Saturday Lipi

Saturday Lipi | Bangla | April, 2nd Week

লেখক

মানবতার অভাব

নইমুদ্দিন আনসারী

মানবতার অবক্ষয়ে হইয়াছে অবতীর্ণ আজ কিছু ধর্মের অবতার,

নাইকো কারো মনে কোনো  আরাধনা আল্লাহ, দেবতার

তিলক ঝাকিয়া দাবি করে কেহ কেহ হিন্দু বলিয়া,

দাড়ি গোঁফ সেফ করিয়া ভান করে কেহ কেহ মুসলিম সাজিয়া

হয়তো সে রহিয়াছে বিরত আজীবন মহাভারত পঠনে,

কিন্তু সে উচ্চস্বরে কহে প্রায়শই জয় শ্রী রামযতনে

হয়তো সে  যায়নি কখনও কোরাণের কিরণে

কিন্তু সে ব্যস্ত থাকে ইয়ে আল্লেহবিকিরণে

 

 আল্লাহ ঈশ্বর খুঁজিতে ব্যস্ত আজ মানুষ  মসজিদে মন্দিরে,

ভুলিয়া ভক্তি পিতামাতার প্রতি হৃদয়ের অন্তরে

কবে শোনা যাইবে মানবতার জয়গান?

কবে হইবে বিষন্ন বৃদ্ধাশ্রমের অবসান?

কখন ধ্বংস হইবে ধর্মীও  বিভেদের প্রাচীর?

কখনও কি দেখিব না মিলনের মসজিদ, মন্দির?

রহিয়াছে আজও এক বৃন্তে দুই টি কুসুম_হিন্দু, মুসলমান,

কভু কি মোরা রক্ষা করিয়াছি একে অপরের সম্মান? 

হ্যাঁ, মাঝে মাঝে বক্ষে জড়াইয়া কহি মোরা ভাই ভাই,

তবে কি আজ দূরে সইরা গেছে ভাইয়ে ভাইয়ে ঠাইঠাই?

তৈরি হইয়াছে কি আজ বক্ষ গহনে হৃদয়ের হিমঘর?

কথিত আছে কি মহাভারত, কোরাণ এ কোনো যুদ্ধ আল্লাহ আর ভগবানের?

তবে কেন এত হিংসা, মারামারি আর হানাহানি তাঁদের ভক্তগণের?

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

ফেরা

সঞ্জীব সেন

 

প্রেমের কবিতার মত মহৎ একটা লাইন হারিয়ে যাওয়া নদীর পাশে খুঁজে পাবো

ঠিক পাবো, আজ নয় কাল না হলে অন্যকোনদিন

 

সহজ কবিতার মত সন্ধ্যায়,

কবরখানার মৃত কবির কবরের উপর

ঝুকে পরা কাগজ ফুলের গাছ

বিষন্ন সন্ধ্যার মত ঝরে পড়ে দু একটা

 

কুড়িয়ে নিয়ে ফিরে আসি এই ভেবে

লেখার টেবিলে রাখি

ফিরতে তো হতোই

আজ না হয় কাল না হলে অন্যকোনদিন

 

ফুল গুলো লোভ দেখায়

মহৎ প্রেমের মতই ফেরা

কতদিন দূরে থাকবি এভাবে


ফিরতে তো হবেই….

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

কবিতার এপিটাফ

সৈকত চক্রবর্তী

 

আবেগের রম্বস দুমরে মুচরে তৈরী হয় ট্রাপিজিয়াম

সমীকরণ ভেঙে জন্ম নেয় অসমীকরণ

প্রতিষ্ঠানিকতা ধুলোতে মিশিয়ে স্রোতস্বিনী গণতন্ত্র, 

আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা, চর্বিত চর্বন! ফিরিয়ে দেয় হার্মাফ্রডিটিজম

কবিতায় আসে সিদ্ধান্তহীনতার দ্যোতনা 

অগণিত বৃত্তের মত হার্সেল এর জ্যামিতির মত 

হ্যামলেটের আত্মশ্লাঘার মত


দেরিদার খোরার মত

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

আমার মা (ছোটগল্প)

রবীন জাকারিয়া

 

আমি মোঃ হাসানুজ্জান৷ সকলে আমাকে হাসান নামেই চেনে৷ আমি একটি এমপিওভূক্ত কলেজের গণিতের একজন প্রভাষক৷ একজন সাধারন চাকুরীজীবি মানুষ৷ বর্তমানে এ বেতনে সংসার চালানো দায়৷ আমার স্ত্রী জয়া৷ ইংরেজিতে মাস্টার্স৷ ওকে উৎসাহ দিয়েছিলাম চাকরি করতে৷ কিন্ত সংসার ও সন্তানদের কথা বিবেচনা করে অস্বীকৃতি জানায়৷ ওর কন্ট্রিবিউশনকে স্যালুট৷ আমাদের দুটি কন্যা সন্তান৷ বড়টি একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত৷ আইন বিষয়ে ১ম সেমিস্টারে আছে৷ ঢাকায় থাকে৷ হোস্টেলে সীট নেই৷ ওরা কজন সহপাঠি একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে৷ খরচ বেশি৷ কিন্ত উপায় নেই৷ 

ছোট মেয়ে একটি ইংলিশ মিভিয়াম স্কুলে পড়ে৷ ও-লেভেল পরীক্ষার্থী৷ নিজের বাসা ভাড়া, সংসার খরচ প্রচুর৷ তারচেয়ে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ অ-নে-ক বেশী৷ শুধু বেতনের টাকায় চলেনা৷ তাই বিকেল থেকে রাত অবধি টিউশনি করি৷ সপ্তাহে তিন দিন৷ এভাবে অল্টারনেটিভ ভাবে অন্যান্য ব্যাচ পড়াই৷

 

হালাল রুজিটাকেই ধ্যান-জ্ঞান মনে করি৷ তাই প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পর আল্লাহ্র দরবারে শুকরিয়া করে বলি আলহামদুলিল্লাহ্৷ একজন ছাপোষা মানুষের মতো চলাফেরা করি৷ নিজের সীমাবদ্ধতা লুকানোর জন্য যথা সম্ভব আড্ডা-আলোচনা এড়িয়ে চলি৷ তাছাড়া আড্ডা দেয়ার সময় কোথায়৷ অথচ এমন হওয়ার কথা ছিল না৷ 

 

অনার্স পরীক্ষার আগে বাবা মারা গেলেন৷ তিনি অবসরপ্রাপ্ত সরকারী চাকরীজীবি ছিলেন৷ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ছিলেন৷ বাম রাজনীতি আর সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড নিয়েই ছিল তাঁর যত ব্যস্ততা৷ বুর্জুয়া-পেটি বুর্জুয়া তথা শোষক শ্রেনির নাগ পাশ থেকে মেহনতি মানুষের মুক্তির জন্য নিরলস প্রচেষ্টা ছিল৷ স্বপ্ন দেখতেন শোষণহীণ, বৈষম্যহীণ এক সাম্যবাদ সমাজের৷ 

বাবা যখন কারমাইকেল কলেজে পড়তেন৷ তখন হুট করে একটি কিশোরীকে বাড়িতে আনলেন৷ দাদা-দাদি মেয়েটি কে জিজ্ঞেস করলে বলেন তোমাদের বৌমা৷ বাড়ির সকলে তাজ্জব৷ বলে কী? তখন বাবা বলেছিল এই মেয়েটির লেখা-পড়া করার প্রবল ইচ্ছে৷ কিন্ত দারিদ্রের কারনে পড়াশুনার পরিবর্তে তার বাবা-মা তাকে ঢাকায় এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়র কাছে কাজের জন্য পাঠাচ্ছে৷ আমার খুব খারাপ লেগেছে৷ তাই ওকে আজকে বিয়ে করেছি৷ আজ থেকে লেখাপড়া করবে৷ তোমাদের মেয়েদের মত৷ ব্যাস এটাই শেষ কথা৷

 

এরপর বাবা আমার মা-কে লেখাপড়া করান৷ মা মেট্রিক পরীক্ষা দেন৷ কিন্ত ফেল করেন৷ বাবা উৎসাহ দেন৷ চতুর্থবারে মা পাশ করেন৷ এরমধ্যে বাবা সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন৷ মাকে কলেজে ভর্তি করেন৷ রাতে  তিনি নিজের বাড়িতেই নিজের স্ত্রীর জন্য লজিং মাস্টারের দায়িত্ব পালন করেন৷ এভাবেই সময় পেড়িয়ে যায়৷ মা মাস্টার্স কমপ্লিট করলেন৷ সেসময় শিক্ষিত নারীদের চাকরির সুযোগ ছিল অবারিত৷ বাবা তদবির করে মাকে পোস্ট অফিসের কেরানী (LDC) হিসেবে ঢুকিয়ে দেন৷ পরবর্তিতে মা নিজের যোগ্যতাবলে পোস্টাল ইন্সপেক্টর পদে আসীন হন৷ এছাড়াও পোস্টাল কর্মচারী সমিতির জাতীয় পর্যায়ের নেতা নির্বাচিত হন৷ স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি নারী উন্নয়নের জন্য কাজ করতে থাকেন৷

 

বাবার কিডনি ড্যামেজড৷ ভীষণ অসুস্থ হন৷ তাঁর চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন৷ সবচেয়ে বড় প্রয়োজন কিডনি৷ ডাক্তারদের পরামর্শ হলো নিজেদের মধ্যে থেকে যদি কেউ ডোনেট করে৷ যেভাবেই হোক বাবাকে বাঁচাতে হবে তাই আমি টেস্ট করালাম৷ কিন্ত ম্যাচ করলো না৷ আমার দুই ভাই ও দুই বোন ভয়েই টেস্ট করালো না৷ আমি জোর করে মার টেস্ট করালে ম্যাচ করলো৷ ডাক্তার খুশি৷ আমরাও খুশি৷ বাবা যেন  বাঁচার নতুন স্বপ্ন দেখতে লাগলো৷ কিন্ত মা রাজি হলো না৷ তাঁর নাকি ভয় করে৷ হায়রে প্রতিদান৷ বস্তি থেকে তুলে আনা মেয়েটার জন্য যার এত অবদান৷ আজ তিনিই কী স্বার্থপরের মতো শুধু নিজের জীবন নিয়ে ভাবছে৷ আমি মিলাতে পারি না৷ বাবা এত বছরের সংসার জীবনে নিজের স্বার্থপর স্ত্রীকে কেন চিনতে পারলো না৷ নাকি সেটাও ছিল সেক্রিফাইস৷

 

আমুদে, প্রাণখোলা আর পরোপকারী মানুষ ছিলেন বাবা৷ ভাই-বোন, শ্যালক-শ্যালিকা, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সকলের জন্য কিছু না কিছু করেছেন৷ এমনকি তখনো তিনি অনেকের কাছে পাওনা টাকা পেতেন৷ কিন্ত উনি যখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন, তখন কেউ পাশে ছিলনা৷ কেউ সাহায্য করলো না৷ এমনকি পাওনা টাকাটুকুৃও আজ অবদি দিলনা৷ সারাদিন হাসপাতালে থাকি৷ বাবাকে বাঁচাতেই হবে৷ দরকার হলে যা কিছু সম্পদ আছে বিক্রি করবো৷ দেশের বাইরে চিকিৎসা করাবো৷

 

একটা বিষয় খটকা লাগলো৷ বিদেশে নেয়ার ব্যাপারে আমার মা ও ভাই-বোনের আগ্রহ কম৷ বরং তারা আমাকে বলে এই শারীরিক অবস্থায় তাকে বেশি টানাটানি করা ঠিক হবে না৷ সত্যি বলতে কি বাবার চিকিৎসায় আমার মা, দুই ভাই ও দুই বোনের খুব বেশী আগ্রহ নেই৷ হয়তো ভাবছে বাঁচার আশাই যখন নেই৷ তখন টাকা নষ্ট করে লাভ কী! আমি সর্বকনিষ্ঠ সন্তান৷ ছাত্র জীবন৷ কোন রোজগার নেই৷ বরং বাড়ির টাকাতেই আমাকে চলতে হয়৷ সেজন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমার কোন মূল্য নেই৷

বাবা আমাকে ডেকে বলতেন তুই আমার জন্য এত মন খারাপ করিসনাতো৷ কিস্যু হবে না দেখিস৷ তাছাড়া আল্লাহ্ যা লিখেছেন তা কেউ খন্ডাতে পারবেনা৷ সোনা ছেলে তুই নিজের শরীরের দিকে যত্ন দে৷ নাহলে তুইতো অসুখে পড়বি ব্যাটা৷ চোখ মুছে ফ্যাল৷ আমার বুকটা একটু জড়িয়ে ধরতো ব্যাটাবলে হু হু করে কেঁদে বললো, “আমি বাঁচতে চাইরে ব্যাটা, আমি বাঁচতে চাই৷

এরপর আস্তে আস্তে বাবার অবস্থা অবনতির দিকে যেতে লাগলো৷ ডাক্তার আশা ছেড়ে দিল৷ সময় বেঁধে দিল৷ বাবার সারা শরীরে যন্ত্রপাতি৷ কথা বলতে পারেন না৷ ইশারায় কথা বলেন৷ একদিন আমি কলেজ গিয়েছি৷ শুধু মাকে বললাম ফিরতে একটু দেরী হবে৷ বাবা যেন বুঝতে না পারে৷ কেননা সামনে অনার্স পরীক্ষা৷ ফিরে এসে দেখলাম আমার দুই ভাই, দুই বোন ও মা একদিকে বসে আছে৷ নিজেদের মধ্যে আস্তে আস্তে কথা বলছে৷ বুকটা ধক করে উঠলো৷ বাবার কাছে গেলাম৷ উনি আমার চোখে চোখ রাখলেন৷ ইশারায় কিছু বলতে চাইলেন৷ হাতের আঙ্গুল দেখালেন৷ বদ্ধাঙ্গুলে বেগুনি রং৷ কিছু বুঝলাম না৷ তিনি আমাকে তার বুকে মাথা রাখতে বললেন৷ মাথা রাখলাম৷ শীর্ণকায় হাতদুটো দিয়ে মাথায় আদর করলেন৷ আর কাঁদতে থাকলেন৷ আমিও নিজেকে আটকাতে পারলাম না৷ পরেরদিন বাবা মারা গেলেন৷ সকলে কাঁদলো৷ কিন্ত আমি কাঁদতেও পারলাম না৷ বুকের ভেতর কষ্ট৷ প্রকাশ করতে পারলাম না অশ্রুজলে৷ বরং মা, ভাই-বোনের মেকি কান্না রক্তে আগুন জ্বালায়৷ মনে হতে থাকে এটা মৃত্যু নয়, হত্যা৷ আমি কিছুই করতে পারলাম না৷

 

শহরে বাবা চার ইউনিটের পাঁচতলা বাড়ি বানিয়েছেন৷ নিজের পরিশ্রমের টাকায়৷ দোতলার একটিতে থাকি মা, আমার মেজ ভাই-ভাবী ও আমি৷ 

আর বিপরীত দিকের ফ্ল্যাটে আমার বড় ভাই পরিবারসহ থাকে৷ আলাদা খায়৷ একটি মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানীর ম্যানেজার৷ আর্থিক অবস্থা ভাল৷ তবে বাবা-মা কিংবা আমাদের খোঁজ নেয় না৷ মেজ ভাই ঠিকাদারী ব্যবসা করেন৷ যখন প্রচুর ইনকাম করেন৷ তখন তার ভাবসাব আলাদা৷ পয়সা ওড়ান৷ স্ফূর্তি করেন৷ নেশাও করেন৷ প্রতিদিন ড্রিংক করে গভীর রাতে বাড়িতে ফেরেন৷ অসভ্য আচরণ করেন৷ এমনো দিন গেছে তিনি উলঙ্গ হয়ে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে ফুটপাত দিয়ে চলমান পথিককে গালি দিচ্ছেন৷ মা কিংবা আমরা কিছু বলিনা৷ কারণ তাহলে সে মাত্রা বাড়িয়ে দেয়৷ লজ্জায় মাথা কাটা যায়৷ প্রতিবেশীরা বলতে গেলে বিরক্ত৷ আমরা এজন্য অনেকটা একঘরে৷ শুধুমাত্র বাবা গ্রহনযোগ্যতা ও সুনামের কারনে এখনো টিকে আছি৷ বিল্ডিংয়ের বাকি ইউনিটগুলো ভাড়া দেয়া হয়েছে৷ বড় বোন ও তার স্বামী দুজনই আইনজীবি৷ তারা কোর্টের পাশে একটি ফ্ল্যাট কিনে সেখানেই থাকে৷ ছোট বোন বিবাহিত৷ স্বামী-স্ত্রী দুজনে চাকুরি করে৷ ঢাকায় থাকে৷ 

 

কুড়িগ্রামের চিলমারি উপজেলায় বাবার গ্রামের বাড়ি৷ সেখানে অনেক জমি-জমা৷ আধিয়ার যা দেয়৷ তাই সই৷ আমরা গ্রামে তেমন একটা যাইনা৷ সময় হয়না৷ 

 

আমার বিয়ের কিছুদিন পর মা আমাকে বললেন তোর সাথে কিছু কথা আছে৷ রাতে বলবো৷ রাতে খাওয়া শেষে ডাইনিং টেবিলে মাকে বললাম কী কথা বলো? তিনি আমার স্ত্রীকে কিচেনের কাজগুলো সেরে আসতে বললেন৷ আমি একা হলে তিনি বললেন মনটাকে একটু শক্ত করে আমার কথাগুলো মন দিয়ে শোন৷ আমি একটু ভয় পেলাম৷ নতুন কোন বিপদ আসলো নাতো? মা শুরু করলেন, হাসান তোমার বাবা মারা যাবার আগে একটা উইল করে গেছেন৷ বলতে পার চূড়ান্ত উইল৷ তিনি তাঁর সমস্ত সম্পত্তি বড় ছেলে কামাল, মেজ ছেলে জামাল, বড় কন্যা রেবা, মেজ কন্যা নিলিমা ও তাঁর স্ত্রী অর্থাৎ আমাকে দিয়ে গেছেন৷ তোমার বাউন্ডুলি স্বভাব আর অবাধ্যতার কারণে সমস্ত প্রোপার্টি থেকে তোমাকে বাদ দেয়া হয়েছে৷ শুনে আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো৷ মাথা কাজ করছেনা৷ তিনি আবার বলতে শুরু করলেন৷ তুমি যেহেতু চাকরী কর এবং বিয়ে করেছ৷ তাই আমি চাই কোন গোলযোগ ছাড়াই তুমি অন্যত্র তোমার পরিবার শিফট করো৷ এখন যাও৷ বৌমা তোমার জন্য অপেক্ষা করছে৷ ভাল থেকো৷ মা চলে গেলেন৷ চেয়ারে বসে থাকলাম আমি৷ আচ্ছা চেয়ারটা কি দুলছে? নাকি ভূমিকম্প হচ্ছে? বুঝতে পারছি না৷

 

ঘরে আসলাম৷ হাসি হাসি মুখে জয়া বলে উঠলো কী ব্যাপার! মা-ছেলের কী আলোচনা হলো? আনন্দের কোন সংবাদ আছে নাকি? আমি বললাম কিছুনা৷ এমনি৷ সংসারের এটা-ওটা নিয়ে কথা বললো৷ থাক৷ চলো ঘুমোতে যাই৷ কাল ক্ল্যাশ আছে৷ তাড়াতাড়ি উঠতে হবে৷ বিছানায় শুয়ে পড়লাম৷ দুজন দুদিকে মুখ করে৷ জয়া এদিকে ঘুরলো৷ শরীরের উপর হাত রাখলো৷ অবাধ্য হাতটা আমার শরীরের যত্রতত্র ঘোরাতে থাকলো৷ আলতো আঘাত করতে থাকলো৷ আমি কী করবো বুঝতে পারছি না৷ একদিকে মাথার উপর অদৃশ্য হাতুরের নিঠুর আঘাত অন্যদিকে শরীরে দৃশ্যমান আবেগী আঘাত৷ এক ঝটকায় ঘুরে নিলাম নিজেকে৷ শক্ত হাতে জয়াকে জড়িয়ে ধরলাম৷ সমস্ত ক্রোধ, সমস্ত রাগকে পরিনত করলাম নতুন সৃষ্টির উল্লাসে৷ যেখানে পুরুষরাই শুধু কর্তৃকারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়৷ আহ্ আনন্দ! এক অদ্ভূত ভাল লাগা৷ সমস্ত পঙ্কিলতা ধুয়ে যেন তৈরি করলো এক মহা পবিত্রতার আমেজ৷ ভুলে গেলাম সম্পত্তি সম্পর্ক বোঝে না৷ পৃথিবীতে আসলে কেউই স্বার্থহীন নয়৷ মন ও শরীরের ধকল বরং চমৎকার ঘুম উপহার দিল৷ 

সকালে কলেজে গেলাম না৷ ছুটি নিলাম৷ ভাবতে লাগলাম৷ এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিলে এ উইল ধোপে টিকবেনা৷ কিন্ত অভিমান আর পারিবারিক মর্যাদার কথা চিন্তা করে মামলা না করার সিদ্ধান্ত নিলাম৷ কী বিশ্রী! সবাই যখন জানবে আমি আমার মায়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছি৷ ছি: ছি: হঠাৎ মনে পড়লো৷ বাবা সেদিন বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কী বোঝাতে চেয়েছিল৷ ওরা প্ল্যান করে বাবার কাছ থেকে এ অন্যায় উইলে টিপ সই নিয়েছে৷ হে আল্লাহ্৷ এ কথাতো আমি কাউকে বলতে পারবো না৷ লজ্জা! ভীষণ লজ্জা৷

 

কদিন পরে মা ও ভাই-বোনকে বললাম৷ আমি চলে গেলে অনেকে অনেক কথা বলবে৷ আমাদের পারিবারিক মর্যাদা নষ্ট হবে৷ জানাজানি হবে৷ আমি কথা দিচ্ছি এ সম্পত্তিতে আমি বা আমার পরবর্তি প্রজন্ম কখনো কোন দাবী করবে না৷ গতমাসে যে ফ্ল্যাটটা খালি হয়েছে আমি সেখানেই থাকবো৷ অন্য ভাড়াটের মতো ভাড়া দিব৷ একথা আর কারো জানার দরকার নেই৷ এতে করে আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের কাছে বিব্রতকর অবস্থায় পরতে হবে না৷ অবশেষে সকলে এই চুক্তিতে রাজী হলাম৷ শুরু হলো আমার নিজের পৈত্রিক বাড়িতে ভাড়াটে জীবন৷ কেউ কিছু জানলো না৷ এমনকি জয়াও নয়৷ এভাবেই কাটছিল৷ হঠাৎ একদিন জয়া আমাকে প্রশ্ন করলো৷ তুমি কি তোমার মাকে বাড়ি ভাড়ার টাকা দাও? কেন বলতো? না প্রতি মাসে দেখি তুমি ভাড়াটের মত মাকে টাকা দিয়ে আস৷ আমি বললাম, ভাড়ার টাকা নয়৷ সন্তান হিসেবে মায়ের জন্য কিছু করা উচিৎ৷ তাই না? তাছাড়া এটা দিয়েই ওদের সংসার চালাতে হয়৷ বুকে প্রচন্ড কষ্ট হলেও আমি তাকে সত্যটা বলতে পারিনা৷ কেননা এতকিছুর পরেও সে-তো আমার মা৷

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

টিজিং (অনুগল্প)

সৌমেন দেবনাথ

 

টিপু, তোরাব, সঞ্জীবসহ আরো কয়েকজন কলেজ মোড়ে, বাজার সংলগ্ন ব্রিজের উপর আড্ডা দেয়। ওদের মুখের খিস্তিখেউড় শোনার মত না। কার মেয়েটা বড় হয়ে উঠছে, কার মেয়ে কেমন দেখতে এই নিয়েই তাদের আলোচনা

 

আর বাড়িতে সভ্য ছেলে। টিপুর বড় বোন অনার্সে পড়ে। সে বললো, সারাদিন কি করিস? কার কার সাথে ঘুরিস? নষ্ট হয়ে যাবি

আপাকে আশ্বস্ত করে সে। নিজেকে শান্ত, ভদ্র আর নির্ভেজাল মানুষ হিসেবে দাবি করে

 

একদিন দুপুরে টিপু বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছে চায়ের দোকানে। যদিও দোকানে ওরা তিন বন্ধুই, আর কেউ নেই। দোকানদারও দোকান বন্ধ করে ক্ষেত দেখতে গেছে

গ্রীষ্মের দুপুর। পথ-ঘাটে মানুষের চলাচলও নেই

 

হঠাৎ একটি মেয়ে রঙিন ড্রেস পরে ছাতা মাথায় দিয়ে ঐ রাস্তা দিয়েই আসছে। ছাতা মাথাতে থাকায় মুখ দেখা যাচ্ছিল না। টিপু মেয়েটির উদ্দেশ্যে বাজে বাজে কথা ইঙ্গিত করে ছুঁড়ে দিচ্ছে, সাথে তার বন্ধুরাও

 

মেয়েটি ওদের কাছেই এসে থামলো আর টিপুকে বললো, ভাই, বাড়ি চল, মা অসুস্থ

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

ক্যানভাস

বনমালী নন্দী

 

চাঁদ জোনাকি লন্ঠন

সারারাত বৃষ্টিতে ভিজছে ক্ষয়ছে আশ্রয়হীন

আমিও হাঁটছি

পাগুলি ছায়াপথে গোপন

শরীর জামার কঙ্কাল বসন্তবনে

দেহ শুধু ভাঙ্গে ‌ভাঙতে থাকে

সময়কে প্রশ্ন করে জেনেছি

ক্ষয় মৃত্যুতে প্রসিদ্ধ হওয়া

প্রেম 

সেও ‌ভাত কাপড়ের ঈশ্বর

অনেক ভেবে

আকাশ জানালাতে তুলে রাখি

শরীর রঙের জামাগুলি

রক্তের ভিতর নদী পাড় ভেঙ্গে ভেঙ্গে যায়

নিঃশব্দ নিশ্চুপ গভীরতা বাড়ে

আমি সংসার লিখি

সম্পর্ক লিখি

শূন্য ফ্রেমে বাঁধায় যত্ন করে


মনখারাপের ছবিগুলি

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

প্রার্থনা সংগীত

ইলিয়াস খাঁ

 

প্রার্থনার সমস্ত সারাৎসার নিবেদন করলে, অংশত যা থাকে, তাতে কান্নার মিহিসাদা জীবনের পারম্পর্য। দীনতা এবং অনুকূল যাপনে দ্বেষ ক্ষয় করে গাছপালার মেধা। মননে নতজানু আমাদের সত্তায় পুরুষানুক্রমিক বৃত্ত। কবরের সামনে ফাঁকা সিলেবাস—


প্রার্থনা সংগীতের নিশিধারা

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

এক অন্য ভিড় (গল্প)

গোবিন্দ বর্মন

 

মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকতে ভালোবাসে, তাই বলে ভিড় নৈব নৈব চসোমেন আর রমেন দুই

বন্ধু আবার ভিড়ের প্রতি আকৃষ্ট। কোথাও কোনো জমায়েত বা ভিড় হলে তারা যেন চন্দ্র তারা

 

       আসলে দুই বন্ধু বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর সংগ্রহ করত আর সন্ধ্যা হলেই সেই গ্রামের মোড়ে ছোট একটি চায়ের দোকানে সারাদিনের নানান রকম কৌতূহলী গল্প করা। এতে বরং চায়ের দোকানের বিক্রিটা যথেষ্ট ভালোই চলে, তাই তো সোমেন আর রমেন দু-কাপ চা খেলে পয়সা দেওয়ার যেন বালাই নেই। তবু তারা দু-একবার পয়সা দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু চায়ের দোকানদার বলে উঠলেন, “আরে দাদা আমি কি তোমাদের কাছ থেকে পয়সা নিতে পারি বলুন? আমার পাপ লাগবে তো! এই দোকানটাও তো তোমাদেরই!

এবারে সোমেন আর রমেনের মুখে যেন খুশির ছাপ স্পষ্ট। আসলে খুশি থাকবে না বা কেন তাদের অভিসন্ধি পূরণ হচ্ছে যে! সবাই যখন বিলাসিতায় মগ্ন, দিবানিদ্রা কিংবা ভোজন কিংবা টিভিতে নিজেদের পছন্দের সিরিয়াল দেখা, সেই সময় সোমেন আর রমেন ছাড়া কেই বা ঘুরে বেড়ায়, নেশা তো! সহজে আর ছাড়তে পারে? সম্মানের কাছে সব কিছুই যেন ছোট, তারা বিভিন্ন কৌতূহলী গল্প শুনিয়ে যে ভাও পায়, সেটা কিন্তু বাড়ি গেলেই উল্টো হয়ে যায়। বাড়িতে অনেক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় এই যেমন- বাড়ি ফিরতে এত দেরি হলো কেন? কোথায় ছিল? আরো কত কি? কিন্তু…। এসব তারা শুনবেই বা কেন, আবার বেরিয়ে পরে চায়ের দোকানে। এই ভাবে ভালোই চলছিল দিনকাল

হঠাৎ একদিন হৈ হৈ কান্ড কতগুলি ক্ষিপ্ত জনতা একজন কালো ছিপছিপে চেহেরার একটি ছেলেকে গণ প্রহার করছে। ছেলেটিকে দেখে মনে হচ্ছে কিছু দিন অন্ন ছাড়া আছে। চোখের পাতায় অনিদ্রার ছাপ। রাস্তায় তখন অনেক ভিড় জমে গেছে, চারিদিকে সব লোক দর্শকের ভূমিকা পালন করছে, কেউ কেউ আবার আওয়াজ তুলছে, “মেরে ফেলো, মেরে ফেলো”! ক্ষিপ্ত জনতা সজোড়ে আঘাত করতে থাকে ছেলেটিকে। কিছুক্ষন বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করার পর ছেলেটি নিস্তব্ধ হয়ে গেল। সোমেন আর রমেন এসব দেখে চক্ষুচরক এবং পরস্পর বিড়বিড় করতে লাগলো, “আমরা এই ঘটনার কারণ নয় তো!কারণ এতদিনে তারা যে চায়ের দোকানে গল্প করত সেগুলি সত্য হলেও মিথ্যার প্রলেপ যে ছিল সেটা তারা মানছে। এতক্ষনে পুলিশ সব জেনে গেছে। ঘটনার মূল কান্ডারী সোমেন আর রমেন কে arrest করলো পুলিশ। পুলিশের কাছে তারা নিজেদেরকে বিবেকআর বুদ্ধিনামে পরিচয় দিলো

    এতদিনে যারা অন্য কারো গল্পের চর্চা করতো আজকে তারা নিজেই চর্চিত। এখন আর আগের মতো চায়ের দোকানে ভিড় আর জৌলুস দেখা গেল না। যেন সব শান্ত হয়ে গেলএই যেন ঝড় আসার আগের মুহূর্ত। আমি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়লাম

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

বাড়ি

বদরুদ্দোজা শেখু

 

পুরনো মাটির বাড়ি, খড়ে-ছাওয়া, গাছগাছালির

সবুজে ঘেরা, হাঁস মুরগীর দর্বা, লাঙ্গল জোয়াল 

ঘুঁটে লকড়ির ডাঁই, জাফরির বেড়া, বিচালির

গাদার গম্বুজ, পাশে আটচালা, সংলগ্ন গোয়াল

 

আঙিনায় খড়ে-ছাওয়া পুরাতন ধানের মরাই

গরুর গাড়ির চাকায় বসানো; টিনের ফটকে

সয়রানে, ধূলোয় শিশুরা ঘরকন্নার রূপকে

পুতুল খ্যালে; বাতায় বাস করে কতক চড়াই

 

সযত্নে জ্বালায় কেউ টিমটিমে সাঁঝের প্রদীপ

রোজ, পাশে মাঠ আদিগন্ত অন্ধকারে ডুবে থাকে,

ঘুমানো মফঃস্বল বাস্তুডেরায় অস্তিত্বের ভিৎ 

খুঁড়ি আচ্ছন্ন স্নায়ুর মর্গে ঢুকে। প্রবালের দ্বীপ

মনে হয় আচমকা আশৈশব চেনা বাড়িটাকে


চাঁদোয়া আকাশ ঊর্দ্ধে
, আশপাশে জীবাশ্ম অতীত

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email
১০

মুখোশ

তীর্থঙ্কর সুমিত

যে সময়টা 

বহুবছর আগে ছদ্মবেশ নিয়েছিলো

কথায় কথায়

মুখ বদলেছিলো

আরো দূরে 

কালো হওয়া মুহূর্তে

আজ বৃষ্টি নেমেছে

সব মুখ ধুয়ে…..


মুখোশ হয়ে উঠছে ক্রমশ

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email
১১

গতি নেই বই ছাড়া

রূপো বর্মন

 

জানি না তোমার উৎস কোথায়?

কিন্তু এটা আমি বেশ ভালো জানি

তোমার বাস সারা পৃথিবীতে

বিজ্ঞান ঘাটলে সবাই তোমায় জড় বস্তু বলে

তবুও তুমি ছাড়া মানব প্রাণীর প্রকৃত জীবন অসম্পূর্ণ

 

বহু বছর আগে মানুষ

পাথর, দেওয়াল, পাতায় এঁকেছে তোমার চিহ্ন গুলি। 

বিভিন্ন ভাবে বোঝাতে চেয়েছে মনের ভাব

ইতিহাস পড়লে বুঝতে পারি

সেদিন যদি তুমি থাকতে…

কেউ যদি এমন থাকতো…

যে তোমার উৎপত্তি করতো। 

নানান বই লিখে সব প্রাণীর ভাষা খুঁজে দিত। 

তাহলে আজ শুধু মানুষের মুখের শব্দকে কথা বলা বলে ধরতাম না

পৃথিবীর সকল প্রাণীর মুখের শব্দকে আমি একটি ভাষা বলে বুঝতে পারতাম। 

তাদের সাথেও আমি মনের ভাব আদান প্রদান করতাম

 

অরূপ যেদিন মায়ের গর্ভে এলো। 

শিশু বলে নাম রাখলো নাম না জানা মানুষ। 

আর সেদিন থেকে তোমার  কিছু চিহ্ন দিয়ে। 

শুরু হল অরূপের জীবন কাহিনী। 

তার জন্ম মৃত্যুর পরেও তোমার বুকের কিছু দাগ। 

তার জীবনের কিছু রেখাঙ্কিত স্মৃতি যত্ন করে এই বিশ্বে রেখে দেবে

 

আজ একটি কথা এসেছে অনলাইন

কিন্তু এই অনলাইন কথাটিও তোমার বুক থেকে নেওয়া। 

ভাবছে মানুষ বইতে কি আছে সব পাবো অনলাইনে

বুঝেও বুঝতে চায় না মানুষ। 


অনলাইনেও গতি নেই বই ছাড়া

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

Your Comments

Reviewed by Gobinda Sarkar (Editor)
Designed and Published by Akshay Kumar Roy (Editor)

One Like = All Like
One Share = All Share

For More Information, Click Here

Follow our Social Media for latest updates

0 0 votes
Writing Rating

Related Articles

Saturday Lipi | Bangla | May, 2nd Week

লেখক লিপি দুই পুরুষ বদরুদ্দোজা শেখু এতো রাতে কে বাজায় মরমীয়া ভাটিয়ালি সুর বাঁশের বাঁশিতে? কিহে, ক’টা বছরেই সব ভুলে  গেছো বেমালুম? মনে নেই—কত নিঝুম

Saturday Lipi | Bangla | April, 3rd Week

রতন বসাক, অনিমেষ মন্ডল, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, সঞ্জীব সেন, প্রতাপ ঘোষ, গোবিন্দ বর্মন, সুনীতা, রূপম শিকদার, বিষ্ণু পদ রায়, নইমুদ্দীন আনসারী, জয়শ্রী দাস, সৌমেন দেবনাথ, রবীন জাকারিয়া, তনুশ্রী দাস, নাসিরা খাতুন, রূপো বর্মন,

Subscribe
Notify of
guest
1 Comment
Newest
Oldest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Akshay Kumar Roy
5 months ago

এখানে আপনার মতামত জানতে পারেন…