিত ওই হিসেবের পর তৃতীয়বার  মনে মনেই সুতৃপ্তির সেই অটুট সঙ্গটাকেই পাওয়ার অপেক্ষাতেই থাকবে অন্তহীন এক অপেক্ষায়

লিপি

নুন

সমাজ বসু

 

তারা মিলেমিশে নুনের শহরে বাস করে,

সারাদিন নুনের পোশাকে ওঠে বসে–

হাসে– কথা বলে–

চিন্তায় ডুবে থাকে–

তারপর দু মুঠো নুনের গ্রাসে রাত নামে–

সারারাত গলতেই থাকে স্বপ্নগুলো

 
নুনের শহরেই তাদের শেষকৃত্য হয়

লিপি

কালচক্র

জয়শ্রী দাস

 

সময়কে সময় দিতে জানতে হয়

সময়ের দাবী সেই মেটাতেই হয়;

কয়েকটা সময় আরো একটু সময় পেলে বাকি সময়টা এত দীর্ঘ হয়ে যেতো না বোধহয়;

কিছু বয়ঃপ্রাপ্ত সম্পর্ক কম ঝুলতো ওড়না জড়িয়ে সিলিং ফ্যানে

তিনটে ইঁট, তিনটে বাহু, আমি তুমি আর সময়

ত্রিভুজ উনুনে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে ত্রিসংসার

নি‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌:শ্বাস এখানে প্রহরী,

শাকান্ন দিয়ে তাকে তুষ্ট রাখতে হয়

এই শাকান্ন তোমার আমার জীবনের ভাগশেষ,
আর সময়, ভাগফল।

লিপি

যে গল্পের শেষ হলো না

জয়ন্ত নাথ

এক অফিসের বস ওনার লেডি সেক্রেটারিকে বললেন –কাল আমরা অফিসের সবাই পাঁচ দিনের ফ্রান্স ট্যুরে যাবো। তোমরা যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করো।” 

তাই শুনে লেডি সেক্রেটারী ওনার স্বামীকে ফোন করে বললেন –এই শোনো। আমরা অফিস স্টাফ পাঁচ দিনের জন্য ট্যুরে যাবো। আমি ঘরে থাকবো না তাই তুমি কিছু দিনের জন্য যেভাবে পারো ম্যানেজ করে নিও।এই কথা শুনার পর সেক্রেটারীর স্বামী তড়িঘড়ি করে  উনার এক বন্ধু রতনকে ফোন করলেন। রতন ফোন তুলেই বললো –কি রে? কি খবর অনেক দিন পর ফোন করলি। কেমন আছিস?” এপার থেকে বন্ধু উত্তর দিল :কেমন আছি, কোথায় আছি ওসব পরে কথা হবে। এবার শোন। আমার বউ কিছুদিনের জন্য বাইরে যাচ্ছে। তুই চলে আয় আমরা বন্ধুরা মিলে পার্টি করবো।”  সেই কথা শোনা মাত্র রতনও ভাবলো সত্যিই তো অনেক দিন হলো বন্ধুদের সাথে আগের সেই আড্ডা দেওয়া হয় না। রতন বলে উঠলো -“আচ্ছা আচ্ছা বেশ। তাহলে আমি কালই আসছি।রতন ঠিক করে ফেলল যে সে বন্ধুর বাড়ি যাবেই। রতন তখন তার স্ত্রী লিলিকে ফোন করে বললো –লিলি, আমি কিছুদিনের জন্য বন্ধুর বাড়ি ঘুরতে যাচ্ছি। বাড়িতে কদিন পর ফিরবো।” 

এবার বরের ফোন রাখা মাত্রই লিলি ওর এক বান্ধবী মায়াকে ফোন করে বললো –মায়া শোন, আমার বর কদিনের জন্য বাইরে যাচ্ছে তুই তাড়াতাড়ি চলে আয়। দুজন মিলে ঘুরবো আর সিনেমা দেখতে যাবো।এই বলে ওর মন বেজায় খুশি

এবার লিলির বান্ধবী মায়া এই ফোন পেয়ে তার কাছে টিউশন পড়তে আসা এক ছাত্র পাপ্পুকে ফোন করে বললো –কাল আমি একটু ঘুরতে যাচ্ছি। তুমি কদিন পরে পড়তে এসো।এই কথা শুনে পাপ্পু খুব খুশি হলো যে তাকে কদিন আর বইটই এর কাছে আসতে হবে না। পাপ্পু এবার তার মামাকে ফোন করলো এবং বললো -“মামা আমার মিস কদিন পড়াতে  আসবে না। তাই আমি তোমাদের বাড়ি ঘুরতে যাবো।” 

এবার ব্যাপারটা এসে দাঁড়ায় এইরকমপ্রিয়  ভাগ্নে পাপ্পু মামার বাড়ি আসতে চাইছে শুনে মামা ওনার অফিসের লেডি সেক্রেটারীকে বলেন – “আমার ভাগ্নে অনেকদিন পরে আমার বাড়িতে আসছে সেই জন্য ট্যুর আপাততো ক্যান্সেল।লেডি সেক্রেকারী আবার ওনার স্বামীকে ফোন করে বললেন -“এই শোনো। আমাদের ট্যুর ক্যান্সেল হয়ে গেছে।এবার সেক্রেটারীর স্বামী ওর বন্ধু রতনকেও ফোন করে বলে -“রতন তুই এসেও এখন আর লাভ হবে না । আমার বউ এর ট্যুর ক্যান্সেল।”

 

একইভাবে বন্ধু রতনও ওর স্ত্রী লিলিকে ফোনে একই কথা বললো। এবং তা শুনে লিলিও মায়াকে পুনরায় ফোনে বললো – “মায়া শোন । আমার বরের যাওয়া এখন ক্যান্সেল। উনি যদি আবার কোথাও যাওয়ার প্ল্যান করেন তবে আমি তোকে ফোন করবো।”  মায়া তখন তার টিউশন পড়তে আসা পাপ্পুকে ফোনে এই একই কথা জানায় যে ওর যাওয়ার ছুটি ক্যান্সেল এবং কাল থেকে ওর টিউশন অব্যাহত থাকবে । একইরকম পাপ্পু ওর অফিসের মামাকে ফের ফোনে যখন বললো যে মামা আমি আর তোমাদের বাড়ি আসছি না । মিস বলেছে যে ওনার ছুটি ক্যান্সেল। ওই সময় মামা ওনার লেডি সেক্রেটারীকে ফের কি বলবেন আপনারা তা বুঝতেই পারছেন

 
এবার আপনারাই বলুন – এরা কি কোনো দিন ট্যুরে যেতে পারবে ?

লিপি

মঁচশিল্প

গোবিন্দ বর্মন

চারিদিকে শুধু অঘোষিত মঁচশিল্পের রমরমা!

কিন্তু শিল্পের দেশে বিরোধিতা বারণ

শুল্ক বিহীন এই শিল্পে,  ফলিতার্থ ঢের

রাজার দোষে প্রজা দামাল’ লজ্জা কিসের?

 

ব্যক্তিচতুষ্টয়ে বিশ্ব জয়,  বিলাসিতা জীবন

পায়ের মাটি মন্থর হলে অন্যত্র পদার্পন

সাদাজামা রক্তে মাখা,  যেন জাদুর কারবার

সমাবেশে রক্তের গন্ধ,  যেন যুদ্ধের সংকেত

 

তবুও শিল্প চলবে,  আপত্তি যে বারণ

অন্ধকারে কৃত্রিম তারা, যেন প্রভাতী সংকেত

 

রাজার আবার ইন্দ্রসভা নর্তকীর সমাবেশ
দানবীরের দিকে সুদৃষ্টি যেন মঁচশিল্পের লেশ!

লিপি

ভোলার নয় সখি সেই দিনের কথা

নইমুদ্দিন আনসারী

 

ওগো সখি জীবনের তরী বেয়ে আজ এসেছি অনেকদূরে,

হাজারো স্মৃতি পতিত হয়েছে অতীতের অতল সমুদ্রে,

মরুভূমির ছোট্ট জলাশয়ের ন্যায় বিলীন হয়ে যায় তাদের অনেকেই,

তবে বারবার  ফিরে আসে মনে সেই  দিনের কথা ক্ষণেকই

সেই হেমন্তের হিমেল হাওয়ায় ভেসে আসা তোমার,

কোকিলা সুর ভোলার নয় প্রিয়তমা

ভোলার নয় সখি সেই দিনের কথা…

তপ্ত তপনে দাঁড়িয়ে থাকা আমি ক্ষনিকের জন্য,

সেই সুরে ভেসে গেছিলাম আবেগ প্লাবনে

ফিরে তাকাতেই তোমার সেই মায়াবী চোখের মায়ায়,

কখন নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম জানতেই পারিনি

ভোলার নয় সখি সেই দিনের কথা…

তারপর সেই দুরুদুরু বুকে শুরু হলো আমাদের পথ চলা,

 সেই গ্রাউন্ড হতে তিনতলা বিল্ডিঙের দিকে

কয়েকটা সিঁড়ি বেয়ে উঠতেই তুমি যে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলে,

 তা তোমার মায়াভরা মৃদু চোখদুটির চাহনিয়েই বলে দিয়েছিল আমাকে

ভোলার নয় সখি সেই দিনের কথা…

তোমার সেই ক্লান্তির কারণ সেই পিঠে ঝোলানো বই ভর্তি ব্যাগটা

কারণ তুমি তো আবার সেই আলেকজান্ডার পোপেরবেলিন্ডার ন্যায়

তাই সেই তোমার ব্যাগটা কাঁধে থাকা আমার ব্যাগের সাথে,

উপরে নিয়ে পা রাখলাম পরবর্তী সিঁড়িতে

তিনতলায় পৌঁছাতেই ফ্লোরে বসে পড়লাম,

 আমরা দুজনেই ক্লান্ত পথিকের ন্যায়

বসতেই তুমি বার করলে ব্যাগ হতে ঠান্ডা জলের,

 বোতল টা আর তুলে দিলে আমার হাতে

ঠান্ডা বোতল টা হাতে নিতেই হৃদয় টা শীতল হয়ে ওঠে ছিল

তার পর পান করলাম দুজনে সেই বোতলের ঠান্ডা জল,

যা কল্পনা করলে আজও তপ্ত হৃদয়টা কে মুহূর্তে শীতল করে দেয়

 

ভোলার নয় সখি সেই দিনের কথা….

তারপর সেই এক ডেস্ক এ বসে শুরু হলো,

পৃথিবীর হাজারো গল্প, হাজারো প্রশ্ন-উত্তর

আমার মনের হাজারো প্রশ্নের উত্তর দিলে তুমি,

দিলাম উত্তর আমিও তোমার শত শত প্রশ্নের

কিন্তু…………..
ভোলার নয় সখি সেই দিনের কথা….

লিপি

ঠিকানা

সুনীতা

 

সবই জানি, সেই সকল ঠিকানারা মৃত, হিমঘরে থাকে

শাপলাঘেরা পশ্চিম পথ,

সেদিক থেকে কখনোই আর কোন পিউ কঁহা ডাকবে না

 অবেলায় – পুকুরের পথে 

দেখাশোনার কথা, কলসীর জলে পাতার ঘন ছায়া; গভীরতর হবে

এলোমেলো কি বাতাস চলেছিল:

 তখন, উড়িয়ে নিয়েছিল বহুদূর তানবিহীন মধ্যমা

তার ছাপ এসে লেগেছে

দীর্ঘ চুমুর মত; মৃত কপোলে- 

আজ বহুদিন পর,

জানি সবাই নিশ্চিতভাবে, বেলাশেষে
ঠিকানাগুলো সব, মাটিচাপা পড়ে আছে

লিপি

মা জননী

উত্তম বর্মন

 

পরের দুয়ারে দাসী বটে আজিতবু সে মোদেরই মা,

ভুলিবারে চাই সতত সে কথাভুলিবারে পারি না

কাঙ্গালের ঘরে যাহা কিছু জোটে, সে যে ধুলিমাখা খুদ,

উপবাস ক্ষীণ শীর্ণ বক্ষে, শুকায়ে গিয়াছে মুখ

তবু তাই খেয়ে বাচেঁ এই প্রাণ, তাই দিয়ে এই দেহ,

ধুলামাটি মাখা তাহারই বক্ষে, বাধি দুদিনের গৃহ

হাটিঁতে শিখেছি যার হাঁটু ধরে, যে বুকে মেলিয়া পা,

হোক ভিখারিনী তবু সে জননীকেমনে ভুলিব তা

এস তপস্বীউগ্রশক্তি, এস হে কর্মবীর, 

কর দৃঢ় পণ মায়ের চক্ষে মুছাতে অশ্রুনীর

পায়ে পায়ে যত বিভেদের বাধাভুলায়ে পরস্পরে,

ভায়ে ভায়ে আজি মিলাইতে হবে,জননীর ভাঙ্গা ঘরে

এস হে হিন্দুএস খ্রিষ্টীয়পারসী,মুসলমান, 
যে মায়ের জঠরে জন্ম তোমাররাখো আজি তার মান

লিপি

শিশু মন

মুন্সি দরুদ

 

শিশুটি কখনো আর স্কুলে যায় না,

সে স্কুলে যাবার আগে ধরে বায়না

গ্রামের লাল রাস্তায় টায়ার চালায়,

তাকে ধরতে গেলেই ছুটে পালায়

 

গাছের ডালে সবুজ রঙ পাতা নড়ে,

শিশুরা বাড়িতে অ আ ক খ পড়ে

যে শিশুরা পড়াশোনায় ফাঁকি দেয়,

সে খেলার জন্য টায়ার সাথে নেয়

 

আবার ছোট বেলার কথা মনে পড়ে,
ইচ্ছে হয় টায়ার চালাতে শিশুমন গড়ে

লিপি

মনের ডায়েরি

     

রূপম শিকদার

 

 ছিঁড়ে ফেলেছি আমার 

      ডায়েরির সব পাতা,

 যেখানেতে লেখা ছিল

      হাজারো স্বপ্নের কথা

 ছিঁড়তে পারি নি শুধু

      আমার মনের খাতা,

 যেখানে জ্বলজ্বল করে  

      জীবনের যত ব‍্যথা। 

 অব‍্যক্ত সে ব‍্যথা-ভারে 

      আমি আজ বড়ো ক্লান্ত, 

 সে ব‍্যথার বোঝা নিয়ে

      আজ যেন দিক-ভ্রান্ত

 চলে না চরণ তাই, 

       চক্ষে ঘোরে ধরাতল,

 চেপে রাখি কান্না, তবু 
 আঁখি-পাতা টলমল

লিপি

মায়ের স্নেহ

মধুসূদন রায়

 

মা যে আমায় পাগল বলে!

মায়ের পাগল হই আমি

সাধ করে মা নাম রেখেছে,

নামেই হব ধন্য আমি।

          বুঝবে সেদিন ফিরবো না যেদিন,

          তোমার ছোট্ট কুঁড়েঘরে

          বলবে আমায় বুঝেছি খোকা-

          কেন করিস এমন রে?

          জড়িয়ে ধরে বলবে তুমি,

          আয় খোকা আয়-
      আমার কোলে

সমাপ্ত

Share This

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on telegram
Share on email

Editorial Board

  • Reviewed by Gobinda Sarkar (Editor)
  • Designed & Published by Akshay Kumar Roy (Editor)

For More Information, Click Here

For any type of Suggestion, Question, or Help, please contact us at this mail – [email protected]

Follow Us

0 0 votes
Writing Rating

Related Articles

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments