Saturday Lipi, LIpi Mgazine, May, 3rd Week

Saturday Lipi | Bangla | May, 3rd Week

লেখক

লিপি

ইস্কুল ব্যাগ

শ্যামাপ্রসাদ সরকার

 

বাজারে আসলে নিত্যনতুন বায়না আফসানার। কখনো পুতুল, কখনো খেলনাবাটি এসবের অপর্যাপ্ত সম্রাজ্ঞী হয়েও তার  আশ মেটে না। হিমসিম খায় নাজিয়া মাঝে মধ্যে। সামনে ঈদ তার জন্য ভালো সিমাই কিনতে নবাবগঞ্জের হাটে আজ আসা। আফসানা সিমাই খেতে ভালবাসে খুব। ওর বাবা রাজমিস্ত্রীর কাজ করে সুরাটে। ছমাসে একবার বাড়ি আসে আব্বাস। বেটী খুবই বাপ সোহাগী। আব্বু বাড়ীতে আসলে তার মজা দেখে কে। নাজিয়াও আব্বাসের নয়নের মণি। তাদের গরীবের সংসারে হাসি আর অভাব আলো হয়ে জ্বলে থাকে মলিনতা উপেক্ষা করেই

 

এবার একটা ইস্কুল ব্যাগের বায়না তার। ভারী সুন্দর দেখতে অনেক কটা খোপওয়ালা। দামটা বেশী তিনশ টাকা। নাজিয়ার সংসারে তা বড্ড বেশীই সেটা কি আর আফসানাকে বোঝানো যায়!

 

কোনওমতে সিমাই কিনে ঘরমুখী হয় তারা। এবারে ঈদের দুদিন আগে জন্মদিন পড়েছে আফসানার। এতে সে ডবল খুশী। সিমাই এর সাথে জামাও হবে একটা বেশি, সেটা জন্মদিন বলেই। 

গোটা রমজান মাসের পর ঈদ আসছে মহল্লায় খুশীর চাঁদের নখের ফালির মতই আনন্দ আর আল্লাহর রহমৎ কে সঙ্গে করেই

 

আফসানা ইস্কুল চলে গেলে নাজিয়া ঘর থেকে বাজারে যায়। মেয়েকে চমক দিতেই ওই ইস্কুল ব্যাগটা কিনে আনে। শেষ পর্যন্ত আড়াইশতেই হাতে আসে খুশী আর চমকের সমারোহে

 

ঘুম থেকে উঠে মাথার  কাছে রাখা মোড়ক খোলে আফসানা। রেশমী বুটিদার ফ্রকের সাথে সেই সাধের ব্যাগখানা। আব্বুর ফোন আসে সাথে সাথেই। আদরে আর আনন্দে গলে যায় সে। নাজিয়া দোয়া চায় অফুরন্ত আয়ু আর সুস্হতার। খুশীর ঝলক চলকে ওঠে ছোট্ট সংসারের গৃহস্থী জুড়ে

 

নতুন ব্যাগ নিয়ে ইস্কুলে চলে যায় আফসানা। আজ বন্ধুরা অবাক হয়ে যাবে ওর ব্যাগখানা দেখে! 

যথাসময়ে শুরু হয় প্রার্থনাসঙ্গীত। 

প্রকৃতি বিরূপ হয় সহসা। বহুযুগের আলোড়ন উঠে আসে মাটির ভিতর থেকে। বন্দী দৈত্যের ঘুম ভাঙে তীব্র কম্পনে। প্রাইমারী স্কুলের বাড়ি ধ্বসে পড়ে এই তীব্র ভূকম্পনে। বাচ্চাগুলো হদিস মেলা কঠিন  হয়ে যায় ধ্বংসস্তুপের ভিতর থেকে। অসংখ্য আর্তনাদ চাপা পড়ে যায় ইট কাঠ কংক্রিটের তলায়

উদ্ধারকারীর দল কাজ শুরু করতে করতে অর্ধেক শিশু শান্ত হয়ে গেছে প্রকৃতির রিরংসায়। নাজিয়াদের বাড়ির একটা দিকও ধ্বসে গেছে এই কম্পনে। কোনও মতে সে যখন ইস্কুলবাড়ির পথে দৌড়ায় তাকে আটকায় করিমচাচা সঙ্গে মিলিটারী পোশাকের একটা লোক। ওর হাতে ধরিয়ে দেয় আফসানার সেই নতুন ইস্কুল ব্যাগ রক্তলাঞ্ছিত আর শতচ্ছিন্ন সেটি। ওখানেই পাথর হয়ে যায় নাজিয়া, কথা জোগায় না মুখে

 
আজ ঈদ অবশেষে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় কাটিয়ে  দু এক ঘরে টুনি বাল্ব আর নিশান লেগেছে। রমজানী সাঁঝের ডালের বড়ার গন্ধ ভেসে আসছে ইতিউতি। চাঁদও উঠেছে একফালি  নিয়ম মেনেও। তবে এবারে আলোটা রূপোলী নয় যেন, লালচে

লিপি

ঘৃণার আগুন

দেবা

 

আমি এক জলন্ত অগ্নিপিন্ড,

সুপ্ত আগ্নেয়গিরির মতো,

অনেক কিছুই গাঁথা আছে মনে।

 

অগ্নুৎপাত ঘটেনি এখনও,

লাভা, ম্যাগমা বেরোয়নি,

যার সবটাই চাপা গোপনে।

 

মাঝে মাঝে কেঁপে ওঠে বুক,

চিন্তায় করে ধুক-পুক,

ভবিতব্য এমন হবে, ভাবিনি স্বপনে।

 

নীলকন্ঠ হব, বিষ কুড়োব,

বিষ্ণুর মতো, অমৃত বিলাবো,

সুখী থাকবে সব আপনে।

 

কিসের লালসা, কিসের অহংকার,

স্বপ্ননগরী শুধুই ছারখার,

আপনদেরই বিষ রোপনে।

 

বাঁচার আর ইচ্ছা করে না,

কর্তব্য তবু পিছু ছাড়ে না,
দগ্ধ এ বুক, ঘৃণার আগুনে।

লিপি

পরচুলা

সৌমেন দেবনাথ

 

অল্প বয়সে মাথার চুল পড়ে যাবে কখনো ভাবিনি। মা বললো, পরচুলা লাগিয়ে নিতে। মায়ের কথা মতো পরচুলা লাগিয়ে নিলাম। বাড়ি আসতেই কেউ আমাকে চিনছে না। প্রতিবেশিরাও জেনে হাসাহাসি করলেন। ঐ রাতে বিশেষ কাজে এক অচেনা ব্যক্তির সাথে আমার সাক্ষাতের প্রয়োজন পড়ে। অচেনা ব্যক্তিটির বাসায় যেতে যেতে রাত হয়ে যায়। লোকটি তখন আমাকে জোরারোপ করে বাড়ি আসতে দেননি। রাতে দুজন এক বেডেই ঘুমালাম। ঘুমাতে ঘুমাতেই দেখি লোকটি নাক ডাকাচ্ছে। যাহোক, পরচুলা খুলে আমিও ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে উঠে দেখি লোকটি আমার দিকে অবাক চোখে চেয়ে। বললেন, আপনি কি সেই লোক? রাতে তো আপনি আসেননি? কে আপনি?

 
আমি উনাকে নির্ভয় দিলাম। আর বললাম, পরচুলা পরলে চেনা লোকগুলো আমাকে চেনে না আর পরচুলা না পরলে অচেনা লোক চেনে না। হায়রে আমার টাক!

লিপি

অনুভূতি

নইমুদ্দিন আনসারী

                              

 

সেই দিনটা আজও হৃদয়ের ক্যানভাসের,

কোনো এক ঠিকানায় ঠিক বিরাজ করে

হাজারো প্রাণপণ প্রয়াস বারে বারে ব্যর্থ,

পরাজিত করতে সেই দিনের স্মৃতি নিবারণে

মুহূর্তে হাজারো হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নগুলো,

এসে ভিড় করে মনের অজান্তেই

সঙ্গে নিয়ে আসে কিছু আনন্দের অবকাশ,

আর কিছু বিসন্ন, ব্যাকুল হৃদয়ের হাহুতাশ

কেমনে ভুলে যায় বলো সেই সব স্মৃতি,

যা আজও মনের অতল গভীরে করে আবৃত্তি

হেমন্তের হিমেল হাওয়া,সামনে কাশফুল,

নীলাকাশে বাধামুক্ত সূর্যের রশ্মির নিচেই,

ছিলাম দাঁড়িয়ে আমরা বন্ধুগণেরা

হঠাৎ একটা মধুর কোকিলা সুর কহিল ,

রৌদ্র কি তোর লাগছে না? ছায়াতে আয়,

চল আমরা গল্প করি বসে হলঘর টায়।

রৌদ্র লাগেনি সেদিন কিন্তু মনে কিছু ছোঁয়া লেগেছিল,

কারণ তাঁর সামনে বন্ধুরা মোর বেশ তামাশা করেছিল

বেরিয়ে গেলাম দল ছেড়ে, রং লেগেছিল মনে,
ব্যাগ নিয়ে হেঁটেছিলাম দুজনে রঙিন পৃথিবীর কোণে।…..

লিপি

ব্যাচেলর ভাড়াটে

বদরুদ্দোজা শেখু

 

ভাড়াটে বাড়িতে আমি চুপচাপ থাকি, ভয়ে ভয়ে

সঙ্কুচিত চোখ-কানে চলাফেরা করি, পাছে কেউ

কোনো অপবাদ দ্যায়, একে ব্যাচেলর, লে কয়ে 

বুঝিয়ে সুঝিয়ে কোনোক্রমে পেয়েছি সামান্য ঠাঁই

হা-ঘরে শহরে, তাই নালিশের সংশয়ের ফেউ

পিছু ঘুরে, ভরসা নতুন-জোটা বন্ধু যে-কটাই

নেপথ্যে কটাক্ষ ঘুরে, ঘুরে মৃদু মন্তব্যের ঝাঁজ

আড্ডাবাজ মেয়েদের, বড়ো হয় ভয়ের জড়ুল,

ভয় আরো অধিক বাড়িঅলীর তিরিক্ষি মেজাজ–

চড়কগাছ চোখ কখন্ যে সাজাবে চক্ষুশূল

অসাবধানের ভুলচুকে, তাই আমার যা কাজ

নীরবে করাই ভালো, ভালো থাকা আত্ম-মশগুল

 

চোখ কান মগজে দেয়াল তুলেআধুনিক সভ্য 

সমাজের ভদ্রতা ধাতস্থ  করি পৌর কায়দায়

সুখে সুখতলি ঠুকে, লক্ষ্যহারা  জীবনের নব্য

নাট্যে আমি এক অধম নায়ক; আরক্ত দ্বিধায়

এড়াই ফ্যামিলি-প্রশ্ন মুরুব্বিজনের; নিরাপদ

দেয়ালে  নৈঃসঙ্গ্য মাথা কুটে, চোখে বিনিদ্র বিভ্রম,

ডাইনীর উপদ্রবে একা একা থাকার  বিপদ
বাড়ায় ভূতুড়ে রাত,ভরসা দ্যায় আঁতুড় কলম।

লিপি

বন্ধু

সঞ্জীব সেন

 

দরজার প্লাই এ হাত রাখলাম

গর্ত হল পাঁচ আঙুলের

কাল রাতে স্বপ্নটা এখানেই শেষ হয়েছিল

অনামিকার জায়গায় চোখ রেখে দেখছি

তিন মাস তিন দিন হওয়া বৌ পেলব হাসি নিয়ে মায়ের সাথে সংসার করছে

আর বুড়ো আঙুলের গর্তে এক বয়স্ক কবি কবিতা লিখছে

ওদের থেকে দূরে আছি

দূরে থাকা মানে দূরে রাখা নয়

সকাল সন্ধ্যায় দরজায় টোকা দেয়

একটা সুকোমল হাত

একটা মনখারাপ জানালায় বসে

এই কদিনেই কেমন বুড়ো হয়ে গেছি

তাই দেখে গাছটির দুঃখ হয়

মন ভোলাতে নিচু হয়ে হাতটা বাড়িয়ে দেয়
গাছেরা জানে স্বপ্ন ধূসর হলে প্রকৃতি বন্ধু পাতায়

লিপি

বিচিত্র

মধুসূদন রায়

 

কতই যে ঘটনা, ঘটিছে হেথায়!

চিত্রগুপ্ত বসিয়া লিখিছে তথায়।

কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়া মাঝারে

কে চায় কী? পায় কী তাহারে?

সত্য যেটি ভাবা যায়, সেতো সত্য নয়

নীলকান্ত মণী যাহা, সেতো নীল নয়।

রূপ, গুণ নাই থাক, থাক যদি মনে

ফিরাবে কেমনে সে রোদনের ক্ষণে।

যাহা বলেনি, করেনি প্রকাশ,

অপ্রকাশ কারো কাছে কী যে সর্বনাশ।

মায়াময় জগৎ যে মায়ারই আকর
যমরাজ ভেবে তাহা হইলেন পাথর।

লিপি

সমাপ্তি

প্রতাপ ঘোষ

 

অকারণ মনের ব্যার্থতা, নিরাশা, নিরালা ব্যস্ততায় দাপাদাপি অগভীর যন্ত্রণার ক্লান্ততার অবসান

 

চারিদিকে চোরাবালির ওই অগভীর ডাক ধু ধু করে চলছে। 

বিশ্ববরেণ্য! মানসিকতা বুক ছার-খার, দিনে দিনে। 

অবলা জীবেরা সুর তুলেছে প্রাগৈতিহাসিক এর কাছে!

ওই দূরে শোনা যায় শান্ততার অগভীর কোলাহল। 

দূরে থাক সব

উঠেছে ওই শবের ডাক। 
আমি তো এই শব এর দে-শ এর পাহারায়!

লিপি

হায়রে গ্যাসট্রিক

রূপো বর্মন

 

জানি রোগ ব্যাধি মানব দেহে সর্বত্র বিরাজমান  

কিন্তু তার নামটা সর্বদা বেশি আসে কন্ঠে

যার জন্য

খেতে পারি না প্রোটিন আর ফাইবারযুক্ত খাবার ইচ্ছে মতো 

ভিড় জমাতে পারি না পাঁচমাথা মোরের ওই চপের দোকানে 

বিয়ে বাড়িতে যেতে ভয় হয় ঝাল-মশলাদার খাবারের কথা ভেবে 

জিভ থেকে লালা ক্ষরণ হলেও মুখে দিতে পারি না ফাস্টফুট

কর্ম ব্যস্ততার মাঝেও স্বাস্থ্যের কদর করি 

তবুও অ্যান্টাসিডের ট্যাবলেট গুলো সঙ্গ ছাড়ে না 

যথেষ্ট জল খাই টেনশন কমাই ঘুমাই 

তবুও আঁকড়ে ধরে স্বস্তি নেয় কেড়ে 
হায়রে গ্যাসট্রিক!

Share This

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on telegram
Share on email

Editorial Board

  • Reviewed by Gobinda Sarkar (Editor)
  • Designed & Published by Akshay Kumar Roy (Editor)

For More Information, Click Here

For any type of Suggestion, Question, or Help, please contact us at this mail – [email protected]

Follow Us

0 0 votes
Writing Rating

Related Articles

Saturday Lipi | Bangla | May, 2nd Week

লেখক লিপি দুই পুরুষ বদরুদ্দোজা শেখু এতো রাতে কে বাজায় মরমীয়া ভাটিয়ালি সুর বাঁশের বাঁশিতে? কিহে, ক’টা বছরেই সব ভুলে  গেছো বেমালুম? মনে নেই—কত নিঝুম…

কবিতা | Saturday Lipi | Bangla | 1st Week

সূচীপত্র   কবিতা প্রেম লিখেছেন – বনমালী নন্দী   জামার ভিতর গভীরতম এক জামা প্রেম সম্পর্ক মৃত্যু অন্ধকারের ভিতর শুধু মেঠো পথ শরীরজামা  জামশরীর ও…

Saturday Lipi | Bangla | May, 1st Week

ফাঁপা লেখক, সাঁকো, যোগ- বিয়োগ, নুন, কালচক্র, যে গল্পের শেষ হলো না, মঁচশিল্প, ভোলার নয় সখি সেই দিনের কথা.., ঠিকানা, মা জননী, শিশু মন, মনের ডায়েরি, মায়ের স্নেহ

Saturday Lipi | Bangla | April, 3rd Week

রতন বসাক, অনিমেষ মন্ডল, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, সঞ্জীব সেন, প্রতাপ ঘোষ, গোবিন্দ বর্মন, সুনীতা, রূপম শিকদার, বিষ্ণু পদ রায়, নইমুদ্দীন আনসারী, জয়শ্রী দাস, সৌমেন দেবনাথ, রবীন জাকারিয়া, তনুশ্রী দাস, নাসিরা খাতুন, রূপো বর্মন,

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments