Saturday Lipi

ছোটগল্প | Saturday Lipi | Bangla | 1st Week

সূচীপত্র

ছোটগল্প

ইলিশ

লিখেছেনসৈকত সাহা

 

ও রুপার মা, মাইয়াটাকে আর একখান ইলিশ দিয়া যা, বেটি আমার ইলিশ খেতে বড় ভালোবাসে।

দিতাছিগ দিতাছি, তোমার মাইয়ার লগেই তো আনতাছি। তুমি আর একখান লাউ।

তুর আছে তো? লা সবখানে আমাদের লগে দিয়া দিলি?’

আছেগো আছে।

যা, তোর ভাত লিয়ে আই, কতদিন একসাথে খাইনাই

রূপাও বলে উঠলো, ‘ লিয়ে আইসনা মা, একসাথে খাব আইজ।

দিনু, এই দিনু, উঠে আই, কইরে ঘুমাচ্ছিস নাকি?’

কনস্টেবলের হাকরানীতে দিনুর ঘুম টা ভেঙে গেল

ইস এত সুন্দর স্বপনটা আর কখনো সত্যি হবেক? মাইয়াটা ইলিশ খাইতে কত ভালোবাসে।ভাবতে ভাবতেই আবার কনস্টেবলর দাবড়ানি, “কি রে চল, তোকে মেজ বাবু ডাকছে।

মেজবাবুর সামনে সেই লোকটাও দাঁড়িয়ে আছে, দিনু লজ্জায় চোখ তুলে তাকাতে পারছে না। কাল একেই আঁশ বটিন নিয়ে মারতে গেছিলো। আসলে মাথাটা এমন খারাপ হয়ে গেল, ওনার দরদাম শুনে, আর তার আগে সকালে আড়তে খারাপ গালি শুনেছে আগের ধার না মেটাতে পারায়। রাখো বাবু তো মাছ দিতেই চাইছিল না, ভাগ্গিস কাল ওনার বাবা ওখানে ছিলেন, অনেকদিন দিনুকে চেনেন, কিন্তু আর কি লাভ। যা ভুল করেছে এখন জেলেই পচে মরতে হবে, রুপা আর ওর মায়ের কথা ভেবে দিনুর চোখে জল ভরে গেল

মেজবাবু বললেন, “এই যে দিনু, উনি তোমার এগাইনস্ট এ কমপ্লেইন টা তুলে নিচ্ছেন, কিন্তু পরে এমন করলে কিন্তু আমি একদম ছাড়বো না বলে দিলাম। যাও তুমি বাড়ি যাও।

দিনু নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছিল না, তার মতো লোকের জন্য এ বাবুর এত দয়া, আর ও কিনা, আর কিছু না ভেবে দিনু সটান ওনার পা ধরে ক্ষমা চাইতে গেল

উনি বললেন, “কি করছেন কি, রুপা আর আমার মেয়ে মোনালি খুব ভালো বন্ধু, ও তো প্রতিদিন আমার বাড়ি আসে, মোনাও তো আপনার বাড়ি যায়।

, আপনি মোনার বাবা?”

হ্যাঁ, আপনি আমাকে ক্ষমা করবেন, আমিও কাল খুব খারাপ ব্যবহার করেছিলাম

আরে কি বলতাসেন?” 

দিনু ভাবতে ভাবতে বাড়ির দিকে পা বাড়াই, এই কদিনে ও কতকিছু দেখলো, ওদের গাড়ি উল্টে যাওয়ার পর মানুষের ইলিশ লুট করা দেখেছে, আহত লোকগুলো যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে দেখেও কেউ একটু এগিয়ে পর্যন্ত আসেনি, সেদিনের বাচ্চা রাখোর কাছে মা বউ তুলে গালি শুনেছে, সারারাত হাজতবাস, ভগবান আর কি দেখাবে কে জানে। এই ভরা ইলিশের সময়ে মাইয়াটার মুখে এক খান ইলিশ তুলে দিতে পারলো না“, ভেবেই কাঁদতে লাগলো

এই যে দিনু বাবু, শুনছেন

দিনু চোখ মুছে ঘুরে দেখলো, মোনার বাবা

বলেন

বলছিলাম, সামনের মাসে মোনার দিদির বিয়ে জানেন তো।

, মোনা বলতেছিলো।

বলছিলাম, আমার প্রায় 500 লোক খাবে, আর আমাদের মাংশ করা যায় না। তাই ভাবছিলাম ইলিশ, চিংড়ি আর একটা কাতলা টাইপের মাছ করবো। তা আপনি একবার আসুন না, কত লাগবে মাছ আর টাকার একটা এস্টিমেট করে দেবেন, আপনি এটা দেওয়ার দায়িত্ব নিলে সবচেয়ে ভালো হয়।

এতবড় অর্ডার আমি লিব?”

কেনো? পারবেন না?”

না, পারবো

আসলে আপনি নিলে মোনার দিদির বিয়ে তে যে যত্নটা করবেন, অন্য কেউ তো সেটা করবে না। তাহলে আজ সন্ধ্যায় রুপাকে নিয়ে একবার আসুন, এই কাজ টা হয়ে গেলে আমার মাথা থেকেও একটা দায়িত্ব নামবে।

দিনু আর কথা বলার মতো অবস্থায় নেই, ও এখন আকাশে উড়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছে, আর কাল থেকে ভগবানের খেলা দেখে শুধু অবাক হচ্ছে। 

তাহলে আজ সকালের স্বপ্নটা সত্যি হবে, মা বলেছিল, “সকালের স্বপ্ন সত্যি হয়।

 

 

মিডিয়া কাভারেজ

লিখেছেনরবীন জাকারিয়া

 

আমি একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারী সংস্থায় রংপুরে কর্মরত৷ আমার ডিরেক্টর স্যার ডেকে বললেন যে “HIV-AIDS বিষয়ে দেশের সর্বাধিক পঠিত একটি জাতিয় দৈনিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা দল ও আমাদের সংস্থা যৌথভাবে মাঠ পর্যায়ে Floating and Residential prostitute দের উপর একটি Survey করা হবে৷ যেহেতু আপনার বাসা রংপুর শহরের কেন্দ্রস্থলে এবং পরিচিতি আছে তাই সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে আপনাকে নির্বাচন করা হয়েছে৷ নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে জানানো হয়েছে এবং প্রত্যেকের আইডি কার্ড দেয়া হবে৷ আপনি আজ রাতে হোটেল রজনীগন্ধায় গিয়ে অন্যান্য কলিগদের সাথে পরিচিত হবেন এবং সকলে মিলে একটি স্কেজ্যুয়াল তৈরি করে কাজে নেমে পড়বেন৷

সেল ফোন নম্বর দেয়া ছিল৷ অচেনা কলিগদের সাথে যোগাযোগ করে রাত আটটার সময় হোটেলে গেলাম পরিচিত হয়ে পরিকল্পনা তৈরির উদ্দেশ্যে৷ সেখানে পৌঁছানোর পর দেখলাম দুটি ছেলে ও দুটি মেয়ে আমার অপেক্ষারত৷ পরিচয় পর্বে জানলাম ছেলে দুটির নাম রেজা ও সেলিম আর মেয়ে দুটির নাম রেবা ও জয়িতা৷ সকলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত৷ আমিও নিজের পরিচয় দিলাম৷ কিন্ত অদ্ভুত বিষয় হলো ওদের কাউকেও কেন জানি পছন্দ হলো না৷ বিশেষ করে রেজা ও সেলিমকে কেন জানি মাদকাসক্ত মনে হলো৷ যদিও এটা আমার সন্দেহ৷ 

যাহোক সকলে মিলে একটা প্ল্যান তৈরি করলাম৷ গলায় আইডি কার্ড ঝুলিয়ে রাত বারোটার দিকে দুটি দলে বিভক্ত হয়ে কাজে নেমে পড়লাম৷ স্পট সুরভি উদ্যান৷ ফুটপাত, বাগানের ভেতর, ল্যাম্প পোস্পের নীচে উগ্র সাজে  কিছু নারীদের এলোমেলোভারে হাঁটা হাঁটি লক্ষ করে তাদের সাথে কথা বলা শুরু করলাম৷ প্রথমে খদ্দের ভেবে বেশ আন্তরিকতা দেখালেও আমাদের উদ্দেশ্য জানার পর একে একে সকলে কেটে পড়লো৷ আমাদের দ্বিতীয় দলটি যারা রংপুর কলেজের রাস্তায় মিশন চালাচ্ছে তাদের অবস্থাও অনুরুপ৷ ভীষন মুসকিল৷ চিন্তার বিষয়৷ অবশেষে কৌশল পাল্টিয়ে খদ্দেরের ভুমিকায় অবতীর্ণ হলাম৷ ভাগ্যক্রমে একজনকে পেলাম কিন্ত সে বললো আমরা আপনাদের কোন উত্তর দেবনা আমাদের লিডার ছাড়া৷ লিডারকে আনা হলো ৷ বলা হলো তাদের নষ্ট হওয়া সময়ের জন্য পারিশ্রমিক দেয়া হবে৷ রাজি হলো৷

নাম জিজ্ঞেস করতেই বললো, জড়িনা৷ 

সাথে একথা সাফ জানিয়ে দিল তারা সকলেই ছদ্মনাম ব্যবহার করে৷

 

 

দশ বছর যাবৎ এ পেশায় আছে৷ নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে৷ ভালবেসে একটি ছেলের সাথে পালিয়ে এসে ঘর বাঁধে৷ স্বপ্নের এক ঘর ৷ যা প্রত্যেক নারী হৃদয়ে লালন করে ৷ কে জানতো তার স্বপ্নের সেই রাজকুমারটা একটা ঠগ৷ বাটপার৷ নারী পাচারকারী? একদিন সন্ধ্যায় সে বেড়াতে নিয়ে যাবে বলে সাজিয়ে-গুজিয়ে একটা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বললো, “তুমি একটু বসো আমি আসছি৷আর কখনোই সে আসেনি ৷ পরে জানতে পারলামআমাকে সে বিক্রি করে দিয়েছে৷কিছুক্ষণ থেমে থাকলো, তারপর হু হু করে কাঁদতে থাকলো জড়িনা৷ বাঁধা দিলাম না ৷ বরং নিজেদের চোখে কিছু একটা পড়েছে এমন ভান করে নিজের চোখের নোনা জলটুকু মুছে ফেললাম সুকৌশলে ৷ আমি চাইনি এ দৃশ্যটা আমার কলিগ জয়িতা দেখুক৷ কেননা কোন নারীই কাঁদুনে পুরুষ পছন্দ করে না৷

কিছুক্ষণ পর আবার জড়িনা তার জীবনের করুণ কাহিনী বলতে লাগলো৷ আমার নতুন ঠিকানা হলোপতিতালয়৷ জোর করে এরা আমাকে এ পেশায় আসতে বাধ্য করলো৷ তাছাড়া বাড়ি ফেরার পথটাতো নিজেই চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছি৷

একেবারে নতুন অবস্থায় রোজগার বেশ ভালই হতো৷ ভাল-মন্দ খাবার জুটতো ৷ আপনাদের মতো অনেক সাহেব ২-৩ দিনের কন্ট্রাকে বাহিরে কিংবা পার্টিতে নিয়ে যেত ৷ তখন ক্ষমতাও ছিল ৷ বখাটেরা বিরক্ত করতো না ৷ কিন্ত এখন? একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে জড়িনা বললো আজ দুদিন ধরে বৌনি নেই ৷ কিছুক্ষণ আগে একজন সরকারি দলের মস্তান এসে স্ফুর্তি করলো ৷ টাকাতো দিলই না উল্টো হুমকী দিল যাতে কেও জানতে না পারে৷  কী বলবো ভাই! যখন ভাটিখানায় পতিতালয়টা ছিল৷ তখন থাকার একটা জায়গা ছিল ৷ নিরাপত্তা ছিল ৷ আর এখন কুকুর-বিড়ালের মতো লোকে ঘৃণা করে ৷ অথচ রাতে ওরাই পয়সার বিনিময়ে আদর খোঁজে ৷ আমাদের বাঁচান ৷ এ পথে থাকতে চাই না ৷ 

এইডস ও অন্যান্য যৌণরোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বলে সবই জানি কিন্ত কী হবে আর বেঁচে থেকে? আর যারা রাতে সোহাগ কিনতে আসে৷ সেসব শয়তানগুলো মরলেতো দুনিয়ার মঙ্গলই হবে ৷ মাঝে মাঝে কিছু লোক এসে কনডম দিয়ে যায় কিন্ত ওরা কনডম ব্যবহার করতে চায় না৷

এরপর জড়িনার মতো আরো অনেকের সাথে কথা বললাম দুটি দলই৷ জানতে পেলাম এ পেশায় কেউ এসেছে প্রেমের ফাঁদে৷ কেউ সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে ৷ কেউবা এসেছে অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার টাকা যোগাড়ের জন্য ৷ তবে কেউই স্বইচ্ছায় আসেনি ৷ 

প্রায় ভোর হয়ে এলো তাই সেদিনের মতোমিশনশেষ করলাম ৷

দ্বিতীয় দিনেরমিশন” Residential Prostituteদের মধ্যে যারা কলেজ, মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইন্সটিটিউটের হলে কিংবা ছাত্রী নিবাসে অবস্থান করে ৷

এখানের অভিজ্ঞতা বড়ই দুঃখজনক ও লজ্জাষ্কর৷ এরা কেউই দারিদ্রের কিংবা অসহায়ত্বের কারণে এ পথ বেছে নেয়নি বরং বাড়তি রোজগার, দামি উপঢৌকন, নামকরা রেস্তোরায় ফাও খাবার আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেত্রী হিসেবে দলীয় ক্ষমতার ফোকাসে থাকার অভিপ্রায়ে ৷ এদের এ বিষয়ে কোন অপরাধবোধ দেখিনি বরং নোংরামোকে আধুনিকার ফ্লেভার দেয়ার অবিরাম চেষ্টা ৷ ভাসমান পতিতাদের জন্য আমাদের প্রচন্ড দুঃখ হয়েছে কিন্ত এদের জন্য ঘৃণা ছাড়া অবশিষ্ট ছিল না কিছু ৷ হায়রে শিক্ষা৷

 

 শেষ দিন আমাদেরমিশনহলো Residential Prostitute দের মধ্যে যারা অভিজাত এলাকায় প্রশাসনের সহযোগিতায় রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে যারা ছোট-থাট আধুনিক পতিতালয় বানিয়ে চাকুরির প্রলোভনে বিভিন্ন মেয়েদেরকে উচ্চ রেটে এ পথে নামাতে বাধ্য করেছে ৷ তারই একটি চিত্র ৷

আমরা সকলে শহরের অভিজাত এলাকা ধাপে অবস্থিত একটি প্রাসাদোপম বাড়ির প্রধান ফটকের কাছে যেতেই দারোয়ান আটকিয়ে জিজ্ঞেস করলো কার কাছে যাবেন ৷ গেটে লাগানো নেমপ্লেট দেখে তৎক্ষণাৎ নামটা বললামশাবরিনা আক্তার পপি ম্যাডাম৷ উত্তর দিল উনার স্বামীতো আমেরিকাতে থাকেন ৷ ম্যাডাম ওনার তিন কণ্যা ও তার ভাগ্নিকে নিয়ে থাকেন ৷ তাছাড়া ম্যাডাম সরকারী মহিলা দলের নেত্রী ৷ আপনারা অনুমতি ছাড়া ভেতরে যেতে পারবেন না৷ 

হঠাৎ রেবা আর জয়িতা বললো আমরা দলীয় কাজে ম্যাডামের সাথে দেখা করতে এসেছি ৷ উনিই ডেকেছেন ৷ দারোয়ানের কাছে ছাড়া পেয়ে বাড়ির দরজায় দাঁড়ালাম ৷

কলিং বেল বাঁজানোর সময় ভয়ে বুক ঢিপ ঢিপ করছে ৷

কয়েকবার কলিং বেল বাঁজানোর পর দরজা খুললো ৷ দরজায় দাঁড়িয়ে আছে অসম্ভব সুন্দরী ও স্মার্ট একটি মেয়ে ৷ ও দেখতে যতটা সুন্দর তারচেয়েও চরম বেয়াদব বলে মনে হলো ওর আচরণে ৷ কর্কশ স্বরে বললো কাকে চাই? পপি আপা ৷ উনি বাড়িতে নেই ৷ পরে আসবেন বলে দরজাটা বন্ধ করছিল ৷ আমি দৃঢ় এবং ধমকের সুরে বললাম ৷ দাঁড়ান ৷ আপনি চেনেন আমাদের? উনি আমাদের আসতে বলেছেন ৷ মেয়েটি কিছুটা ভীত হয়ে নরম স্বরে বললো, ভেতরে আসুন ৷ ড্রয়িংরুমে একটি সোফায় বসতে বলে চলে গেল ৷ অন্য কামরা থেকেকে এসেছেরে রিতা“? বলে আর একজন ললনা ঢুকলেন ৷ কুশল বিনিময়ের পর তার সাথে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতে থাকলাম৷ সুকৌশলে পপি আপা আসলে কী করেন ৷ কী তার পরিচয় সেসব বিষয়ে ধারণা নিতে থাকলাম ৷ মেয়েটির নাম ছন্দা ৷ ওর সাথে গল্প করে জানা গেল সে তার ভাগ্নি নয় ৷ তাকেও চাকরির মিথ্যে আশা দিয়ে এখানে আটকে রেখেছে৷ সে তার প্রস্তাবে রাজী নয় বলে অকথ্য নির্যাতন করছে ৷ কিন্ত পালাবার পথ পাচ্ছে না ৷ আমরা তাকে আশ্বস্থ করায় সে সমস্ত গোঁমর ফাঁস করে দিল ৷ যেটা জানা গেল তার সারাংস হলো ৷ পপি আপা আসলে দলীয় ও নারী নেত্রীর ছদ্মবেশে উঁচু দরের একজন Prostitute এবং চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে ক্ষমতা আর প্রভাব খাটিয়ে অনেক সহজ-সরল মেয়েকে এ জঘণ্য পেশায় নিয়োজিত করেছে ৷ ওনার তিন মেয়ে ও Husband আমেরিকা প্রবাসী সব মিথ্যে কথা ৷ 

আমরা পাঁচজনই হতবাক ৷ এ যে হুমায়ুন আহমেদের কোথাও কেউ নেই নাটকের বাকের ভাইয়ের মত অবস্থা ৷ ভয় করতে লাগলো ৷ ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় পালাতে বলছে ৷ সকলে ঠিক করলাম এখনি চলে যাব কিন্ত বাঁধ সাধলো ছন্দা ৷ সেও আমাদের সাথে পালাবে ৷ যেহেতু কথা দিয়েছি তাকে Protect করবো তাই তাকে তাড়াতাড়ি রেডি হতে বললাম ৷ ও আসছি বলে ভেতরে গেল৷ কিছুক্ষণ পর একটা লাগেজ নিয়ে আমাদের সাথে যোগ দিল ৷ কিন্ত কথায় আছে নাযেখানে বাঘের ভয়, সেখানে সন্ধ্যা হয়৷ ঠিক সই সময় পপি আপা হাজির ৷ ভেতরে ঢুকেই তিনি বললেন আরে কী ব্যাপার আমার সাথে দেখা করতে এসেছেন ৷ এতক্ষণ অপেক্ষা করলেন ৷ অথচ কথা না বলে চলে যাচ্ছেন ৷ এটা কি ঠিক হচ্ছে? বসুন, বসুন ৷ একটু চা-নাস্তা খাই ৷ গল্প করি ৷ তারপর ভেবে দেখা যাবে আপনারা আজ আমার অতিথি হবেন ৷  নাকি চলে যাবেন ৷ 

পাশ ফিরে ছন্দার দিকে তাকিয়ে বললেন ৷ বাহ্! আপনারা কি ছন্দার বাপের বাড়ির লোক? ওকে কি নাইওর খেতে নিয়ে যাচ্ছেন? 

পপি আপা ফোনে কারো সাথে কথা বললেন৷ বুঝতে পারলাম পুলিশে খবর দিয়েছেন৷ আমরা অসহায়ভাবে বসে আছি আর দোয়া-দরুদ পড়তে থাকলাম৷ 

কিছুক্ষণ পর হুইসেল দিয়ে পুলিশের ভ্যান এসে হাজির৷ আমাদের কোন কথা না শুনেই ছন্দাসহ আমাদের ছয়জনকে থানায় আনা হলো৷ আমরা কিংকর্তব্যবিমূঢ়! আমাদেরকে কারো সাথে যোগাযোগ করতে দেয়া হলো না৷

ঘন্টাখানেক পর আমাদের লকআপ থেকে বের করে আনলো পুলিশ৷ টান দিয়ে ছিঁড়ে ফেললো গলায় ঝুলানো আমাদের আইডি কার্ড৷ পরিবর্তে ঝুলিয়ে দিল বড় হরফে প্রত্যেকের নাম লেখা বোর্ড৷ সারা দুনিয়া লাইভ টেলিকাস্টে দেখলো অসামাজিক কার্যকলাপরত অবস্থায় পুলিশ কর্তৃক তিন জোড়া কপোল গ্রেফতার৷

 

 

 

আর সেই গন্ধটা

 লিখেছেনসঞ্জীব সেন

 

একবার যখন কাউকে ভালবাসবি দেখবি ভিতর থেকে কেমন তুলতুলে লাগবে

 

কোথায় গেল সেইসব দুপুর, পাশাপাশি হেঁটে চলা কিম্বা লাইব্রেরির  রিডিং রুমে মুখোমুখি বসে ,সেইসব স্মৃতির দুপুর , কোথায় গেল!

 

আকাঙ্ক্ষা মনের ভিতর থেকে যায় কখনো মৃত্যু হয় না, আত্মসমীক্ষার জন্য একটা দিনই   যথেষ্ট

এখন আমার যে বয়স স্বীকার করতে দ্বিধা নেই

হ্যাঁ, আমি তাকে আকাঙ্ক্ষা করতাম, তাকে বুঝতে না দিয়ে আমি বারবার প্রেমে পরেছি  ভালবেসে গেছি বয়সের চেয়ে বড় এক নারীকে, আমি স্যাপিওসেক্সুয়াল, আমি সেই নারীর প্রতি প্রথমে মুগ্ধ হয়েছি তার   সৃজনশীলতায় তারপর রুপটানে. তাই আজ আমাকে তার লৌকিক মৃত্যুর পর তার  ছাই থেকে  খুঁজে নিতে হবে সেই অলৌকিক কস্তুরী নাভি

 

কতদিন এমন হয়েছে দিপালি দি গোলাপি আর হলুদ শাড়ির সাথে ম্যাচিং ব্লাউজ পড়ে সদ্য স্নান করে কোথাও যাচ্ছে । আর গা থেকে উড়ে আসছে ফুলের গন্ধ আর আমায় ঘোর লাগিয়ে দিচ্ছে । একদিন বলেই ফেললাম তুমি যেমন সুন্দরী  তোমার লেখাগুলোও তেমন সুন্দর।দিপালি দি একটুও অহঙ্কারী না হয়ে বলেছিল কি দেখে আমাকে এত সুন্দরী মনে হল বলবি?” এমন প্রশ্নে কী উত্তর দেওয়া যায়। কী করেই বা ব্যাখ্যা    করব জানিনা, তোমার হাঁটা চলা তোমার সুকোমল  হাত  দিয়ে বাস থামিয়ে উঠে যাওয়া ভিজে চুল গায়ের অচেনা ফুলের গন্ধ সবকিছু আমাকে পাগল করে তোলে । তবুও ভেবে নিয়ে বললাম কেন তোমার ঘরে আয়না নেই !দিপালিদি অসামান্য হাসিটা ছুড়ে দিয়ে হাত দিয়ে অটো থামিয়ে চলে গেছিল আর সেই গন্ধটা আমায় চোরাস্রোতের ভিতর নিয়ে গেল । আরাকদিন সাহস করে বলেই ফেললাম তোমার উপন্যাস গুলোয় এত যৌনতা কেন!উত্তরে বলেছিল কেন রে, মেয়েদের লিবিডো  থাকেনা, ভার্জিনিয়া উলফ  এইজন্য বলেছিল মেয়েরা চাইলেও কোনদিন সেক্সপিয়ারের মত   লিখতে  পারবে না।    আর  চলে যেতেই সেই গন্ধটা আবার আমায় গভীরে নিয়ে গেল

এরকম মোচড় দেওয়া লেখা কেউ কি লেখে?

আর এই লেখার সূত্র ধরেই কি জন্ম নেয় প্রেম!

দিপালি দি কে হয় আমার, পড়শি, প্রেমিকা না  , না মনের অন্তরালে এক অন্তরতম চরিত্র, যখন প্রতিরাতে নিয়ম মেনে স্বপ্নে আসে, হুবহু উপন্যাসের মত, এসে বলে অরণ্য আমায় চুমু খাবে, সেই প্রথম আমার কোন নারীকে চুমু খাওয়া, দিপালি দি যখন বলে ওঠে অরণ্য তুমিই আমার প্রথম অরণ্যপুরুষ, আরাকদিন যখন স্বপ্নে ভ্রমণ করি দিপালি দির স্নানঘরে গোপন প্রেমিক হয়ে ।কেন এমন স্বপ্ন আসে বার বার ।দিপালি দি বিয়ে করল না, বয়স কি থেমে থাকে ! দিপালি দি চার বছরের বড়। আমি সামান্য গেঞ্জি কারখানার অয়ার্কার। আমার জীবনটা অন্য খাতে বইতে পারত। মাধ্যমিকে স্টান্ড করা স্টুডেন্ট, হ্য়ারসেকেন্ডারিতে গিয়ে সাধারণ মার্কস তারপর এক লিডারের হাতে ধরে গেঞ্জি  কারখানায় আসা । আমার কী স্বপ্ন মানায় । এই কথাগুলো  মাঝেমধ্যে মাথায় ভিড় করে ওঠে । দিপালি দি হাসপাতালে ভর্তী । ডাক্তার বন্ধুর সুত্রে জানতে পারি, ব্রেস্ট ক্যান্সার ।কাটা যাবে দুটো স্তন, স্বপ্নে আসত দিপালিদি রাতের পোশাকে  বলছে অরণ্য তোমার চুমুর অপেক্ষায় আছি, ওর ভরাট বুকের ভিতর চুমু দিতে গেলে জড়িয়ে ধরত । সেই স্তনদুটো কাটা  যাবে। হঠাৎ বাজ ডেকে উঠল সকাল থেকেই মেঘে ঢেকে ছিল । আমার কথাটা ঢাকা পরে গেল সেই বাজের ভিতর। দিপালি দি আমি তোমায় ভালবাসি, খুব ভালবাসি। যখন চোখ খুললাম হাসপাতালের মেল ওয়র্ডে । কতদিন এভাবে ঘুমিয়ে ছিলাম।  উপন্যাসের প্রতিটি সংলাপ মাথায় হাতুরীর মত আঘাত করছে। মাথা ভার হয়ে আছে ।যখন চোখ খুললাম দেখি   চেনামুখগুলো দাঁড়িয়ে আছে , আবার মাথাটা ভার হয়ে আসছে। অনেক কষ্টে চোখ খুলে রাখার ব্যর্থ চেষ্টা করছি, আবার হাতুরীর শব্দ। করাত-কাটার শব্দ। চোখ বন্ধ হয়ে এল আর দেখতে পাচ্ছি দিপালি দি  এগিয়ে আসল। বলল উঠিস না, কাছে আসল আমি তাকিয়ে ছিলাম বুকের দিকে, দিপালি দি কানে কানে বলল, অরণ্য  খুব ভালবাসিস না আমাকে, কি হয়েছিল সেদিন তোর, সর্বনাসের  মাথা খেয়েছিল উপন্যাসের মত, নাহলে গলির মোড়ে ঐভাবে চুমু খেলি, আমি কী তোর গোপন প্রেমিকা আর তুই কি আমার প্রথম অরণ্যপুরুষ । মাথাটা এখন বেশ হালকা লাগছে, স্পষ্ট হচ্ছে দৃষ্টি, চেনামুখের ভিতর দিপালিদিকে খুঁজছি, আবার সেই সংলাপগুলো, কে হই আমি তোর! প্রেমিকা! আর সেই ফুলের গন্ধটা মাতাল করে তুলছে,

 

আবেগ

 লিখেছেননাসিরা খাতুন

 

 

“I love you”,,,,হঠাৎ সকাল সকাল কি পাগলামি শুরু করেছ? দেখ আমি তোমাকে খুব ভালো বন্ধু ভাবি এর থেকে বেশি কিছু আশা কোরোনা প্লিজ,,,,,,একি তুমি কাঁদছো? প্লিজ কান্নাকাটি কোরোনা আমার কথা শোনো,,,,,আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে আজ থেকে এক বছর আগে আমার মামাতো বোনের সাথে,আর ও আমাকে খুব ভালোবাসে। আর তুমি? বল তুমি ওকে ভালোবাসো? কি হল চুপ হয়ে গেলে যে তুমি কি সত্যিই ওকে ভালোবাসো নাকি বাবা-মায়ের কথাতে বিয়েতে হ্যাঁ বলে দিয়েছো? সত্যি কথা বলো প্লিজ,,,,, “I love you” মানে কি বলছো কি তুমি? মাথার ঠিক আছেতো?এই তো বললে একখুনি তোমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। ঠিকই শুনেছ তুমি কিন্তু এখন আমিও তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি আর এটাই সত্যি। আমার একটা কথা রাখবে? হ্যাঁ নিশ্চয়ই। আগে প্রমিশ করো আমি যা বলবো শুনবে!আমাদের ভালোবাসার দিব্যি যত তারাতারি সম্ভব তুমি আমাকে ভুলে যাও,আর মনের মতো কাউকে পেলে জীবনসাথী বানিয়ে নিও। কাল রাতেই আমার বিয়ে,বরি যাওয়ার পথে ভাবলাম তোমার সাথে একবার দেখা করে যাই,তুমি আমাকে ভালোবেসে ফেলবে আমি বুঝতে পারিনি….. “I am so sorry”, নিজের খেয়াল রেখো চললাম

 

ভুলে যাওয়া যদি এতই সহজ হতো তাহলে দিনের পর দিন আমাদেরকে এই মিথ্যে অভিনয়গুলো করতে হতোনা, ভুলবেনা জেনেও কেন এই মিথ্যে ভোলার চেষ্টা

 

Download Pdf

সম্পাদক

অক্ষয় কুমার রায়

গোবিন্দ সরকার

 

Reviewed by Gobinda Sarkar

Managed, Designed & Published by Akshay Kumar Roy

 

সকল লেখকদের প্রতি আমাদের আমন্ত্রণ রইল লেখা পাঠানোর জন্য প্রত্যেক রবিবার থেকে শুক্রবার বিকেল ৫ টার মধ্যে । আপনি লেখা পাঠাতে পারেন আপনার কোনো পছদের বিষয়ের উপর, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কোনো বিষয়ের উপর, অথবা আমাদের প্রত্যেক সপ্তাহের নির্বাচিত বিষয়ের উপর

আরো জানতে এখানে ক্লিক করুন

লেখাগুলি পড়ে আপনার মূল্যবান মতামত জানানোর অনুরোধ রইলো।

Related Articles

Saturday Lipi | Bangla | April, 2nd Week

নইমুদ্দিন আনসারী | সঞ্জীব সেন | সৈকত চক্রবর্তী | রবীন জাকারিয়া | সৌমেন দেবনাথ | বনমালী নন্দী | ইলিয়াস খাঁ | গোবিন্দ বর্মন | বদরুদ্দোজা শেখু | তীর্থঙ্কর সুমিত | রূপো বর্মন

Saturday Lipi | Bangla | May, 1st Week

ফাঁপা লেখক, সাঁকো, যোগ- বিয়োগ, নুন, কালচক্র, যে গল্পের শেষ হলো না, মঁচশিল্প, ভোলার নয় সখি সেই দিনের কথা.., ঠিকানা, মা জননী, শিশু মন, মনের ডায়েরি, মায়ের স্নেহ

Saturday Lipi | Bangla | May, 2nd Week

Post Views: 636 লেখক লিপি দুই পুরুষ বদরুদ্দোজা শেখু এতো রাতে কে বাজায় মরমীয়া ভাটিয়ালি সুর বাঁশের বাঁশিতে? কিহে, ক’টা বছরেই সব ভুলে  গেছো বেমালুম?…

Saturday Lipi | Bangla | April, 3rd Week

রতন বসাক, অনিমেষ মন্ডল, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, সঞ্জীব সেন, প্রতাপ ঘোষ, গোবিন্দ বর্মন, সুনীতা, রূপম শিকদার, বিষ্ণু পদ রায়, নইমুদ্দীন আনসারী, জয়শ্রী দাস, সৌমেন দেবনাথ, রবীন জাকারিয়া, তনুশ্রী দাস, নাসিরা খাতুন, রূপো বর্মন,

Saturday Lipi | Bangla | May, 5th Week

আমার সাধ না মিটিল, যাজ্ঞসেনী আর পাঁচজন, যোগসূত্র, সেই জানলাটা আজও বন্ধ, ছয় পুরুষ , তরুণ সন্ন্যাসী, একজোড়া ফুলকপি ও শীতকালীন বনভোজন, মোহনার চরিত্র, কলরব, করি খুশির ঈদ, অহংকারী

Responses

Your email address will not be published. Required fields are marked *